লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ১৬৯ বার
গার্মেন্টস

তাহমিমা আনাম
অনুবাদ : মোজাফফর হোসেন
সোমবার, ১০ জুলাই ২০১৭ 


‘গার্মেন্টস’ গল্পের জন্য সম্প্রতি ও’ হেনরি সাহিত্যপুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক তাহমিমা আনাম। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সাময়িকীতে প্রকাশিত ইংরেজি ভাষায় লেখা গল্পের সাহিত্যমূল্যের বিচারে ১৯১৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। তাহমিমা’র আগে পুরস্কারটি পেয়েছেন আসাকো সেরিজাওয়া, ফ্রেডেরিক টুটেন, এলিজাবেথ ম্যাকক্র্যাকেন, অ্যালিস মুনরো, উইলিয়াম ট্রেভর, স্টিফেন কিং, জন আপডাইকের মতো নামিদামী লেখকেরা।

মালা তার মুখ থেকে মাস্কটা নামিয়ে জেসমিনকে বলল, ‘আমার প্রেমিক তোকে বিয়ে করতে চায়।’ জেসমিন হাতের কাজে পিছিয়ে পড়ায় সেলাই মেশিন থেকে মাথা তোলে না। বিরতির সময় মালা ওকে বুঝিয়ে বলে বিষয়টি। চার মাস থেকে মালা সহকর্মীদের বলে আসছে, ‘এখন যে কোনো দিন আমি আর দুলাল কাজি অফিসে যাবো।’ তারা ওকে বিশ্বাস করেনি, কারণ ওরা জানে ওর প্রেমিক দুলাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানে কাজ করে। গার্মেন্টসকর্মী কোনো মেয়েকে তার বিয়ে করার কথা না। এখন মালা একটা কৌশল এঁটেছে। জেসমিন যখন সেটা শোনে একেবারে মন্দ না বলে তার মনে হয়।


দুদিন পর মালা জুলাই মাসের মতো ঘামতে শুরু করে। দুলাল আরো একটা চায়। তিন বউ। অন্য একটা মেয়ে তাদের জোগাড় করে দিতে হবে। কাজের ঘণ্টা বেজে ওঠার পর ওরা সারিবদ্ধ সেলাই মেশিনগুলোর দিকে তাকায়; একজনকে বেছে নেয়ার চেষ্টা করে। মালা এখানে অবিবাহিত মেয়েদের চেনে, কার থাকার জায়গা দরকার, কার দেশে অভাবী আত্মীয়স্বজন আছে, কে তার মাইনের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা অফিস থেকে ধার হিসেবে গ্রহণ করে পর্যাপ্ত ওভারটাইম করে পুষিয়ে দিতে পারছে না। তারা চোখ ছোট করে সারিবদ্ধভাবে কাজ করতে থাকা মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থেকে ফাতিমা, কেয়া এবং কমলাকে মনে মনে একরকম নির্বাচন করে ফেলে। মুহূর্তে আবার কী ভেবে ওদের বাদও দিয়ে দেয়। সারির শেষ দিকে সদ্যাগত এক মেয়ে কাজ করছে। মালা ওকে একবার দেখে খুড়িয়ে খুড়িয়ে টয়লেট থেকে ঘুরে এসে জেসমিনকে বলে, ‘ভাসা ভাসা চোখ মেয়েটির।’


প্যান্টির নতুন অর্ডার এসেছে। জেসমিন স্যাম্পলটা দেখছে। সে আগে কখনো এই ডিজাইনের প্যান্টি দেখেনি। খুব পুরু, সামনে পেছনে জোড়া সেলাই। পা-দুটোর কাছে সেলাইবিহীন কাটা।


‘মালা’, জেসমিন বলে, ‘ক্যামনে কী দেখ তো?’

‘বিদেশি মেমরা এটা পরে তাদের মোটা থাইয়ের ভেতর ফিট রাখার জন্য। তারা এটাকে বলে…’

‘থ্যাংকস!’ মালার মুখের কথা কেড়ে তাৎক্ষণিক জবাব দেয় জেসমিন।

‘থ্যাংকস?’ মালা বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করে।

‘হুম, এটা থ্যাংকস প্যান্টি। মেমরা এটা পরি আয়নাতে যেকুন নিজিকে দেখে তেকুন হয়ত আল্লাদে এটাকে থ্যাংকস বলে!’

জেসমিন এবং মালা তাদের মুখে মাস্ক নামিয়ে হাসি বিনিময় করে, সকালের সুপারভাইজার জামাল ওদের লক্ষ করেনি।


ওর জন্য স্বামী ভাগাভাগি করার বিষয়টা অতটা খারাপ হবে না। জেসমিন ভেবে দেখে। প্রেম করে বিয়ে করার মতো কোনো স্বপ্ন সে পুষে রাখেনি। যদি তাদের স্বামীর সাথে বিছানা ভাগাভাগি করতে হয়, তাতে তার কোনো সমস্যা নেই। আর যদি দুলাল আরো কিছু চায়, যেমন যদি সে ভাত খেতে চায় যেরকম তার মা রান্না করে দেন সেরকম, তাহলে তাদের ভেতর কেউ একজন নিশ্চয় সেভাবে রান্না করতে পারবে। প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় হেঁটে ঘরে ফেরা আর সব গার্মেন্টসকর্মীর সাথে, দুইমেয়ে সমান চওড়া একমাইল লম্বা লাইন ধরে টঙ্গী থেকে উত্তরা যাওয়া। সেদিন নতুন এক মেয়েকে নজরে আসে জেসমিনের। লাইন ধরে হাঁটার সময় জেসমিন কখনো সামনে কখনো পেছন-ফিরে দেখে। মেয়েদের চুলের ফিতা উড়ছে বাতাসে, ফুটপাতে একতালে স্যান্ডেলের শব্দ সংগীতের মতো বেজে চলেছে। সে বুকের কাছে ঘেমে ওঠা অনুভব করে। মেয়েটির কাছে যায় জেসমিন। ওর নাম রুবি। দেখতে কালো তবে সুন্দরী। ছোট ছোট প্রমাণ সাইজের সাদা দাঁত। নায়িকাদের মতো চোখ। সে এখানে সবে এসেছে। সই তৈরি করার জন্য মুখিয়ে আছে। ‘মুই ডেইলি গ্রামোত দুই তিন ঘণ্টা সময় কাটি কাজত আসি।’ সে তার কষ্টের কথা বলে।

‘আমি জানি।’ জেসমিন বলে। ‘থাকার জন্যি একটা জায়গা দরকার সে কারণেই আমি এইটা করছি।’


