লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ১৮৪ বার
রচনাটি স্কুলে তাঁরাও লিখেছিলেন

মোফাজ্জল করিম

বাংলারিপোর্টার.কম
শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

স্কুল-কলেজে নিয়মানুবর্তিতা বা ডিসিপ্লিন সম্বন্ধে বাংলা-ইংরেজি রচনা তাঁরাও লিখেছেন। কেউ কেউ আবার সেই রচনায় সর্বোচ্চ নম্বরও পেয়েছিলেন।


কিছু কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত ভালো ছাত্র, সুবোধ বালক বলে সুনামও ছিল তাঁদের। আবার উল্টোটাও ছিল। কেউ কেউ সেই তরুণ বয়স থেকেই পরিচিত ছিলেন গোঁয়ার গোবিন্দ বলে। যখন যা মনে চাইত তা-ই করতেন। কোনো আইন-কানুনের ধার ধারতেন না। আর সেই অভ্যাসটি যে তাঁদের এই বুড়ো বয়সেও রয়ে গেছে, তারই প্রমাণ পাওয়া গেল সেদিন রমনা পার্কের মোড়ে হেয়ার রোডে।


হ্যাঁ, পাঠক, বুঝতেই পারছেন কাদের কথা বলছি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রবিবার এঁরা ধরা খেয়েছেন রমনা পার্কের কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার মোড়ে। এঁদের কেউ মন্ত্রী, কেউ সচিব, কেউ পুলিশের কর্মকর্তা।


পুলিশ এঁদের পাকড়াও করেছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে। আর এমনি ভাগ্য, ‘পড়বি পড় মালির ঘাড়েই/সে ছিল গাছের আড়েই’। মালিটি স্বয়ং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান। ফলে অন্য সময় হলে হম্বিতম্বি করে, ‘জানো আমি কে?’-জাতীয় ডায়ালগ ছেড়ে যা-ও হয়ত পার পেয়ে যেতেন, এবারে দুদকের এই বড় কর্তাটি নিজে যেখানে সাক্ষী সেখানে গ্রহের ফেরই বলতে হবে।

 
দু’ঘণ্টার ‘অপারেশনে’ পুলিশের জালে নাকি ৫০ জন রুই-কাতলার গাড়ি ধরা পড়েছে। এসব গাড়ির মালিকের মত গাড়িগুলোও বেশির ভাগ চকচকে ঝকঝকে, বিশালবপু। মালিকেরা গাড়িতেই ছিলেন এবং ধারণা করা যায় যে সে কারণেই চালকেরা আদিষ্ট হয়ে অথবা এক ধরনের সাহস পেয়ে উল্টো পথে চালাচ্ছিল গাড়ি। ফলে ঢাকা শহরের ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ‘সুনাম’ অর্জনকারী ট্রাফিক জ্যামের যে কী বেহাল অবস্থা সেই অকুস্থলে হয়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়।


প্রশ্ন জাগে, এসব গাড়ির মালিকেরা কি মনে করেন, বাংলাদেশের ট্রাফিক আইন তাঁদের বেলা প্রযোজ্য নয়? নাকি তাঁদের প্রত্যাশা, পুলিশ বাহিনীর কর্তব্যরত সদস্য তাঁদের পরিচয় পেয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো স্যালুট ঠুকে অন্য সব আইন মান্যকারী চালকদের থামিয়ে দিয়ে তাঁদের চলার পথ সুগম করে দেবে—এটাই নিয়ম? তা হলে আইনের চোখে সবাই সমান—এ ধরনের কথা-টথা না বলে দেশে দুই ধরনের আইন চালু করলেই হয় : একটি আইন হবে সাধারণ মানুষের জন্য, অন্যটি হবে যাঁরা আইন প্রণয়ন করেন এবং যাঁরা সেই আইন প্রয়োগের দায়িত্বে আছেন তাঁদের জন্য। তা হলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবে না—এটা সাধারণ মানুষের জন্য আইন। আর উল্টো পথে, সিধা পথে, যে দিকে খুশি, যে রকম খুশি, গাড়ি চালানো যাবে—এটাও আরেকটি আইন, তবে তা কেবলমাত্র ক্ষমতাধরদের জন্য। ব্যস, অতঃপর ‘ড্রেস অ্যাজ ইউ লাইক’-এর মত ‘ড্রাইভ অ্যাজ ইউ লাইক’, কেউ কিস্সু বলবে না।


দুই.

