লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৭৫৫ বার
বগুড়ায় এক হাজার বছর আগের অবকাঠামোর সন্ধান
০৫ মার্চ ২০১৫
নয়া দিগন্ত অনলাইন

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ভাসুবিহারের প্রতœতাত্ত্বিক এলাকায় মাটি খননে বের হরেছে হাজার বছরের নিদর্শন। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া খননে উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া না গেলেও বের হয়েছে হাজার বছরের আগের তৈরী ইটের দেয়াল, পোড়ামাটির তৈরী বিভিন্ন প্রকার তৈজসপত্র। ছয় সদস্যের দল আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত খনন কাজ করবে ।


বগুড়া শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তরে প্রাচীন পুন্ড্র নগরী মহাস্থান গড়। চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ তার ভ্রমণবিবরণীতে এই নগরীকেই ‘পো-শি-পো’ বলে উল্লে¬খ করেছেন। মহাস্থানগড়ের দূর্গটি ছিল এক বর্গমাইল এলাকা বিস্তৃত। ১৫ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু পোড়ামাটির মজবুত ইটের তৈরি দেয়ালের চিহ্ন এখনও বিরাজমান । চীনের গ্রেটওয়াল সদৃশ্য এই দেয়াল দেখলেই অনুমান করা যায়, এর ভেতরে একটা সমৃদ্ধ, সম্পদশালী জনপদের বিকাশ ঘটেছিল।


এখানে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো প্রতœতাত্ত্বিক নমুনা থেকে প্রমাণিত হয়, এই প্রাচীন জনপদ যিশু খ্রিষ্টের জন্মের আগেই গড়ে উঠেছিল। মহাস্থানগড়ের আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু নিদর্শন। মহাস্থানগড় থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নে অবস্থিত ভাসু বিহার। স্থানিয়রা বিহারকে নরপতির ধাপ বলে। ভাসুবিহারে প্রথম খনন করা হয় ১৯৭৩-৭৪ সালে। ওই সময়ে খননে মাঝারি সংঘরাম আকৃতির নিদর্শন ও মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার সন্ধান পাওয়া যায়।


ধারনা করা হয় পাওয়া নিদর্শনগুলো স¤্রাট অশোক এর সময়কালের। সংঘরাম বলা হয় যেখানে শান্তিপূর্ন অবস্থানে ধর্মচর্চা, শিক্ষা গ্রহন করা হয়ে থাকে। ভাসুবিহারে ওই সময় বৌদ্ধভিক্ষুরা বসবাস করতো। তারা ধর্মচর্চা করতো। ভাসুবিহারে ২৬ টি কক্ষ দেখতে পাওয়া যায়। কক্ষের সাথে বড় বারান্দার আকৃতিও দেখা যায়। যেখানে বৌদ্ধভিক্ষুরা ধর্মশিক্ষা অর্জন করতে বসবাস করতো। কথিত আছে ভাসু বিহারে গৌতম বুদ্ধের পদচারনা ছিল। এ পদচারনাকে স্মৃতি করে রাখতে ভাসু বিহারে একটি ইটের স্তুপ তৈরী করেছিলেন স¤্রাট অশোক। চীনের পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ পর্যন্ত বেঙ্গল ভ্রমণের একপর্যায়ে আসেন পোসিপো বিহারে। তখন তিনি সেখানে দেখতে পান প্রায় ৭০০ বৌদ্ধভিক্ষু।


প্রতœতাত্ত্বিকরা মনে করেন পোসিপো বিহারই ভাসুবিহার। প্রতœতাত্ত্বিকদের মতে গৌতম বুদ্ধের সম্মানে স¤্রাট অশোক স্তুপটি নির্মাণ করেছিলেন। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম সেই স্তুপটিকে হিউয়েন সাং বর্ণিত অশোকস্তুপ হিসেবে শনাক্ত করেন। সেই ভাসুবিহারে আবারো খননে পাওয়া গেল হাজার বছর আগের ইটের তৈরী দেয়াল, মন্দিরের প্রবেশপথ, পাল আমলের শেষ দিকে নির্মিত ইটের অবকাঠামো। এছাড়াও পাওয়া গেছে মৃৎপাত্রের অনেক টুকরো। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া খনন কমিটির সদস্য রয়েছেন মহাস্থান যাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান, সহকারী কাস্টোডিয়ান এসএম হাসানাত বিন ইসলাম, সিনিয়র ড্রাফটম্যান আফজাল হোসেন, ফটোগ্রাফার আবুল কালাম আজাদ ও সার্ভেয়ার লোকমান হোসেন।


খনন কমিটির সদস্য ও মহাস্থান যাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান জানান, খননে পাওয়া ইটের অবকাঠামো প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো। খনন এলাকায় আরও পাওয়া গেছে একটি গর্ত যেখানে একত্রে ছিল মৃৎপাত্রের টুকরা এবং মাটির পাতিলের ভগ্নাংশ মন্দিরের সামনের অংশে খননে পাওয়া অবকাঠামোর কিছু অংশ সম্ভবত মন্দিরে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে আরও খননের পর।


খনন দলের প্রধান প্রতœতত্ব অধিদপ্তর ,বগুড়াআঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে পাল আমলের শেষ দিকে নির্মিত ইটের অবকাঠামো। এছাড়াও পাওয়া গেছে মৃৎপাত্রের অনেক টুকরা। ১৯৭৩ সালে প্রথম এ সাইটে খনন করা হয়। তখন পাওয়া যায় ব্রঞ্জের তৈরি বেশ কয়েকটি মূর্তিসহ নানা ধরনের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। গত কয়েক বছর খননে আরও পাওয়া গেছে হরফ সম্বলিত নামা ধরনের সিল, মাটির মূর্তি ও পোড়ামাটির ফলকসহ নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন।

মফস্বল সংবাদ এর অন্যান্য খবর
 
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com