যে বছর জেসমিন ঢাকায় আসলো সে বাবাকে বলেছিল, ‘নাসির চাচাকে বুলো, তুমাকে তার মেয়ির মুবাইল নম্বরটা দিতি। নাসির চাচার মেয়ি কুলসুম গার্মেন্টে কাজ করে।’
‘ও তোর উপকার করতি পারে,’ মাথা দুলিয়ে বাবা বলেছিল।
জেসমিনের মা তখন উঠোনে শস্য শুকাচ্ছিলো, একথা শুনে ছুটে এসে মেয়ের মাথাটা বগলদাবা করে ধরে বলে, ‘যাহ মুখপুড়ি, দূর হ! আমি তোর মুখ আর দেখতি চাইনি।’


জেসমিন সেই যে বাড়ি ছাড়ে, আর পেছন ফিরে তাকায়নি। সে জানে, তার মা তাকে নিয়ে একসময় অন্যরকম একটা স্বপ্ন বুনেছিল—তার বিয়ে হবে; তাকে রাজরানি করে রাখবে তার স্বামী, সমস্ত গাঁবাসী তার কপাল দেখে হিংসে করবে। তবে সেটা ছিল শালিসের ঐ ঘটনার আগে।   


কুলসুম তাকে সাহায্য করেছিল। ওর থাকার জায়গা ছিল; কড়াইলে এক ঘরে ছেলে ও শাশুড়িকে নিয়ে থাকতো। স্বামী বিদেশে খাটে, তাই জেসমিনকে সে মেঝেতে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। বিনিময়ে সে প্রতিমাসে জেসমিনের আয় থেকে অর্ধেকটা কেটে নেয়।
‘তোর কপাল ভালো’, সে জেসমিনকে বলে, ‘আমি আগাম নিচ্ছি না।’


কিন্তু কিছুদিনের ভেতর তার স্বামী দেশে ফিরছে, জেসমিনকে মাথা গোজার বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। তার দূর সম্পর্কের আরেকজন আত্মীয় থাকে এই শহরে—মামাতো বোনের খালাতো ভাই, সে থাকেও অনেক দূরে, সেই মগবাজারে, তার চেয়ে বড়কথা সে যেভাবে জেসমিনের দিকে তাকিয়ে থাকে তা একদম পছন্দ হয় না জেসমিনের। ফ্যাক্টরির কাছেই একটা আবাস আছে। জেসমিন শুনেছে সেখানে রুমভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সে দেখতে গেলে মালিক জানালেন, ‘আমার বিল্ডিংয়ে এভাবে এতগুলান মেয়েকে একসঙ্গে থাকতে দেওয়া যাবে না।’ ভবন না ছাতা! জেসমিন ভাবে। একটা টিনের লম্বা চাল, মাঝে হার্ডবোর্ড দিয়ে আলাদা করা। বাইরে একটাই পানির ট্যাপ।
তবে তিনি বলেছেন, এখনই কোনো পাকা কথায় যাচ্ছেন না। ভেবে জানাবেন। ‘যদি তোমার স্বামী থাকে’, তিনি বলেছেন, ‘তবে ভাবা যেতে পারে’।


জেসমিন শুরুতে মালার সহযোগী হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। সে তার গিট বেঁধে দিতো, শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিতো। রানাপ্লাজা ধসেপড়ার পর জীবন ফের সচল হয়। মালার পা ভেঙে গিয়েছিল; মালিকপক্ষ নজরদারি করছিল তার ওপর যাতে সে কোনো ঝামেলা পাকাতে না পারে। এমনকি এতদিন পরও জামাল সবসময় তাকে অন্যভাবে নজরদারির ভেতর রাখে, দেখে টয়লেটে অতিরিক্ত সময় অতিক্রম করছে কিনা। মালার কাজের হাত এত ভালো না হলে তারা হয়ত কবেই তাকে বাদ দিয়ে এসব ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে পারতো। সবসময় সে কাজ জমা দেওয়ার লাইনে সবার আগে থাকে।


জেসমিন প্যান্টির নতুন অর্ডার থেকে একটা সরিয়ে নিজের জন্য ঘরে নিয়ে যায়। সে পরে দেখে। তার উরুর মাংস বেরিয়ে আসে। সে বুঝে উঠতে পারে না। হতে পারে বিদেশি মেয়েদের পাছার গড়ন আলাদা।


জেসমিন এবং মালা একজন বিদেশি মহিলাকে চেনে। মিস ব্রিডজে। তিনি ফ্যাক্টরিতে এসে তাদের কিছু জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তারা যা বলেছিল টুকে নিয়েছিলেন। দুপুরের খাওয়ার জন্য কত মিনিট? টয়লেট কোথায়? যদি আগুন ধরে, তোমরা কি করবে?—এই জাতীয় প্রশ্ন।


খুব ভোরে তার পৌঁছানোর আগেই জামাল সকলকে লাইনে দাড় করিয়েছিল। ‘একজন পরিদর্শক আসছেন’, সে বলল। ‘তোমাদের এই ফ্যাক্টরির সুনাম তৈরি করতে হবে।’ জামাল কিছু প্রশ্ন করে তার উত্তরও বলে দেয়।

‘আমরা কি এই ফ্যাক্টরিতে কাজ করে গর্ববোধ করি?’

‘নিশ্চয় করি!’

‘সানি টেক্সটাইল নিয়ে আমাদের অনুভূতি কি?’

‘আমরা সানি টেক্সটাইলকে ভালোবাসি!’


সেদিন তারা সব জানালা খুলে দেয় এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলো কয়েকদফা পরীক্ষা করে। এরপর মিস ব্রিডজে এলেন। উনাকে দেখে জামালের মিটমিটে হাসিটা দেখতে পায় জেসমিন। জামাল ভেবেছিল স্যুটপরা কোনো পুরুষলোক আসবে। কিন্তু দেখা গেল ছোটখাটো হলুদচুলের মেয়েটিকে। চিন্তা করার কিছু নেই। আমরা কি ভাগ্যবান নই? অবশ্যই আমরা ভাগ্যবান।


যখন মিস ব্রিডজে ফিরে এলেন, জেসমিন তাকে প্যান্টির বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলো। কিন্তু তখনই তাদের পুরো বিষয়টা রুবিকে বুঝিয়ে দিতে হবে। মালাই সব কথা বলছিল।
‘আমরা ওকে বিয়ে করি, তাহলে আমরা লোকজনকে বলতে পারবো যে আমরা বিবাহিত, আমাদের স্বামী আছে। আমরা তাকে থাকার জায়গা দেবো, খাবার দেবো, আমরা তাকে আর সবই দেবো যা একজন মেয়েমানুষ তার মিনষেকে দেয়। যদি সে আমাদের কারো সাথে শুতে চায়, আমরা তার সাথে শুতে যাবো।’
যখন মালা বিছানায় শুতে যাওয়ার কথা বললো তখন জেসমিন তার দু’পায়ের মাঝে ভেজাভাব অনুভব করল।
‘হামরা কেনবা হামার নাহান ভাতার জুগাড় করি নিবার নাগছি ন্যা?’, রুবি জিজ্ঞেস করে। সে এখনো গাঁয়ের সহজ-সরল মেয়েটি হয়েই আছে, এখানকার রীতিনীতি বুঝে উঠতে পারেনি। রুবিকে দেখে মনে হয় ও এখনই কেঁদে দেবে। এরপর সে তার সুন্দর ঝকঝকে দাঁত দিয়ে ঠোঁটটা পুরো চেপে ধরে বলে, ‘আচ্ছা, মুই রাজি আছং।’