আসলে আমাদের সমাজে তুল্যমূল্য জ্ঞান কোনোকালে ছিল মনে হয় না। ধনী-গরিব, গুরু-চণ্ডাল ভেদাভেদ সেই আদিকাল থেকে চলে আসছে। এতে কখনো ধর্ম, কখনো সামাজিক প্রতিপত্তি বা মর্যাদা, কখনো অর্থবিত্ত নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। গুরু আর চণ্ডাল এক পঙিক্ততে উপবেশন করবে না, এটা মোটামুটি স্বীকৃত পদ্ধতি ছিল সর্বকালে। এখনো আছে। মিয়ার বেটাকে সালাম না দিয়ে তারই সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় গট গট করে কলিমদ্দি-সলিমদ্দির পোলা চলে যাবে—এত বড় ‘বেআদবি’ আমাদের সমাজে আজও বরদাশত করা হয় না। এগুলো আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে আছে। অতএব, এসব নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হয় না। তাই বলে মিয়ার ব্যাটা আইন ভঙ্গ করে গ্রামে একটা আকাম-কুকাম করবে, আর গ্রামবাসী দশজনে সেটা মেনে নেবে, তা তো হয় না। মন্ত্রী মহোদয়, এমপি সাহেব, সচিব সাহেব, পুলিশ সাহেব তাঁদের পদমর্যাদা অনুযায়ী সালাম পাবেন, কুর্নিশ পাবেন, কুরসি পাবেন, ফুলের মালা-টালা সবই পাবেন, ঠিক আছে, তাই বলে আপনাদেরই বানানো আইন ভঙ্গ করে যেদিকে খুশি গাড়ি চালাবেন, যখন খুশি, যেমন খুশি আইন-কানুন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করবেন, তা তো হতে পারে না।


আমাদের সামাজিক ব্যবস্থায় এই যে ‘মুখ চিনে মুগডাল’ দেওয়ার রীতি, এটা এক অদ্ভুত কালচার। আপনি একটা জিনিস কিনতে গিয়ে দোকানির কাছ থেকে দারুণ মান-ইজ্জত-তোয়াজ পেলেন, কারণ আপনি সমাজে কেউকেটা একজন। আর আরেক নামগোত্রহীন ব্যক্তিকে একই মূল্যে সেই বস্তুটি একই দোকানির কাছ থেকে কিনতে গিয়ে কখনো-সখনো নিগৃহীত হতে হয় তার কোনো বলার মত পরিচয় না থাকায়, সে ‘পাবলিক’ বলে। কোথাও লাইন দিয়ে টিকেট বা এই ধরনের কিছু সংগ্রহ করার কথা থাকলেও আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হয় না যদি আপনি ‘স্যার’ কিসিমের কেউ হন, অথবা মাস্তান হিসেবে আপনার পরিচিতি থাকে। আমাদের সমাজে এটাই চলে আসছে। অথচ আইনের কেতাবে, দেশের সংবিধানে সব মানুষের সমান অধিকারের কথা লেখা আছে। কোথাও বিত্তশালী ক্ষমতাশালীদের জন্য এক নিয়ম ও সমাজের নিচতলার বিত্তহীন মানুষের জন্য আরেক নিয়মের কথা লেখা নেই।


হ্যাঁ, গুণী ব্যক্তিদের সম্মান করতে হবে, গুণের কদর করতে হবে—এটা ঠিক আছে। পৃথিবীর সব দেশেই তা করা হয়। কিন্তু শুধু পদ-পদবিকে, অর্থবিত্তকে, পেশিশক্তিকে তোয়াজ করে চলতে হবে—এটা কেমন কথা? পদ-পদবি, অর্থবিত্ত, পেশিশক্তি কি কোনো গুণ যে সেই গুণের কারণে ব্যক্তিটিকে খাতির-তোয়াজ করতে হবে? নাগরিক হিসেবে এরূপ ব্যক্তির যেটুকু অধিকার, এসব যার নেই, পথের ভিখারি সেই অজ্ঞাতকুলশীল মানুষটিরও সেটুকু অধিকার। এটা ভুলে গিয়ে তোয়াজ-তোষামোদে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি বলেই ওপরতলার মানুষেরা উল্টো পথে গাড়ি চালানো দোষের মনে করেন না, বরং মনে করেন এটা তাঁদের অধিকার। তাঁদের এই ঠুনকো পদমর্যাদাবোধের মূলে মাঝে মাঝেই ২৪ সেপ্টেম্বরের মত কুঠারাঘাত করতে হবে, তাতে যদি চৈতন্যোদয় হয় এসব মানুষের।


তিন.

