লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৪২ বার
'প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই মেয়েকে হত্যা'
বগুড়া, ০৬ সেপ্টেম্বরঃ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পিতা আব্দুল ওহাবসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
গত ৩১ আগস্ট বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সুদিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
শুক্রবার গ্রেফতারকৃতদের বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির করে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
 
নিহত কিশোরী রুমা আক্তার (১৪) আদমদীঘি গালর্স স্কুল ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এবার তার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট-জেএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রুমার বাবা আদমদীঘির সুদিন গ্রামের আব্দুল ওহাব, তিন চাচা সাইফুল আকন্দ, জোনায়েদ আকন্দ,রবিউল ইসলাম, ফুফা পার্শ্ববর্তী বিনসারা গ্রামের হাসান মণ্ডল ও সৎ দাদি ফিরোজা বেগম।
 
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েফুজ্জামান ফারুকী জানান, স্বজনরা কিশোরী রুমাকে হত্যা করলেও প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তার বাবা আব্দুল ওহাব নিজে বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর আদমদীঘি থানায় মামলা করেছিল। ধূর্ত ওহাব এজাহারে আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ না করলেও মৌখিকভাবে ওই হত্যাকাণ্ডে প্রতিপক্ষদের জড়িত থাকার কথা পুলিশকে জানায়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার নিবিড় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারই এক পর্যায়ে কিশোরী রুমার চাচা সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে।
 
তিনি আরো জানান,  গ্রেফতারের পর রুমার বাবা, চাচা ফুফা ও দাদিসহ ছয়জনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এমনকি তারা কে কিভাবে ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল তাও বর্ণনা দিয়েছে।
 
চাঞ্চল্যকর ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদমদীঘি থানার উপ-পরিদর্শক দুলাল হোসেন জানান, চাচা সাইফুল ইসলামের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আসামিদের বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়।
 
তিনি বলেন, 'আসামিরা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে চায়। এজন্য তাদের আজ শুক্রবার বিকেলে আদালতে নেওয়া হবে।'
 
দুলাল হোসেন জানান, আদমদীঘি উপজেলার সুদিন গ্রামের আকরাম হোসেন আকন্দের ছেলে আব্দুল ওহাবের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুর রহমান ও আহসানসহ কয়েকজনের বিরোধ ছিল। কিছুদিন আগে গ্রামের একটি পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে আব্দুল ওহাবের মারামারি হয়। ওহাব এবং তার পক্ষের লোকজনের হামলায় প্রতিবেশী আহসানের মাথা ফেটে যায়। এ নিয়ে গ্রাম্য শালিসে ওহাব এবং তার পক্ষের লোকজনদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
 
গ্রাম্য শালিসে দোষী সাব্যস্ত করা এবং জরিমানা আদায়ের বিষয়টিকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি আব্দুল ওহাব ও তার পক্ষের লোকজন। আর এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি আব্দুল ওহাব। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওহাব এবং তার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে।
 
বগুড়ার আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসলেম উদ্দিন জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আব্দুল ওহাব এবং তার ভাই, ভগ্নিপতি ও সৎ মা মিলে কিশোরী রুমা আক্তারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপর গত ৩১ আগস্ট রাত ১টার দিকে ঘুমন্ত রুমাকে তার শয়নকক্ষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
 
আদমদীঘি গালর্স স্কুল ও কলেজের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, রুমা আক্তার বরাবরই ভাল ছাত্রী ছিল। এবার জেএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
 
তিনি বলেন, 'আমরা এতদিন জেনেছিলাম অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে সে খুন হয়েছে। কিন্তু এখন যখন শুনছি যে বাবা আর চাচারা মিলেই রুমাকে খুন করেছে তখন সেটা বিশ্বাস হতে চাইছে না। এটাও কি সম্ভব!'
রাজশাহী বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com