যেদিন জেসমিনের জন্ম হলো, ওর মা এক টুকরো কয়লা নিয়ে ওর কানের ওপাশে বড় করে কালো চিহ্ন এঁকে দিয়েছিল। জেসমিন ওর সমবয়সীদের আগেই স্কুলে গিয়েছিল, অক্ষর চিনতে ও অংক কষতে শিখেছিল। শিক্ষক আমিন সবসময় তাকে বিজয় দিবসে জাতীয় সংগীত গাইতে বলতেন এবং প্যারেডে সবার আগে দাড় করিয়ে দিতেন। আমিন স্যার বলেছিলেন, ‘তুমার মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়া উচিত।’ তিনি বলেছিলেন, ‘স্কুল শেষ করি আমার সাথে দেখা করবা।’ তিনি তাকে অংক এবং অ, আ, ক, খ, শিখিয়েছিলেন। হাতে ধরে চক দিয়ে বর্ণমালা লিখতে শিখিয়েছিলেন।


মিস ব্রিডজে কয়দিন পর ফের এলেন। এবার তিনি জেসমিনকে আলাদা করে একপাশে ডেকে নেন।
‘আমি তোমাদের ফ্যাক্টরি নিয়ে চিন্তিত’, তিনি বললেন। ‘এটা কি আগেও এমন খারাপ অবস্থায় ছিল?’
জেসমিন চারিদিকে তাকিয়ে নেয়। সে মাথার ওপর ঝুলতে থাকা ফ্যান, জানালা, সারির পর সারি ধরে মেশিনে ঝুঁকে কাজ করতে থাকা মেয়েদের দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে উত্তর দেয়, ‘সবসুময় এইরকমই তো! এটা ভালো জায়গা। এটা ঠিক জায়গা। আমরা সানি টেক্সকে ভালোবাসি!’
সঙ্গে সঙ্গে প্যান্টিটা হাতে ধরে মিস ব্রিডজেকে জিজ্ঞেস করে, ‘কেন্ত আপনাদের দেশের মেয়িরা এটা কেনে পরে?’
মিস ব্রিডজে তার হাত থেকে ওটা নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে হাসতে থাকেন। ‘তুমি জানো এটা কত দামী ওখানে?’ তিনি বলেন।


বিয়ের দিন দুলাল ফ্যাক্টরিতে আসে। সে তখন ধূসর হাতকাটা সোয়েটারের নিচে লালশার্ট পরেছিল। গতবছর সানি টেক্সটের মালিকপক্ষ হাতেবোনা পোশাক তৈরির সিদ্ধান্ত নিলে ওরা বুনেছিল। জেসমিন, মালা আর রুবি ওর সামনে দাঁড়ায়। সে তার ঘাড় এদিক-ওদিক করে ওদের ভালো করে দেখে।
‘আমার রাজকুমারকে দেখ তোরা’, উচ্ছ্বাসমাখা কণ্ঠে বলে মালা। তার চোখা মুখ, ছোট কালো চোখ এবং কপালঢাকা চুল। এখন বিয়ে করার সময়। তারা দুটো রিকশা ডাকে। মালা এবং দুলাল আগের রিকশায় ওঠে। জেসমিন আর রুবির রিকশা ওদের পেছন থেকে অনুসরণ করে চলে। তারা প্রত্যেকে নতুন বৌয়ের মতো লাল শাড়ি পরেছে, কেবল তাদের পরিবারের কেউ মিষ্টিমুখ করাতে কিংবা পায়ে মেহেন্দি লাগাতে উপস্থিত থাকবে না এই আয়োজনে।


জেসমিন মালা এবং দুলালকে পিছন থেকে দেখে। সে জানে মালার ভাই রানাপ্লাজা ধসে মারা গেছে। ধ্বংসের ভেতর থেকে উঠে আসবে এই প্রত্যাশা নিয়ে মালা টানা সাত সপ্তাহ ভাইয়ের ছবি হাতে দাঁড়িয়েছিল।সে অনশন করেছে; ভাইয়ের নাম ধরে চিৎকার করেছে কত! ওদিকে গাঁ থেকে অভাবী মা পত্রমারফত ঘনঘন টাকা চেয়ে যাচ্ছে, তাই মালাকে ফের লাইনে দাঁড়াতে হলো। মালার চেহারাটা মুষড়ে গিয়েছিল, ভাঙা ডিমের খোসার মতো। এরপর দুলাল আসে তার জীবনে। এখন সে ফ্যাক্টরিতে আসে, আশ্চর্য গতিতে কাজ করে, মশকরা করে, ওভারটাইম খাটে, যেন কিচ্ছু ঘটেনি আগে। কিন্তু জেসমিন জানে, একবার যে ওভাবে পথে কিংবা ফ্যাক্টরিতে মরে, তার জীবন আর তার থাকে না।


আজ ভোরে জেসমিন ঐ টিনশেডের খুপরিতে গিয়েছিল মালিকের সাথে কথা বলতে। আমার বিয়ে হচ্ছে। আমি কি এখন ভাড়া নিতে পারবো? জেসমিনের কথা শুনে তিনি ওর দিকে আড়চোখে তাকান।

‘বিয়ে? স্বামী কই?’

‘ফিরি হপ্তায় আনবু তাকে।’ জেসমিন উত্তর করে।
লোকটি তার সিগারেটে আরো একটা টান মেরে শেষ অংশটুকু ড্রেনে ছুড়ে মারেন। জেসমিন ভেবেছিল নিশ্চিত করেই না করে দেবে।
কিন্তু এরপর তিনি তার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘শুভকাজ হচ্ছে। আমাকে তুমি মিষ্টিমুখ করাবে না?’
এরপর তিনি জেসমিনের পিঠে চাপড় মেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলে জেসমিন ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেল। তবে স্পর্শটা ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ, যেন জেসমিন কোনো ছেলেমানুষ বা লোকটির মেয়ে।
এরপর সে কুলসুমের কাছে যায়। ‘একজুনাকে পেয়িছি। কয়েকদিনের ভেতর বি’ হবে আমাদের।’ জেসমিন বলে।

‘ভালো।’ কুলসুম জবাব দেয়। ‘তোর বয়স হয়িছে। একুন আর আমাকে তোকে নি চিন্তা করতি হবে না।’