আমাদের ছোটবেলা থেকে এটা নেই, ওটা নেই শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে আমরা বড় হই। ধন-সম্পদে অনুন্নত একটা দেশে এটা স্বাভাবিক। এই সম্পদহীনতা আমাদের অনুন্নয়নের জন্য বহুলাংশে দায়ী, এটা অস্বীকার করা যায় না। এটাকে মেনে নিয়েই জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আর মাশাআল্লাহ যাচ্ছিও বটে।


তা এত ‘নেই’য়ের মধ্যে, আমার মতে, সবচেয়ে বড় নেই যেটা, সেটা হচ্ছে ডিসিপ্লিন বা নিয়মানুবর্তিতা। জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে যেটার উপস্থিতি অপরিহার্য, সেটাই অনুপস্থিত আমাদের জীবনে। আমরা স্কুলে ডিসিপ্লিন সম্বন্ধে রচনা মুখস্থ করি, ডিসিপ্লিন শিখি না। শিখব কী করে? যিনি শেখাবেন সেই শিক্ষক মহোদয় তো রোজ স্কুলে আসেন আধাঘণ্টা-এক ঘণ্টা দেরিতে। ব্যস, বাচ্চারাও জেনে গেল কোথাও দেরিতে যাওয়া দোষের কিছু নয়। যেকোনো কাজ নিয়মমাফিক করা, সময়ের কাজটি সময়ে করা, জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা মেনে চলা—এসব একটি শিশুকে তার জীবনের শুরু থেকে পইপই করে না শেখালে, না বোঝালে, সর্বোপরি বাবা-মা, ভাই-বোন, শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশী যাদের কাছ থেকে সে শিখবে, তারা ‘আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও’ নীতি না মেনে চললে এই শিশু জীবনেও শৃঙ্খলাপরায়ণ হবে না। ফলে পরিণত বয়সে সে নানা রকম শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে। একজন আদর্শবান পিতা বা শিক্ষক তার রোল মডেল না হয়ে সে গুরু মানবে পাড়ার মাস্তানকে।


আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রায় সব ক্ষেত্রে আমরা নিয়ম-কানুন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চলেছি। আফিস-আদালত-শিক্ষাঙ্গন কোথাও ডিসিপ্লিন মেনে চলার তাগিদ নেই। রাস্তাঘাটে লেগে আছে চরম বিশৃঙ্খলা। সেখানে মনে হয় আইন না মানাটাই আইন। গাড়িঘোড়া ইচ্ছামত চলছে, চালকেরা যত জোরে খুশি গাড়ি চালাচ্ছে, ওভারটেক করছে, রাস্তার সাইন-সিগন্যালের কোনো তোয়াক্কা করছে না। এককথায় রাস্তায় নিয়ম-কানুন-শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। উঁচু উঁচু দালানে সামান্য লিফটে ওঠা নিয়ে যে ঠেলাঠেলি, তা দেখলে অবাক হতে হয়। লাইন ধরে দাঁড়ানোর নিয়ম সেখানে। কিন্তু না, আমি বড় সাহেব, আমি কেন লাইনে দাঁড়াব, আমি নেতা, আমি মাস্তান, আমি সবার আগে লিফটে উঠব—এটাই নিয়ম!


অথচ দৃশ্যপট একটু ভিন্ন রকম হলেই চিত্রটি পাল্টে যায়। ঢাকা শহরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সব সময় কী যানজট, আর এক শ গজ দূরে জাহাঙ্গীর গেইট পার হয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢুকলেই সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। যে মাস্তান সাহেব এতক্ষণ গাড়ি চালাচ্ছিল মাস্তানের মত, সে এখন আলিফের মত সোজা। ক্যান্টনমেন্ট এলাকা যেন আরেক দেশ। তা-ও দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ নয়, যেন সিঙ্গাপুর। কেন? না, ওখানে যেসব আইন-কানুন বলবৎ আছে, তা সবার জন্য সমান। ওই সব আইন করা হয়েছে ভাঙ্গার জন্য নয়, পালন করার জন্য। তেমনি দেশে যে ছেলের দস্যিপনায় সবাই অস্থির ছিল, সেই ছেলে সৌদি আরব-ইউকে-ইউএসএ কিংবা ফ্রান্স-ইতালি-কোরিয়াতে গিয়ে একেবারে গুডবয়। দেরিতে কাজে যাওয়া, কাজে ফাঁকি দেওয়া, কাজের সময় আড্ডা দেওয়া—এগুলো কাকে বলে সে জানেই না। বিদেশিরা সার্টিফিকেট দেয় : বাংলাদেশি ওয়ার্কাররা ভেরি গুড।


