লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৭৫২ বার
ফুলছড়িতে চার শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে
ফুলছড়ি, ১০ অক্টোবর: ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনে ফুলছড়ি উপজেলা গজারিয়া, ফজলুপুর ও উড়িয়াসহ ৩টি ইউনিয়নের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে চলেছে। ভাঙনের কারণে গৃহহারা হয়ে পড়ছে অসংখ্য মানুষ। এসব অসহায় মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অথবা অন্য কোথাও গিয়ে। এদের পুনর্বাসনেরও কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে নদী ভাঙা এ অসহায় মানুষদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এমন অনেক পরিবার আছে যাদের নদী ভাঙনের কারণে ৫-৬ বার পর্যন্ত বাড়ি-ভিটা পাল্টাতে হয়েছে। আশ্রয় নিতে হয়েছে নতুন কোনো জায়গায়। কিন্তু তারপরও ভাঙন থামে না। শত শত বিঘা আবাদি জমি, অসংখ্য গাছপালা ব্রহ্মপুত্র-যমুনার কড়াল গ্রাসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এভাবেই ফুলছড়ি উপজেলার মানচিত্র পাল্টে যেতে বসেছে।
গত ৩ দিনে ফুলছড়ি গজারিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া এবং তৎসংলগ্ন গোবিন্দি গ্রামের ৪শ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এছাড়া উড়িয়া ইউনিয়নে কালাসোনা এবং ফজলুপুরের খাটিয়ামারী, চর চৌমহনের শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পায়নি ওই সব পরিবার। ঈদের দিন গভীর রাতে হঠাৎ করে যমুনা ভয়াল রূপ ধারণ করে। আঘাত হানে কামারপাড়া ও গোবিন্দি গ্রামে। মুহূর্তের মধ্যে ২৩টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওই সব বাড়ির লোকজন ঘর থেকে পালিয়ে বের হতে পারলেও কোনো কিছুই সঙ্গে আনতে পারেনি।
গৃহহারা আজিবর হোসেন বলেন, হঠাৎ করে সোমবার রাতে যমুনায় ভাঙনে তাদের গ্রাম নদীতে তলিয়ে যায়। এর ফলে তিনিসহ আরও অসংখ্য পরিবার গৃহহারা হয়েছেন। তিনি জানান, এ নিয়ে তাকে ৫ বার বাড়িভিটা পাল্টাতে হয়েছে। ঈদের আনন্দ তারা উপভোগ করার সুযোগ পাননি। নদী ভাঙনে তিনি আজ নিঃস্ব। কিভাবে তার দিন কাটবে কিছুই তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।
গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনতোষ রায় জানান, গত ৪ দিনে কামারপাড়া গ্রামের ২১০টি পরিবার এবং পার্শ্ববর্তী গোবিন্দি গ্রামের প্রায় ২শ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ঈদগা মাঠসহ একটি মন্দির বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে ফুলছড়ি ডিগ্রি কলেজ ও সিনিয়র মাদরাসাসহ অন্তত ৫শ বাড়িঘর। ফুলছড়ি সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, যেভাবে যমুনায় ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে মাদরাসার অস্তিত্ব নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল মিয়া জানান, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে সেসব এলাকায় বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হবে না।
এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রী বৃহস্পতিবার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে বালাসী ঘাট এলাকায় এক সমাবেশে বলেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর ফলে ভাঙন রোধ সম্ভব হবে।
মফস্বল সংবাদ এর অন্যান্য খবর
 
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com