জেসমিন বিয়েটাকে একধরনের প্রতিকার হিসেবে দেখে। ‘যদি তুমি মেয়ি হও, তালি তুমার মেলা সমস্যা হবে; তবে সব সমস্যার সমাধান ঘটবি যদি তুমাকে কেউ বি করে। ফ্যাক্টরিতে জামাল যদি তুমাকে ক্যালেন্ডার করতি দেয়, ওটা সবচেয়ি সহজ কাজ, বা সে যদি বলে তুমি লাঞ্চের জন্যি আরু কিছুটা সুময় নিতি পারো, তুমি আরেকটু সুময় নি শেষ করলি ওভারটাইম পাবে, তুমি বুলতি পারো আমার স্বামী অপেক্ষা করছি তেকুন আর তুমাকে তার বিষাক্ত নিঃশ্বাস সহ্য করতি হবে না। রাতে যেকুন সব আলো নিবি যায়, হয়ত তেকুনও তুমি ফ্যাক্টরিতে জামার কলার সিলাই করছু। সবকিছু সহজ হয়ি যাবে যদি তুমার ভাতার থাকে।’
রিকশা যখন মহাখালী ফ্লাইওভার ক্রস করছিল জেসমিন তখন এসব উপদেশবাণী রুবিকে শোনাচ্ছিল। রুবির দৃষ্টি তখন অন্যদিকে আঁটকে। নিশ্চিত করে নিজের জীবন নিয়ে তার অন্যরকম প্রত্যাশা আছে। রুবির কাঁধে জেসমিন তার হাত রাখে, লক্ষ্য করে ওর গা দিয়ে স্নিগ্ধ একটা গন্ধ আসছে, সানি টেক্সটে যাওয়ার পথে বিস্কুট ফ্যাক্টরি থেকে যেমন সুবাস আসে।


ওদের ভেতর একমাত্র জেসমিনই বিয়ের রেজিস্টার কাগজে স্বাক্ষর করতে পারে। অন্যরা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুল কালিতে চুবিয়ে মোটাসোটা বইয়ের মাঝে টিপসই দেয়। কাজি তার টাকাটা বুঝে নিয়ে তাদের হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দেন যেখানে তাদের নামধাম লেখা আছে। জেসমিন বাকিদের পড়ে শোনায়।


এরপর দুলাল একটা চটপটির দোকানের কাছে দাঁড়ায়। ওখানে ওর তিনবন্ধু অপেক্ষা করছে।ওরা নতুন বৌদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালো করে তাকিয়ে দেখে দুলালকে কনুই দিয়ে গুতো মারে। দুলাল উত্তরে এমন করে হাসে যেন সে তাদের সামনে তার টাকাভর্তি ড্রয়ার খুলে রেখেছে।
‘কে আগে?’ তারা জিজ্ঞেস করে।
‘বড়টা’, চাপাস্বরে কথা বলার তোয়াক্কা না করেই দুলাল স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তর করে। ‘এরপর ওকে’। সে জেসমিনকে দেখিয়ে বলে। ‘সবচেয়ে ভালোটা শেষে নাকি, মামুর ব্যাটা?’ ওর এক বন্ধু জিজ্ঞেস করে।
দুলাল রুবির দিকে এমন করে তাকায় যেন এই প্রথম দেখছে ওকে। বলে, ‘হুম সেই দুধের সর!’


বন্ধুরা বিদায় হলে ওরা কেবল স্বামী-স্ত্রীরা থাকে। ফুটপাতের সাথে চারটি টুল টেনে বসে। জেসমিন তার কাঁধে ঠান্ডা বাতাস টের পায়। ‘তোমার দেশের বাড়ি কোথায়?’ দুলাল জিজ্ঞেস করে।
জেসমিন কিছু বলার আগে সে শুনতে পায় রুবি বলছে, ‘কুড়িগ্রাম।’
রুবির কণ্ঠস্বরের কিছু একটা জেসমিনকে বলে দেয় যে সে সবচেয়ে প্রিয় বউটি হতে চায়। এখন জেসমিন লক্ষ্য করে রুবি তার চুলগুলো ফিতা দিয়ে বেঁধেছে। নিজেদের প্লেট শেষ করে সকলে উঠে পড়ে। মালা দুলালের হাত ধরে ওর বাসার দিকে রওনা হয়। জেসমিন এবং রুবি কুলসুমের বাসার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠে। রুবি কুলসুমকে আগাম কিছু টাকা দিতে যাচ্ছে যাতে সেও ওখানে থাকতে পারে, যতক্ষণ না তারা নিজেরা মাথা গোজার বিকল্প বন্দোবস্ত করতে পারছে।


তারা যে এখন বিবাহিত সেটা চিহ্নস্বরূপ কোনো কিছু করা যায় কিনা ভাবছে জেসমিন। কিছু বের করতে না পেরে প্রসঙ্গ বদলে রুবিকে জিজ্ঞেস করে ওদের গাঁয়ে শীত পড়েছে কিনা।

‘ভালাই।’ রুবি বলে। ‘মাঝে মইদ্যে মাইনসা জারোতে মরিও যায়।’
‘আমি মেহেরপুর থেকি এসিছি’, জেসমিন তাকে বলে, ‘ওকিনে এত কড়া না, তারপরও খুব কষ্টের।’
‘ওরা এলা কি করবের নাগছে কাই জানে!’ রুবি বলে। ‘তোমার কি উইয়াক ভাল মনে হয়? দেইকতে-শুনতে তো ফাইন নাগে।’
‘যেকুন রাতি দেকার কেউ থাকে না তেকুন অন্যরা যা করে দেকগা উরাও তাই করছি,’ জেসমিন উত্তর করে।


ওরা কুলসুমের বাসায় পৌঁছায়।

‘তুরা দুজন কম্বল ভাগাভাগি করি থাকতি পারিস,’ রুবির দিকে একবার তাকিয়ে কুলসুম বলে।


ততক্ষণে রুবি ওর ব্যাগ থেকে টাকাটা বের করে। ওদের বেচে যাওয়া ভাত স্টোভে চাপায় গরম করার জন্যে, স্টোভটা কুলসুম পেছনের দু’পরিবারের সাথে শেয়ার করে। গ্যাসের চাপ খুব কম থাকায় আধঘণ্টা লাগল ভাত গরম হতে। এরপর ওরা কয়েকটা কাঁচামরিচ মাখিয়ে রাতের খাওয়াটা সেরে নেয়।


‘মোর তিনডে ছোডো বইন আছে’, রুবি বলে যদিও জেসমিন ওর পরিবার নিয়ে কিছুই জানতে চাইনি।

‘তারা একুন কুতায়?’