ইদানীং টিভির পর্দায় রোজ দেখা একটা দৃশ্যের কথা মনে পড়ে গেল। দৃশ্যটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের। এই সেদিনও সেখানে রিলিফ বিতরণের সময় যে হুড়োহুড়ি, কাড়াকাড়ি, মারামারি দেখেছি, তা দেখে সবারই খারাপ লাগার কথা। একেকটা ট্রাক থেকে হরিলুটের বাতাসার মত রিলিফের পুঁটলি ছুড়ে ফেলা হচ্ছে, আর তা-ই দখল করতে রিলিফপ্রত্যাশী অভুক্ত অসুস্থ শত শত মানুষ কাড়াকাড়ি করছে। শিশু-বৃদ্ধ-মহিলা ও জরাক্রান্ত মানুষ পিষ্ট হচ্ছে পদতলে। তাদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে উঠছে ক্যাম্পের বাতাস। …এর পরেই রিলিফ বণ্টনের দায়িত্ব পেল সেনাবাহিনী। আর সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাজিকের মত বদলে গেল দৃশ্যপট। আমরা টিভিতে দেখছি, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা হচ্ছে রিলিফ। আর গ্রহীতাদের মধ্যেও নেই সেই মারামারি-কাড়াকাড়ি। সবাই তার প্রাপ্যটুকু পাচ্ছে নিয়মমাফিক। এটা কী করে সম্ভব হলো? এখানেও সেই শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা, একজন সৈনিকের জীবনের যেটা পহেলা সবক।


চার.

বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন কম নয়। শত প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের প্রবৃদ্ধির পালে বাতাস লেগেই চলেছে। এর জন্য বাহবা পাওয়ার প্রথম দাবিদার আমাদের জনগণ—আমাদের কৃষক, শ্রমিক এবং অগণিত খেটে খাওয়া মানুষ। এরা প্রমাণ করে ছেড়েছে, এ দেশের মানুষ অমিত সম্ভাবনার অধিকারী। এরা শুধু যে কঠোর পরিশ্রম করতে পারে তা নয়, তারা তাদের মেধা খাটাতেও পারে।


শুধু দু’টি ‘নেই’ আমাদের সব সম্ভাবনা দাবিয়ে রেখেছে। তা হলো ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন ও জাতীয় জীবনে নিয়ম-কানুন-শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন এবং সেই সঙ্গে সততার অভাব। আমাদের সব আছে—নেই শুধু শৃঙ্খলা, নেই নিয়মানুবর্তিতা, নেই সততা। এ যে কত বড় শূন্যতা তা হয়ত জাতি হিসেবে আমরা একদিন বুঝতে সক্ষম হব। ভয় হয়, তখন না আবার বড্ড বেশি দেরি হয়ে যায়।


আর অবশ্যই এই উপলব্ধিটা সর্বাগ্রে আসতে হবে যাঁরা চোখ থাকতেও কানা, কান থাকতেও কালা, মুখ থাকতেও বোবা—সেই সব জ্ঞানপাপীর মধ্যে, যাতে তাঁরা আর উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে সমগ্র জাতিকে উল্টো পথে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস না পান। আশ্চর্য, যাঁদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ শিখবে ডিসিপ্লিন কাকে বলে, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা কাকে বলে, তাঁরাই অহরহ স্থাপন করে চলেছেন কুদৃষ্টান্ত। ইচ্ছে হয় তাঁদের জিজ্ঞেস করি : স্যার, ডিসিপ্লিন মানে কী? নিয়মানুবর্তিতা কাকে বলে একটু বুঝিয়ে বলবেন কি?


আর ওগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যে তাঁদের অর্থদণ্ড না দিয়ে এক শ বার নিয়মানুবর্তিতা ও এক শ বার ডিসিপ্লিন বিষয়ে রচনা লিখতে দিলে কেমন হয়?


লেখক : সাবেক সচিব, কবি

মতামত এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com