লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৪৯০ বার
কোথাও চাকরি দেয়া হচ্ছে না তোবার শ্রমিকদের
ঢাকা, ২৪ আগষ্টঃ তুবা গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে দেয়ায় অনেক শ্রমিক এখন বেকার। তাদের অনেকে চাকরির জন্য নানা গার্মেন্টসে ঘুরছেন। কিন্তু তাদের অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, তোবা গার্মন্টে কাজ করেছেন বলে তাদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে তাই কাজের অভাবে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া ভোগান্তির বর্ণনায় তোবা গার্মেন্টসে কাজ করা নারী শ্রমিক নার্গিস বেগম বলেন, ''বাড্ডা আর রামপুরায় দুইটা গার্মেন্টসে চাকরির চেষ্টা করছিলাম৷ কিন্তু তুবা গার্মেন্টসে কাজ করেছি শোনার পর তারা চাকরি দেয়নি৷ হাতে কোনো টাকাও নেই৷ যে টাকা পেয়েছিলাম বাকি শোধ করতেই শেষ৷ তাই বাধ্য হয়েই গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট ফিরে যাচ্ছি,'' তিনি বলেন, কাজ না পেয়ে ইতিমধ্যে তার পরিচিত অনেকেই বাড়ি চলে গেছেন৷ কোথাও কাজ পেলে তারা আবার ঢাকায় ফিরে আসবে৷

সংবাদমাধ্যমটিতে বলা হয়েছে, শুধু নার্গিস নয়, এখন সব শ্রমিকেরই একই অবস্থা। রফিকুল ইসলাম নামের আরেক শ্রমিক বলেন, ''বাড্ডা ছাড়াও আশুলিয়া ও সাভার এলাকার কয়েকটি কারখানায় কাজের চেষ্ট করেছিলাম। কিন্তু তারা বলছে কাজ নেই। সিজন খারাপ। কি করব? কিছুই বুঝতে পারতেছি না। গ্রামে ফেরা ছাড়া উপায় নেই।''

হঠাৎ নোটিশ টানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া তোবা গ্রুপের ৫টি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৪শ ৫৬ জন শ্রমিক কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা শ্রমিকদের 'বেতন-ভাতা'সহ অন্যান্য পাওনা পাওয়া এখন অনিশ্চিত।

গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র একজন পরিচালক বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় কারখানাগুলো আর চালু হচ্ছে না৷ তাই কারখানাটি ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোর্টিশ দেয়া হয়েছে৷ নোটিশে বলা হয়েছে, বন্ধের ঘোষণা জুনের ১০ তারিখ থেকে কার্যকর হবে৷ সেই বিবেচনায় শ্রমিকরা ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হবে।

শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকদের বেতন, ভাতা, বোনাস, নোটিশ সময়ের পাওনা প্রায় ২ কোটি টাকা থেকে তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

তুবা-র মালিক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, শ্রমিকরা জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা মে মাসের বেতনের জন্য একটা সপ্তাহ ধৈর্য ধরতে পারলেন না। অথচ তখনো কারখানায় অনেক কাজের অর্ডার ছিল। এখন ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করা ছাড়া আমার আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।

সংবাদমাধ্যমটিকে তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু বলেন, ''শ্রমিকরা প্রাপ্য বেতনের জন্য আন্দোলন করে ফৌজদারি অপরাধ করেননি। তারা তাদের প্রাপ্য টাকার জন্য আন্দোলন করেছে। এটা তাদের অধিকার। তাদের অন্য কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা বিজিএমইএ'কেই করতে হবে। সেই ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এবং ন্যায্য পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।'' তিনি তোবার মালিক দেলোয়ার হোসেনের অবিলম্বে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর দাবি করে বলেন, সে একজন খুনি।

মোশরেফা মিশু বলেন, ''আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব৷ কারখানা বন্ধের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দুই এক দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা করা হবে৷ শ্রম আইন অনুযায়ী, লে-অফ ঘোষণার জন্য যেসব শর্ত প্রয়োজন, তুবা এবং মালিক দেলোয়ারের ক্ষেত্রে তা খাটে না৷ দেলোয়ার গত কয়েক মাসে ৩৭ কোটি টাকার কাজ করেছেন৷ কেবল বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে অর্ডার সাপ্লাই করেছেন ২৬ কোটি টাকার৷ অথচ শ্রমিকদের ৪ কোটি টাকা দিচ্ছেন না।''
ঢাকা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com