‘গ্রামোত।খায়া না খায়া পড়ি আছে।’ রুবির কথায় দৃশ্যপটটা জেসমিনের চোখের সামনে ভেসে ওঠে—তিনটা কৃষ্ণবর্ণের মেয়ে, সুন্দর ঝকঝকে দাঁত, উত্তরের হাড়কাঁপানো শীতে জমে শীর্ণদেহে জড়াজড়ি পড়ে আছে।

‘তোমার কাই কাই আছে গ্রামোত?’ রুবি জানতে চায়।

‘সাপের কামড়ে ভাইটা মরলু। ওর চেহারা একুনো চোখে ভাসে—ফ্যাকাশি, ফুলা ফুলা, যেকুন উরা মাটিচাপা দিলু।’

‘হায় আল্লাহ!’ রুবি জেসমিনের পিঠে হাতবোলাতে থাকে।

‘ওর কপালটাই পুড়া,’ জেসমিন বলে এমন একটা ভান করে যেন এটা তেমন কিছু না, যেন এই ঘটনার কারণেই ওদের পরিবারের সব সুখ নষ্ট হয়ে যায়নি।


ঠান্ডায় মেঝেতে জমে যাওয়ার অবস্থা।এই শীতে রুবিকে কম্বলের নিচে পেয়ে আরামই হয়েছে জেসমিনের।
‘তুমি খুব ভালো।’ রুবি বিড়বিড় করে বলে ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে। জেসমিন ওর নিশ্বাস নেওয়া, কাঁধের ওঠানামা দেখতে পায়। মালা তার স্বামীর সঙ্গে আছে ভেবে আরো কতক্ষণ নির্ঘুম কাটিয়ে দেয়। দুপায়ের সংযোগস্থানে সেই জল ছলছলে ভাবটা ফিরে আসে।রুবি ফিরে শোয়, ওর গা থেকে বিস্কুটের ঘ্রাণটা জমাট বেঁধে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। শিহরণে জেসমিন রুবির একগুচ্ছ কেশ মুখের ভেতর নিয়ে কেঁপে ওঠে।


পরেরদিন সকালে সানিটেক্সে পৌঁছে দেখে মালা ইতোমধ্যে ওর মেশিনে মাথা ঝুঁকে সেলাই শুরু করেছে। জেসমিন ওর দৃষ্টিকাড়ার চেষ্টা করে কিন্তু মালা কিছুতেই মাথা তোলে না। যখন লাঞ্চের বিরতিঘণ্টা বাজল তখন সে কিভাবে যেন সবার আড়াল হয়ে গেল। লাঞ্চের সময় পার হয়ে গেলে ওর দেখা পেল জেসমিন। অবশেষে দিনটা পার হলো। মায়া একা তড়িঘড়ি করে ঘরে ফেরার জনস্রোতে যুক্ত করলো নিজেকে।


‘কি চাস তুই?’ কিছুটা তেড়ে উঠে জিজ্ঞেস করে মালা।
যখন জেসমিন জানতে চায় প্রথম রাত কেমন কাটলো তখন সে স্বাভাবিক হয়ে বলে, ‘খুব খারাপ না। আর কিছু জানতে চাস? সময় আসুক, তুই নিজেও টের পাবি। আমাকে যেতে দিয়ে বিশেষ মুহূর্তটা নষ্ট করিস না যেন,’ এটা বলার সময় ওর মুখে দুষ্টু হাসি খেলে যায়। আর কিছু বলেনি মালা।

‘চলো একটু দুকানে যাই’, শিফট শেষ হলে জেসমিন রুবিকে বলে।

‘মোর হাত এহেবারে ফাকা।’, উত্তর করে রুবি।

‘ভেবো না, আমরা খালি দেখবু।’


ওরা রাস্তার শেষ মাথায় স্যান্ডেলের দোকানের সামনে দাঁড়ায়। স্যান্ডেল সজ্জিত দেয়ালে তাকিয়ে থাকে কতক্ষণ। রুবি জেসমিনের হাতটা ধরে আঙুল মটকাতে থাকে।


মালার সপ্তাহ শেষ। এবার জেসমিনের পালা। সে বাথরুমে গিয়ে পানির কল ছেড়ে মুখ ঘষতে থাকে যতক্ষণ না কুলসুম পানি নষ্ট করার জন্যে তেড়ে আসে। লালরঙের সালোয়ার-কামিজ পরে। রুবি ওর চুলটা ঠিক করে দেয়। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত বিনুনি গেঁথে দেয়। তার আঙুলগুলো চুলের ভেতর দ্রুত নড়াচড়া করে আর একটা শিহরণ জেসমিনের কাঁধ থেকে সালোয়ারের ভেতর মিশে যায়। রুবি নিজের চুল থেকে ক্লিপটা নিয়ে জেসমিনের বিনুনি এঁটে দেয়। সে টের পায় ক্লিপটা তার চুলকে টানটানভাবে বেঁধে রেখেছে।


সারাদিন তারা যখন জামার বোতাম সেলাই করছিল, জেসমিন অনুভব করে ক্লিপটা তার মাথা টেনে ধরে আছে।
‘মালা’, সে বলে, ‘আমার ভয় ভয় করচি রে!’ শুনে মালা এমন করে তাকায় যেন সে তাকে কিছু একটা বলবে কিন্তু মুহূর্তেই তার চোখ সেলাই মেশিনে নিবিষ্ট হয়।
‘সব নতুন বউই ভয় পায়। চিন্তা করিস না, আমি তোর জন্য ওকে টেস্ট করে দেখেছি। যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক আছে।’ মাথা নিচে রেখেই উত্তর করে মালা। 


কাজ শেষে দুলাল সানিটেক্সের গেইটে দাঁড়ায়। সে জেসমিনের থুতনিতে আঙুল দিয়ে এমন করে তাকায় যেন কোরবানির ছাগল পরীক্ষা করছে। ওর নিশ্বাস ছোট ছোট; গাল চকচক করছে। জেসমিন লক্ষ্য করে সোয়েটারের নিচে শার্টটা ময়লায় চটচট করছে। জেসমিন ভাবে, এ আবার কোন ধরনের মানুষ যে একসঙ্গে তিনজনকে বিয়ে করে! এই চিন্তা থেকে বের হওয়ার জন্য মাথাটা ঝাঁকি দেয় সে। তার স্বামী আছে, সেটাই মূল কথা। তারা ঘরের দিকে হাঁটা শুরু করলে রাস্তাটা খুলে যায় সামনে। দুলাল একটা হাত জেসমিনের কোমরে রাখে।


কুলসুম লিপস্টিক লাগাতে লাগাতে ছেলেকে জানায়, ‘তোর খালু আসছি বাসায়। তুই কেন্ত পায়ি হাত দি’ সালাম করবি।’
তার ছেলেটি দুলালের সামনে হাঁটুগেড়ে বসে ওর স্যান্ডেল ছুঁয়ে দেয়। রান্নাঘরে ওরা খেতে বসে। জেসমিন দুলালের থালায় ভাত এবং বড়মাংসের খণ্ডটা রাখে। কুলসুমও একটুকরো তুলে দেয়।  বাকিরা ঝোল দিয়ে খাওয়া শেষ করে। তাকে চৌকির নিচ থেকে মোড়া বের করে বসতে দেওয়া হয় যাতে অন্যদের থেকে উঁচুতে তার অবস্থানটা দৃশ্যত হয়। ঝোলটা খুব পাতলা হয়েছে, জেসমিন লক্ষ্য করে কুলসুমের ছেলেটা সম্পূর্ণ থালা চেটে চেটে খাচ্ছে। সে রুবির কথা ভাবে। আজ বৃহস্পতিবার। ও বাসে করে বাড়ি গেছে ছুটির দিনটা বাড়িতে কাটাতে। জেসমিন ক্লিপটা নাড়তে থাকে, এখনো ওর মাথার একপাশে বিননি করা আছে।


