লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৮০৮ বার
তারেক সালমান জাবেদ-এর চার কবিতা

তারেক সালমান জাবেদ
মঙ্গলবার, ০১ নভেম্বর ২০১৬

দায়ভাগী নক্ষত্র


আকাশ-পৃথিবীর দুরত্ব
লক্ষ-কোটি আলোকবর্ষ,
তার চেয়ও আরো বেশি দুরত্ব
সৃষ্ট হবে আমাদের মাঝে হয়তো,
আমাদের প্রেম/ভালোবাসার গ্রহ,নক্ষত্র
কষে কষে পড়বে হবে বিচ্ছিন্ন-
সময় যখন ছুঁটে যাবে অন্যত্র
গতি পথ অসময়ে কারারূদ্ধ,
তোমার,আমার-ভালবাসার ছায়াপথ-নীহারিকা
সহসা কুহেলিকায় পূর্ণ,
একদিন হয়তো...
কোন সুদুরে ভূ-মন্ডল হতে মধ্যে অভ্র
ভাসমান অ্যরিয়েল হবে চুর্ণ-বিচুর্ণ
নক্ষত্র আর গ্রহ-ঘর্ষণে-দায়ভাগী নক্ষত্র।


সেঁতসেঁতে স্মৃতির সাথে পথ চলা


সাদা বক উড়ে গেছে নীড়ে-
রাখল বালকেরাও ঘরে ফিরে,
মাছরাঙা টা আজ আর দেখা যায় না তারে,
আকাশে মেঘের ঘোর,
মনে হয় ঢেউ উঠবে মনু'র বুকে,
আমি তীরে বসে আছি একা,
তুমি চলেগেছ কবে কার সে কথা-
ঠিক মনে নেই,
তারপর ও অপেক্ষা-অসম প্রেম,
চোখের সম্মুখে ভেঁসে উঠে দৃশ্য-উজ্জল প্রহেলিকা,
দিতে চেয়ে তোমায় গোলাপের স্নিগ্ধ-সুভা
অবহেলা-উপেক্ষায়া ঝরে গেছে পাঁপড়ি
হয়ে গছে ক্ষয়,
পেয়েছে যন্ত্রনা-
হয়েছে সপ্রেম এ হৃদয়,
তবুও অপেক্ষায় মন পড়ে রয়!


তুমি ফিরে আসবে না-
যেমতি;মেঘের আড়ালে
চাঁদের লোকুচুরি খেলা,
আধাঁরে উঁকি দেয় সফেদ কাঁশ ফুলে ডাঁটা,
বাঁশখালীতে ডাকিতছে হুতুমপেঁচা,
আর আমার মতো মাকরশা টা-
গাঙ্গফড়িং এর অন্বেষণে হাবা,
তুমি আসিবে না
ফিরবে না আর
রক্ত মাখা হৃদয়ে-
গাঢ়-বেদনায় অবিশ্রান্ত-অবিশ্রাম যন্ত্রনা
সহিবেনা আর-
চাওয়া-পাওয়া,মরে পঁচে আছে মাঠে-
ইঁদুরের মুখে আজ নবান্নের খাবার,
চাঁদ ডুবে গেছে,তারকাও নিবে গেছে
দোয়েল অপেক্ষায় ভোর হওয়ার।


তবুও ফের রাত আসে,
চাঁদ টা আবার হাঁসে,
দিঘীর জলে শাপলা কাঁপে,
জুনাকিরা বাঁশ বাগানে মিট মিট আলো
জ্বালে,পেঁচাটা রাত জাগে,
পাড়ার গলিতে কালো কুকুর টা ঘেউ ঘেউ করে হাঁকে,
আরেকটি ভোরের আশায়-সোনালী সূযর্ে ইশারায়,
প্রভাত হবে,
প্রজাপতিরা উড়বে রং মাখা ডানায়,
কানন মাতিবে মধুকরের আনাগোনায়,
ফুল আর ভ্রমর পরস্পরে
জীবন স্রোতে-ভালোবেসে ডেফডিলের ভালোবাসায়।


তুমি চলে গেছ কবে কার সে কথা-
ঠিক মনে নেই,
তোমার হৃদয়ে প্রেম-অনুরাগ,
অবিরাম ঝরাপাতার মর্রমর ধ্বনি,
কৃর্তী নেই-নেই স্বচ্ছতা,
অর্থের দিক থেক জটিল গনিত!
তবু আমার রোজ রাত জাগা
নিমের ডালে পেঁচাটার সাথে আলিঙ্গন করা
যেন এক জীবনের অশিষ্টতা
সেঁতসেঁতে স্মৃতির সাথে পথ চলা!


