লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৮৮৪ বার
জেলগেটে তাহেরপুত্র বিপ্লবের সাড়ম্বরে বিয়ে
লক্ষ্মীপুরঃ তখন বিকেল ৫টা। হঠাৎ পাল্টে গেল লক্ষ্মীপুর জেলা কারা ফটকের চেনা চেহারা। কয়েদির পোশাকের পরিবর্তে নতুন পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত যুবক বরের বেশে প্রস্তুত। কারা ফটকে প্রবেশ করলেন কাজিও। এলেন বরের বাবা লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আবু তাহের। উপস্থিত হলেন কনের মা। এরপর একে একে বর ও কনেপক্ষের অন্য লোকজন এলেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানেই সাড়ম্বরে সম্পন্ন হয় তাহেরপুত্র ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এইচএম বিপ্লবের বিয়ে। পাত্রী সানজিদা খায়ের। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাবা লক্ষ্মীপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লামচরী গ্রামের অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের। ১০ লাখ টাকা দেনমোহর। ত্রিশ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। মোবাইল ফোনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চলে মিষ্টিমুখের পালা। কারাগারে এমন বিয়ের ঘটনা বিরল। এদিকে রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দু'দফায় ৪০টি মোটরসাইকেল ও ৩টি মাইক্রোবাসের বহর নিয়ে বর ও কনেপক্ষের লোকজন কারা ফটকে পেঁৗছায়। একটি কালো মাইক্রোবাসে ছিলেন কনে। এরপর কনেকে কারা ফটকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে বরও ছিলেন। বর-কনের সেখানেইপ্রথম সাক্ষাৎ। এ সময় কারা ফটকে দেখা দেয় উৎসবের আমেজ। রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারা ফটকেই অবস্থান করছিলেন বর-কনে। রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে অবশ্য উভয়পক্ষের লোকজনকে কারাগার চত্বর ছেড়ে যেতে দেখা যায়।জেলগেটে তাহেরপুত্র বিপ্লবের সাড়ম্বরে বিয়ে

লক্ষ্মীপুরে চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন বিপ্লব। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পর বর্তমানে ১০ বছরের কারা জীবনযাপন করছেন তিনি। কবে বিপ্লবের সাজার মেয়াদ শেষ হবে, তা জানাতে পারেনি জেল কর্তৃপক্ষ।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দীন সমকালকে বলেন, কারাবন্দি কয়েদির সঙ্গে বিয়ে হওয়ার ব্যাপারে কারা আইনে কোনো বিধিনিষেধ নেই। লক্ষ্মীপুর কারাগারের জেলার জয়নাল আবেদীন সমকালকে বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি পাওয়ার পর কারা ফটকে বিপ্লবের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বর ও কনেপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সাবেক পিপি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর মজুপুরের একটি বাসা থেকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। পরে মেঘনা নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়। নুরুল ইসলামের স্ত্রী সাহানা ইসলাম সদর থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এইচএম বিপ্লবকে আসামি করা হয়। মামলায় এইচএম বিপ্লবের ফাঁসির রায় হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান বিপ্লবের সাজা মওকুফ করেন। এ ছাড়া শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এএফএম মহসিন হত্যা মামলায় তার ১০ বছর সাজা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় সাজা ভোগ করছেন। শিবির নেতা জাহেদ কামাল হোসেন, যুবদল নেতা মো. কামাল হোসেন হত্যাসহ চাঁদাবাজি ও এতিমখানায় অগি্নসংযোগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জোট সরকারের আমলে সদর থানায় ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওইসব মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়।
মফস্বল সংবাদ এর অন্যান্য খবর
 
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com