রাত গভীর হলে ওরা একসঙ্গে শুয়ে পড়ে। কম্বলটা বিছানো হয়। জেসমিন কুলসুমের শাশুড়ির শরীরের একাংশ দেখতে পায়, তার কনুই বিছানায় তাদের অংশে চলে এসেছে। ‘পিঠটা চুলকি দাও’, দুলাল দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলে। সে বাঁকা হয়ে গায়ের জামাটা খুলে ফেলে, জেসমিন তার পিঠে হাত বোলাতে থাকে। খুব শিগ্রি তার নখগুলো ওর শরীরের ময়লায় ভরে ওঠে।


দুলাল তার হাতটি নিয়ে শরীরের সামনের অংশে ছেড়ে দেয়। এরপর সে তার ওটা বের করে। তার হাত এখন জেসমিনের মাথায়।জেসমিনের মেয়েবেলার আমিন স্যার ও চকের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে সেই গ্রাম, শীতের কুয়াশা, বছরের নতুন গুড়ের কথা। এবং সবকিছু থেকে কেমন তাজা ফুরফুরে ঘ্রাণ ভেসে ওঠে, বেড়াতে শুকাতে দেওয়া গোবরের ঘুঁটে থেকেও।


হাতব্যথা করে জেসমিনের, দুলালের নিঃশ্বাসের গতি এখন কমে এসেছে। ওর ওটা ইঁদুরের মতো নরম হয়ে গেছে। বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে, জেসমিন ভাবে, এরপরেই সে ঘুরে শোয়, জেসমিন টের পায় দুলাল তার শরীরের ভার ওর ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। সে টেনে কামিজটা খুলে দেয় এবং জোর করে ইঁদুরটা ভেতরে দিতে চায়। কয়েক মিনিটের ভেতর তার হয়ে যায়; ফের ঘুরে শোয়।
‘পিটটা চুলকি দাও’, সে বলে, কোনো কারণে বিরক্ত বোঝা যায়। এরপর সে জেসমিনের হাতটি বগলদাবা করে ঘুমিয়ে পড়ে।


পরদিন শুক্রবার। দুলাল জানায় যে সে উত্তরায় তার বোনের বাসায় দিনটি কাটাবে। জেসমিন ভেবেছিল ওকে নিয়ে শপিংয়ে যাবে কিন্তু কিছু বলার আগেই সে চলে যায়। জেসমিন বাসে করে মহাখালী আসে।


মালার প্রতিবেশী জেসমিনকে উঠতে দেখে জিজ্ঞেস করে, ‘তাহলে তোমার সই এখন বিবাহিত? দেখো কেমন রানীর মতো দেখাচ্ছে!’
মালা গাঢ় কমলা রঙের ঠোঁটপালিশ লাগিয়েছে এবং খুব ভালো কিছু একটা তার জীবনে ঘটেছে এমন ভান করছে। মালা মোবাইলে কথা চালিয়ে যাচ্ছে, জেসমিন তার কথা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
এরপর সে জানতে চায়, ‘এটাই কি হওয়ার কথা ছেল?’

মালা বিছানা থেকে তাকায়। ‘তুই এটা করতে পারতি না?’

‘কি, আমি কি করতি পারতাম?

মালা একটা হাত টেনে ধরে। ‘সে কি ওটা ভেতরে নিয়েছিল?’

‘না।’

মালা টানা নিঃশ্বাস ছাড়ে। ‘তবে যে আমি তাকে বললাম তুই কেবল হতে পারিস…?’

‘কি হতি পারি?’

‘তার চিকিৎসা, মানে তার অক্ষমতার প্রতিকার।’

জেসমিন মালার কথা ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারে না। ‘তুই না বুল্লি তার যন্ত্র ঠিকঠাক আছে?’ জিজ্ঞেস করে মালাকে।


মালা জেসমিনের কাছ থেকে গুটিয়ে নেয় নিজেকে। সমস্যা হলো জেসমিন কখনোই ঠিক প্রশ্নটি করেনি, যে প্রশ্নটা সকলের মনে ছিল—দোকানে কাজ করা একটা লোক, যে সারাদিনেও তার হাত নোংরা করে না, সে কেন গার্মেন্টসের মেয়েদের বিয়ে করতে চাইবে, বিশেষ করে মালার মতো পঙ্গু একটা মেয়েকে। জেসমিন একদৃষ্টিতে মালার দিকে তাকিয়ে থাকে।

মালা তার হাতের দিকে চোখ নামায়। ‘আমি তাকে টাকা দিয়েছি’, সে বলে।

‘তুই দিছিস?’

‘এরপর সে আরো, আরো টাকা চাইতে থাকে। আমার অতো ছিল না। তাই আমি বলেছি তুই আর রুবি পারবি ওকে ঠিক করে নিতে। ওকে ঠেকিয়ে রাখার এই ছিল একমাত্র উপায়।’

মালার হাতের ভেতর জেসমিনের মাথা। জেসমিন তখন কাঁদছে। সে তার ভাঙা পায়ে হাত বোলাতে থাকে। জেসমিন রানাপ্লাজা ধস এবং মালার ভাইয়ের কথা ভাবতে থাকে। তার নিজের ভাইয়ের কথাও মনে পড়ে। সে ভেবে দেখে, দুলালের সমস্যাটার সমাধান করার চেষ্টা ছাড়া এখন আর কিছু করার নেই। কারণ তারা এখন ওকে বিয়ে করেছে। তার সমস্যা এখন ওদের সমস্যাও।

‘একুন কি করবু আমরা?’