আমাদের গাঁ


পুরাতন দিনের ছবি গুলো ভেঁসে উঠে মননে
নতুন আয়োজনে-আজিকার দিনে,
দীঘির ঐ পাড়ে পুরানো বট তলে আমাদের গাঁ'য়ে,
পাশ দিয়ে ছোট নদী টা চলে গেছে
মিশেছে গিয়ে সিন্ধু জলে,
পাকা ধান আর শুকনো খড়ের সুগন্ধে
মাতাল হাওয়া-ঘ্রাণে পাগল অগ্রাহন,
ভোরের আলো-ফুঁটে উঠিলে  
সাথে জেগে উঠে কিষাণ,
শিশির ভেজা ঘাঁসে কুমারীর সফেদ পা'য়ের ছুয়া-
নুপুরের ঝংকারে উড়ে যায় শালিকেরা,
পাপিয়ার ধ্বনি শুনা যায় দীঘির ঘাটে,
কুমারীরা বুঝি নাইছে দীঘির অঁজন জলে,
পদ্ম-শাপলার নীচে মীনের খেলা-
ডানা ঝাপটিয়ে শিকারে ব্যস্ত ভুখা মাছরাঙা,
কদম গাছের নীচে বড়শি হাতে ব্যস্ত বৃদ্ধ মা,
শুনেছি ঐ দীঘি টা হাজার বছরের আগে দিয়েছিলো কোন এক রাজা।


এখন প্রাত:কাল-রোদের মিঠে আলোয় পৃথিবীটা সিঁদুরের মতো লাল,
পথপ্রান্তরে জেগে আছে শৈশব-
যৌবনের সেকাল-শিকলে বন্দি স্মৃতির পাল,
হৈ চৈ পরেছে উৎসবের আহ্বান,মোড়লের বাড়িতে
বসিবে জারী গান,ফসলি জমি থেকে ভেঁসে আসছে
ধানের মিষ্টি ঘ্রাণ,
খড়,ক্ষুদ-শষ্যে ভরা উঠান,
আমাদের এই গাঁ'য়ে -আজিকার দিনে
ক্ষেতে ভরা ফসল-
পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে আহ্লাদের অবসাদে ভরে উঠে মন,
চারি দিকে-চেয়ে দেখি
সোনার থালায় রোপার মতো ধান,দেখে
ক্ষুধা মিটে যায়-পাখির তানে সিন্ধ কান,
ধান ভাংঙ্গা কুমারীর শরীর হতে ভেঁসে আসে ঘামের ঘ্রান।


চারি দিক এখন দুপুরে রোদ-দিপ্ত রোদের তেজে
পুড়ে গেছে ক্লান্ত কৃষাণের মুখ,বাতেসে ভেঁসে আসে
ফসলের ঘ্রান,কাজের ভাঁড়ে হয়ে আছে কুমারীর বদন ম্লান,
জল নেবে,ধান তুলবে
ভরিবে খড়-খুটে গোয়াল,
এপাড়া-ঐপাড়া ব্যস্ত দিনমান
আমাদের ঐ গাঁ'য়ে কেহ করো সাথে করে না মান,
করেনা হিংসা নেই অভিমান,
আমাদের কাটে ব্যস্ত সময়-নেই অবসরের গান।
চারি দিকে এখন বিকাল-
পশ্চিমা আকাশে সুযর্্যটা নববধুর গালের মতো লাল,
মাঠ হতে ঘর মুখি ধবলের পাল,রাখাল ছেলেটা ধরেছে ভাটিয়ালি গান,
বুড়ারা মাটিতে শুয়ে নিয়েছে মাটির ঘ্রান,
সোনালী রোদ্রের দু্যতি-
মনে হয় শিশুর নরম গাল,
আমার ঐ গাঁ'য়ে এমন বিকেলে-
জেলেরা নেমেছে জলে
মাছ ধরিবার নতুন চাল,
পাড়াগাঁ'য়ে আজ লেগেছে নতুনের আহ্বান,
সাঁজের বেলা সেঁজেছে কুমারীরা গাহিছে
সন্ধার গান।


