লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৬১ বার
আকুতি শুনে ছুটে গিয়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না বাবা
ঢাকা, ২৩ আগষ্টঃ 'বাবা, তুমি আইসা আমারে নিয়া যাও, ওরা আমারে মাইরা ফালাইতাছে।' স্বামী আর শ্বশুর পক্ষের নির্যাতনের সময় গৃহবধূ টুম্পা রানী পাল তার বাবার কাছে ফোন দিয়ে বাঁচার জন্য এভাবেই আকুতি জানিয়েছিলেন। আধঘণ্টার ব্যবধানে বাবা নিতাই চন্দ্র পাল পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাসা থেকে নারিন্দার শাহসাহেব লেনে মেয়ের বাসায়ও গিয়েছিলেন। ততক্ষণে সব শেষ। তিনি মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন বাসার খাটের ওপর। তবুও বাবার মন মানে না। গতকাল শুক্রবার ভোরে মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেলে। সেখানেই চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন টুম্পাকে। এরপর হাসপাতাল থেকেই টুম্পার স্বামী রাজন দাসকে আটক করে ফাঁড়ি পুলিশ। টুম্পার বাবার অভিযোগ, দাবি করা যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় শ্বশুর পক্ষের লোকজন মেয়েটাকেনির্যাতন করে মেরেছে। মেয়েকে নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে এই বাবা বিলাপ করছিলেন।আকুতি শুনে ছুটে গিয়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না বাবা

তিন মাস আগে পারিবারিক সিদ্ধান্তে ওষুধ ব্যবসায়ী রাজন দাসের সঙ্গে টুম্পার বিয়ে হয় তিনি টিকাটুলির সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করতেন।টুম্পার স্বামী রাজন দাসের দাবি, অভিমানে তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি কোনো যৌতুকের টাকা দাবি করেননি। অবশ্য টুম্পার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আর তার কথায় অসংলগ্নতা থাকায় পুলিশ রাজন দাসকে আটক করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে টুম্পার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছে পুলিশ।

টুম্পার বাবা নিতাই চন্দ্র পাল নিজের মোবাইল ফোনটা দেখিয়ে বলেন, 'ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে মেয়েটা আমোকে ফোন দিল। খালি চিৎকার শুনলাম। শেষবার শুধু বলল, বাবা আমারে ওরা মাইরা ফালাইতাছে। আমারে আইসা নিয়া যাও।' এরপর কেঁদে ফেলেন তিনি। বিলাপ করে বলতে থাকেন, 'আমি তো মেয়েটাকে নিতেই গেছিলাম। এর আগেই দেখি আমার মেয়েটারে মাইরা ফালাইছে। ও বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করছে। মারার সময় রাজনের পিঠে আঁচড়ও দিয়েছিল টুম্পা। তবুও বাঁচতে দেওয়া হয়নি তাকে।'

টুম্পার স্বজনরা জানান, তিন মাস আগে রাজনের সঙ্গে টুম্পার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে সাড়ে সাত ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের দুই মাসের মাথায় আবারও টাকা চায় রাজন। টাকা দিতে না পারায় মেয়েটার ওপর নেমে আসে স্বামী আর শ্বশুর পক্ষের নির্যাতন।টুম্পার বাবা বলেন, 'মেয়েটা সুখে থাক, এটা আমিও চাইছিলাম। কিন্তু ছোট্ট মুদি দোকানের ব্যবসা কইরা আর টাকা জোগাড় করতে পারি নাই। এজন্য মেয়েটাকে ওরা মাইরা ফাইলাছে।' কান্নাজড়িত কণ্ঠে টুম্পার বাবা বলেন, ছেলেটাকে তো যোগ্যই মনে হইছিল। নারিন্দায় ওষুধের দোকান ছিল। এর পরই টাকার লোভে এমন কাজ করল?

গেন্ডারিয়া থানার এসআই হরিদাস রায় সমকালকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনে টুম্পার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার স্বামী তা অস্বীকার করে বলছে, সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। ভোরে তিনি টুম্পাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, রাজন দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। ওই ঘটনায় টুম্পার বাবা থানায় মামলা করবেন। মামলায় আর কাউকে আসামি করা হলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।
ঢাকা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com