‘আবার চেষ্টা কর, সবধরনের চেষ্টা।’ মালা ওর হাতে লিপস্টিকের টিউবটা ধরিয়ে দেয়। ‘এই নে এটা।’


ওই রাতে জেসমিন কুলসুমকে অনুরোধ করে বিছানার নিচে রাখা বাক্স থেকে সেন্টের শিশিটা বের করে দেওয়ার জন্য। কুলসুম অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও বের করে দেয়। যখন সে কাঁধে এবং বোগলে স্প্রে করে কুলসুম তাকিয়ে থাকে। জেসমিন ওর চোখের পাতায় পাতলা করে কাজল দেয়। ডলে ডলে ঠোঁটে ঠোঁটপালিশ লাগায়। দুলাল ওর থালাটা ধুয়ে বাইরে ড্রেনে গড়গড়া করে কুলি করে। ড্রেনের প্রান্তে জেসমিন দুলালের পাশে দাঁড়ায়। কুলি করে থুতু ফেলার পর উপরে মাথা তুলে রাতটা পরখ করে। নিচে কত রকমের শব্দ—শিশুর চিৎকার, কুকুরের ডাক, রেডিওর শব্দ, কিন্তু উপরে একেবারে শান্ত। কোনো শব্দ নেই। হতে পারে দুলাল এখানে আরো কিছুটা নীরবতা, শব্দহীনতা প্রত্যাশা করছে।
‘নেঙর পড়ছি’, জেসমিন বলে। ও দুলালকে তার বোনের কথা কুশলাদি জিজ্ঞেস করে।
‘আলহামদুলিল্লাহ’, দুলাল উত্তর করে, কিন্তু এর বেশি কিছু বলে না। ‘আমি তোমাকে একদিন নিয়ে যাবো বুবুর বাসায়’। ‘শীত আমার খুব অপছন্দের’, কুলসুম বলে, ‘আমার গতরটাকে একদম অবাশ করি তোলে।’


শীত জেসমিনকে মনে করিয়ে দেয় ওর শৈশবে মায়ের তিলচাষের কথা। বিক্রির জন্য চাষ করা হতো কিন্তু সেবার বাজারে তিলের দাম পড়ে গেলে মা হতাশ হয়ে পানি দেওয়া, নিড়ানি দেওয়া বন্ধ করে দিলেন। তারপরও গাছগুলো জেগে উঠলো আপন শক্তিতে, বাঁকা এবং সুচালো হয়ে, কেউ ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সাহস করলে পায়ে সুচের মতো বিঁধতো। খালি আমিন জানতো কেমন করে এমন সাংঘাতিক আগাছা বা ক্ষেতের ভেতর পা ফেলতে হয়। ওর পায়ের পাতা ভীষণ নরম কিন্তু দৃঢ়। জেসমিন গালে ওর পায়ের স্পর্শ মেখেছে, তালুর স্পর্শটা জেসমিনের কাছে ওর ‘ওটার’ উন্মুক্ত অংশের স্পর্শের মতো মনে হতো, এতটাই কোমল ছিল।  


‘আমি শুধু এখানে এসেছি কথা বলতে’, লাইলি মজনুর গল্পটা শেষ করে দুলাল বলে। আমিনের কাছ থেকে জেসমিন জেনেছে পুরুষ মানুষ একজন নারীকে নিংড়ে গ্রাস করে নিলে কেমন অনুভূতি হয়—যেভাবে একটা সাপ অনায়াসে একটা ইঁদুরকে পিষে দলেমুচড়ে সমস্তটা সাবাড় করে ফেলে। আমিন জেসমিনের গালে পায়ের তালুটা ঘসে দিতো একজন স্কুলমাস্টার এবং কৃষকের মেয়ের পার্থক্যটা বোঝাতে। আর ও আঙুলের গোড়ার লবণাক্ততা চেটে নিয়ে যখন জিজ্ঞেস করত ওরা কখন বিয়ে করতে যাচ্ছে, তখন আমিন এমন করে হাসত যেন এইমাত্র পৃথিবীর সেরা হাসির কৌতুকটা শুনল সে। এরপর আমিনের বউ মোড়লের কাছে বিচার চাইলো। সালিশে সাব্যস্ত হলো জেসমিন আমিনকে প্রলুব্ধ করেছে; তাকে গাঁ ছাড়া করার সিদ্ধান্ত হলো। তবে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে তবেই। এরপর তাকে শাস্তিশালায় পাঠানো হলো, যখন সে ওখান থেকে বের হয়ে এলো ওকে আর চিনবার উপায় থাকলো না—ভেঙে-মুষড়ে গেছে যেন সাপে গেলা ইঁদুর উগলে দিয়েছে। যেমনটি হয়েছিল মালার ক্ষেত্রে যখন ওরা জানিয়েছিল অনুসন্ধান সমাপ্ত হলো, ওর ভাইকে আর পাওয়া যাবে না।  এখন জেসমিন ভাবছে, দুলালের এমন কিছু কি ঘটেছে যার কারণে তার নিজেকে এই হিংস্র দানবাকৃতির পৃথিবীতে আর সবার মতো খুব তুচ্ছ সামান্য প্রাণীর মতো মনে হচ্ছে।

‘হতি পারে এই কারণেই’, সে অন্ধকারে মৃদুস্বরে কথাটা বলে।

‘কি বললে?’ দুলাল তার দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করে।

‘মানে—এতে তুমার কুনো দোষ নেই।’


দুলাল আরো নিকটে আসে। তার নিশ্বাস থেকে আঁশটে গন্ধ বের হয়। সহসা কোথা থেকে যেন একটা তীব্র আঘাত জেসমিনের একগালে এসে পড়ে। যখন সে চোখ খোলে তখন সে নিচে পড়ে, সকলে তার চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে—কুলসুম, তার শাশুড়ি, ছেলেটা আর দুলাল। ছেলেটা ওর কামিজ ধরে হেঁচকা টান দিলে সে উঠে দাঁড়ায়, পাছা-পিঠ ঝেড়ে নেয়। কেউ কিছু বলে না। জেসমিন ওর ঠোঁটের ওপাশে রক্ত আর ঠোঁটপালিশের মিশ্র স্বাদ টেনে নেয় ভেতরে।


সকালে জামাল তার দিকে একবার তাকিয়ে ছুটে যায়, ‘তোমাকে তো চামচিকার মতো লাগছে’, সে বলে। ‘তোমার আজ বাড়িতে থাকা উচিত ছিল। যদি পরিদর্শক এসে তোমার এই দশা দেখে তাহলে কি হবে ভাবতে পারো?’ ওর চোখ ফুলে উঠেছে তাই ওকে মাথা বাকিয়ে মেশিনের সুইয়ে সুতা পরাতে হয়। রুবি গ্রাম থেকে ফিরে এসেছে, ও জেসমিনকে এই অবস্থায় দেখে কেঁদে ফেলে।
‘চিন্তা করিস নি,’ জেসমিন বলে, ‘এটা তেমুন কিছু না।’ সে মালার কাছ থেকে হাত-আয়না নিয়ে টয়লেটে যায়। আয়নাতে দেখে গালের একপাশ ফুলেফেপে অন্য অংশকে কেমন নেই করে দিয়েছে। যখন সে বেরিয়ে আসে দেখে রুবি চকবার হাতে দাঁড়িয়ে। সে জেসমিনের গালে সেটা চেপে ধরে। আইসক্রিমটা প্যাকেটের ভেতর গলতে থাকে। এরপর ওরা এককোণা ছিঁড়ে দুজনে পালা করে চোষণ দেয়।