রাত নেমে আসে-গাঁয়ের মেঠো পথ,ঘাঠে,মাঠে
চাঁদ জেগে উঠে,জোৎস্নার আলোয় দিঘীর জলে
শাপলা হাঁসে,বাগিচা আর বাঁশ বনে জোনাকির
মেলা,যুবকেরা আঙিনায় বসিয়েছে বাহান্ন পাতার
খেলা,
ছোটরা উঠনে মগ্ন পাঠে-
গৃহিনীরা ব্যস্ত রন্ধনে,
বাসনপত্র মাজার ঘরে-হতে
মিষ্টি সু-ঘ্রান বাতাসে ভেঁসে লাগে নাকে,
পেঁচা টা নিমের ডালে রাত জাগে
সাথে নববধুরা মেতে উঠে সুখের অভিসারে,
যুগলেরা বাতায়নের ফাঁকে চুপিসারে কথাবলে কানে কানে,
আমাদের  গাঁ'য়ে -
রাতের ঘুম ভাংঙ্গে পাখির ডাকে।।


অসময়ে মরে গেছে সব


আমি যে হারিয়েছি শত জনতার ভিড়ে
তুমি খুঁজ নাকো আমায়-নাকি খুঁজেছ নিখিলের মাঝে,
একই  গগণের নীচে-একই সূর্যের আলো-বাতাসে
বেঁচে আছি অপার ধরণি মাঝে,
আমি ও নিশ্চুপ-নিরব তোমাকে খুঁজিনি ক্ষনিকের তরে,
তুবু ও আছি দুজন;বিরহের মর্মপীড়া লালিত মননে-
এতদিনে ধীরে ধীরে হয়েছে যে ক্ষয়-ধরেছে কাঠ পোকা প্রেমে,
নষ্ট হয় ফসলি ক্ষেত গগণের প্রচন্ড ক্রন্দনে,
নাকি সতেজ রয়?
আমরা এখনো বেঁচে আছি,
নিজ কক্ষপথে পৃথিবী ঘুরে নিরবধি,
নক্ষত্ররা ও করে ছুটাছুটি,তুমি-বপন করেছ বীজ কাটিতে ফসলি জমি,
জানো কি?
পৃথিবীর পুরাতন রেখা হয়ে যায় বিলীন,
ফসলি জমি বিনিষ্ট হয়-
উড়ে এসে পেট ভরে খেয়ে যায় ক্ষুধার্ত এক ঝাঁক ঘাসফড়িং;
তারা,আলো,বাতাস চিরস্থায়ী;
আমরা চিরকাল বেঁচে থাকব কি?
মাঘে শেষে ফাল্গুনে বায়ু বেগে জারুলের পাতা ঝরে পড়ে,
রাতের অন্ধকারে জ্বীন-পরী খেলা করে,ভোরে
ঘাসের ডগায় মুক্তা হাঁসে,
এখানে কালক্রমে সময় সাপেক্ষে নিশীথিনির বুক ভেদে কৌমুদী হাঁসে,
তারপর অপেক্ষায় মানুষ বেঁচে থাকে চিরকাল।
যে ভাবে মানুষ চলে;
চৈত্রের খড়ায় আকাশের কাছে বৃষ্টি মাগে,দূর্যোগের সময় ত্রান খুঁজে ,
শান্তির ছায়ায় শরীর লেলিয়ে দিতে ভালোবাসে,অবশেষে;
প্রেম শেষ হয়ে গেলে সময়ের দাবী হয়ে উঠে-
দায়ভাগী পুরাতন জমির কাছে।
দু দেশে আছি দুজন;
আজ  ফসলি জমিতে অথৈ জল করে খলখল,
বর্ষার ভারি বর্ষণ,বাবুই পাখিটির বাসা হয়েছে তছনছ,
ভেঁসেছে গঙ্গায় কবুতরের ক্ষোদ,
আর ইঁদুর গুলো ভাঁসিয়ে নিয়েছে স্রোত,
বাকী নেই ডুবে যাবে পৃথিবী হবে মহাপ্লাবন,
এটাই তো স্বাভাবিক নিয়ম।
তবুও আমাদের ভগ্ন হৃদয়,
সময় হয়েছে - অসময়ে মরে গেছে সব,
উফ! যদি না ডুবিত-মরিত না যদি প্রেম,
না হতো ক্ষয়!


তারেক সালমান জাবেদ,
সাংবাদিক,কবি,ব্লগার,ফ্রান্স প্যারিস।
Tareq salman Jabed [jabed7.bd@gmail.com]

সাহিত্য এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com