লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩৯৬ বার
মৎস্য পোনা উৎপাদন ও
গরুর খামার করে মাসিক লক্ষ ১৪ হাজার টাকা আয়

কুড়িগ্রাম থেকে মোঃ রফিকুল ইসলাম: আমাদের দেশের শিক্ষিত মেধাবী যুবকরা যখন বিশ্ব বিদ্যালয়ের সর্বচ্চ ডিগ্রী নেয়ার পর চাকুরির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে হন্যে হয়ে ঘুরছে। আবার কেউ কেউ ব্যাংক ঋন ছাড়া স্বপ্নেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা ভাবতে পারেন না, তাদের সবার ভুল ধারনা পাল্টে দিয়েছে- কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের রতিরাম পাঠান পাড়ার যুবক এরশাদুল হক।


সে গত ২ বছর আগে তার নিজ বসতবাড়ীতে গরুর খামার ও পুকুরে মৎস্য পোনা উৎপাদন শুরু করে। কোন প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষন ছাড়াই সামান্য এসএসসি পাশ যুবক এরশাদুল হক এখন তার খামার থেকে প্রতি মাসে খরচ বাদেও ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা আয় করছে।



রতিরাম পাঠান পাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ নিজস্ব জমিতে চাষাবাদ করেই পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটাই ভালোই চলছিল। তারপুত্র এরশাদুল হক পড়াশুনা বন্ধ করে ভবঘুরে হয়ে পড়ে। সন্তানের আগামী ভবিষ্যত নিয়ে পিতা হিসেবে আব্দুল আজিজ সংকীত হয়ে পড়েন। এরকম সময়ে স্থানীয় মিলের পাড় এলাকার নুর মোহাম্মদের সাথে পরিচয় হয় যুবক এরশাদুলের।


গ্রাম্য একটি প্রবাদ আছে- সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। ঠিক তেমনি খামার সমন্ধে অভিজ্ঞ নুর মোহাম্মদের পরামর্শে এরশাদুল হক নিজস্ব খামার গড়তে উদ্বুদ্ধ হয়।


গত প্রায় ২ বছর পূর্বে এরশাদুল তার বাড়িতে গরুর খামার এবং নিজস্ব পুকুরে মৎস্য পোনা উৎপাদন শুরু করে। তার পারিবারিক ১ একর জমিতে ৩টি পুকুর রয়েছে। সেখানে বর্তমানে সিলভার কাপ, গ্লাস কার্প ও সরপুটি মাছের ৪০দিন বয়সী পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে।


রংপুরের মোস্তফি এলাকা থেকে মাছের ডিম প্রায় ২ হাজার টাকা দরে কেজি প্রতি কিনে এনে এরশাদুল নানা প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে পোনা উৎপাদন করছে। মৎস্য পোনার বয়স ৪০ দিন পার হলেই তা কেজি প্রতি ২শ’ টাকা দরে মৎস্য চাষিদের কাছে বিক্রি করছে। মাছের ১ কেজি ডিম থেকে প্রায় ৪ হতে ৫ মন মৎস্য পোনা উৎপাদন হচ্ছে। আর এখান থেকেই মাসে কম করে হলেও যাবতীয় খরচ বাদে ২২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।


যুবক এরশাদুলের নিজস্ব গরুর খামারে বর্তমানে ৭টি গাভী ও ৫ বাছুর রয়েছে। তার খামারের সব গরুই বিদেশী জাতের। ৪টি গাভী বর্তমানে দুধ উৎপাদনে রয়েছে এবং আগামী ৩ মাসের মধ্যেই ৭টি গাভীই দুধ উৎপাদনে আসবে। প্রতিটি গাভী প্রায় ২০ কেজি করে দুধ উৎপাদন করছে। বাজারে দুধের দাম লিটার প্রতি ৬০ টাকা কিন্তু সহজে বিক্রি হয় না। মিল্ক ভিটায় লিটার প্রতি দুধের ফ্যাট অনুযায়ী ৫০-৫৩ টাকা মুল্য দেয়া হয়। এ কারনে মুনাফা কম হলেও এরশাদুল তার খামারের দুধ মিল্ক ভিটায় বিক্রি করছে।


বর্তমানে গরুর খামার হতে যাবতীয় খরচ বাদে মাসে ৯২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। আগামীতে ৭ টি গরুই দুধ উৎপাদনে আসলে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা মাসে লভ্যাংশ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও গরুর বাছুর বড় হলে রয়েছে বাড়তি আয়। সেই সাথে গরুর গোবর সংগ্রহ করে তা বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় হচ্ছে।


কোন প্রকার ব্যাংক ঋন ছাড়াই এরশাদুল হক তার খামার গড়ে তুলে এলাকাবাসীর মুখ উজ্বল করেছে। বর্তমানে সে মাসিক ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা আয় করছে। আগামী কয়েক মাসের মধেই ২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা মাসিক আয়ে পরিনত হবে।


গতকাল শনিবার সকালে এরশাদুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন- ব্যাংক ঋন পেতে তদ্বির করতে হয়। তাই শুধু নিজস্ব পুঁজি দিয়েই খামার করেছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতা পেলে আগামীতে বৃহৎ পরিসরে খামার গড়ে তুলবো। যেখানে অনেকের কর্মসংস্থান হবে।


মোঃ রফিকুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
মোবাইল ০১৭৩৫৫২০৪০৩
তারিখ ১৬/০৫/২০১৫ ইং

মফস্বল সংবাদ এর অন্যান্য খবর
 
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com