তারা ঘরে ফিরে দেখে দুলাল নেই। খানিকটা অপেক্ষা করে রাতের খাবার খেয়ে কেরোসিন ল্যাম্পের আলোয় শোওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এমন সময় দুলাল এসে চিৎকার করে ভাত চায়। জেসমিন খাবার বাড়তে বাড়তে ওকে ঢেকুর তুলতে দেখে। ‘এতো ঠাণ্ডা।’ দুলাল বলে। এরপর সেই আগের মতোই, তার পিঠের দিকে মুখ করে শোয়া, ছোট্ট ঘুমন্ত ওটা ধরে থাকা, পার্থক্য এবার কেবল রুবি নিচে কুলসুম ও তার ছেলের পাশে শুয়েছে। ‘মাথাটা বিলি কেটে দাও’, দুলাল নিচুস্বরে বলে। সে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে, মাঝরাতে জেসমিনের ঘুম ভাঙে ওর চাপা চিৎকারে। তীক্ষ্ম গোঙানির শব্দ। জেসমিন ভাবে ও স্বপ্ন দেখছে, কারণ চাঁদের চিকন আলোয় ওর মুখটা নিশ্চুপ পড়ে আছে।


রুবির যখন পালা এলো, তাকে খুব বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। মেশিনে অতিরিক্ত সুতা কাটার ফলে জামাল একবার বকেও গেল। এরপর আর ও মেশিন থেকে মাথা তোলেনি। দুপুরের খেয়ে ও টয়লেটে গেল, বেরিয়ে এলো নতুন শাড়ি পড়ে, চুল বেণী করে ফিতা দিয়ে বাঁধা। দুলাল গেইটে এসে যখন রুবিকে দেখল ওর চোখে-মুখে কড়কড়ে নোটের মতো ঝিলিক খেলে গেল। রুবি দুলালকে কিছু একটা বলে, দুলাল তা শুনে হাসতে থাকে। জেসমিন ওদের দুজনকে একসঙ্গে হাত ধরে হাসতে দেখে; রুবির বুক দুলালের পাঁজরে ধাক্কা খায় হাসির চাপে। জেসমিন ওদের হাসির শব্দ সহ্য করতে না পেরে কানে হাত চেপে ধরে।


শাস্তিঘরে পঞ্চায়েতের লোকজন জড় হয়েছিল।
সবার মুরব্বি বলেছিলেন, ‘কাপড় খোল, জাহান্নামের আগুন!’
যখন তার গায়ের কাপড় মাটিতে খসে পড়ে তিনি বললেন, ‘হাঁট এবার।’ চারিদিকে গোল করে ঘিরে তারা বসে। অকথ্য গালি ছোড়ে পচা ফল ছুঁড়ে মারার মতো করে।
‘সে একুন বাসি এটু খাবার ছাড়া আর কিছু না,’ আমিন বলেছিল। ‘মাগির শ্যাটা মরা বানমাছের মতোন গন্ধ করে। শুয়োরের জাত ও। হাঁট, হাঁট একুন! হাতটা সরা বুলছি। একুন ঢেকি রেকি সতী সাজচি চাস? এ লজ্জা তোর কুতায় ছেল যেকুন তুই বিবাহিত পুরুষকে প্রলুব্ধ করি কাছে টানতি গিছিলি? একুনই দূর হ। গাঁছাড়া হ যেনে আর কখনোই তোকে এই এলাকার তৃ-সীমানায় আমরা না দেখি।’ এরপর তারা হেসেছিল বিষাক্ত হাসি।


জেসমিন কানে হাত চেপে ধরে।


আজ শুক্রবার। জেসমিন তার জিনিসপত্র বস্তাবন্দি করে কুলসুমকে বিদায় জানায়। ওর ছেলেটা কোমরের আষ্টেপিষ্টে পা জড়িয়ে কাঁধে কামড় দেয়। নতুন ঘরের বাড়িওয়ালার হাতে টাকাটা তুলে দিতেই ইশারায় ঘর দেখিয়ে দেন তিনি। এককোণায় একটা কেরোসিন ল্যাম্প পড়ে আছে, অন্যদিকে একটা চৌকি চাপানো আছে। বিদায়ী বছরের ক্যালেন্ডার ঝুলছে দেয়ালে। চালের এক ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে ছোটখাটো ডোবা হয়ে গেছে মেঝেতে। সে পানিতে নিজের চেহারা দেখতে পায়। চোখ, মাথার আকৃতি এবং চুলে রুবির দেওয়া ক্লিপটা দেখা যায়। সে ট্রাংকটা খোলে, একজোড়া প্যান্টি পায় ওপরেই, কাজের একফাঁকে সরিয়েছিল। তুলে নেয় হাতে। প্যান্টি জুড়ে অন্য এক নারীর ছায়া-অবয়ব তৈরি হয়। জেসমিন দরজা আটকে অন্ধকার করে তোলে ঘরটা। একে একে স্যান্ডেল সালোয়ার খোলে। মেঝেতে শুয়ে পড়ে, নোংরা আবর্জনা ওর পিঠের নিচে চাপা পড়ে। প্যান্টিটা পা গলিয়ে কোমরে তোলে। ডোবার ওপরে দাঁড়িয়ে পানির ভেতর নিজের শরীরের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকে—একটা শরীর দাঁড়িয়ে আছে, পা, নিতম্ব, নিতম্বের ফুলে ওঠা মাংস। শরীরটা ওর কিন্তু কত দূরে সেটা! ধরাছোঁয়ার বাইরে। জেসমিন নিজের দিকে তাকায় আর হাসির শব্দ কানে বাজে। এখন আর এটা সেই শালিসের হাসির শব্দ না, শব্দটা ওর পাশের জলজ অস্তিত্ব থেকে আসে। সে জানে রুবি দুলালকে ঠিক করে তুলবে এবং দুলালের সঙ্গে সিনা টানটান করে ফ্যাক্টরিতে আসবে। তার ছোট্ট ঝকঝকে দাঁতের হাসি তাদের মাথার উপর বিন্যস্ত কাটিমের রংবেরংয়ের সুতার ভেতর ছড়িয়ে পড়বে। দুলাল এখন রুবিকে ওর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানে নিয়ে যাবে। রুবির বোনদের আর না খেয়ে থাকতে হবে না। জেসমিন পড়ে থাকবে এখানেই। নিজের শরীরের হাসিতে হাসবে সে। সে আর সেই পঞ্চায়েতের মেয়েটি নয়। সে এখন একজন গার্মেন্টস-কন্যা। নিজের একটা ঘর আছে। শরীরঘেঁসে শরীর—যেটা কেবলই ওর একান্ত। আর কারো নয়।


দরজাটা খুলে যায়। বিস্কুটের ঘ্রাণে ঘুরে দাঁড়ায় জেসমিন।

সাহিত্য এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com