লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৩৪ বার
বাংলাদেশের এই ছয় ফোর্সের ভয়ে শত্রুপক্ষ কাঁপে,-অভিমত ভারতের
বাংলারিপোর্টার.কম
মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০১৭

বাংলাদেশের সন্তানরা নানা সংস্থার মাধ্যেমে দেশসেবায় নিয়োজিত আছে। সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশ,বিজিবি, আনসার দেশের জন্য কাজ করে। এর পাশাপাশি অনেক গোয়েনন্দা সংস্থা ও বিশেষ বাহিনী বাংলাদেশে সক্রিয়। কাজের ধরন অনুযায়ি এসব বাহিনী পরিচিত। তবে গোয়েন্দা বাহিনীতে দেশের মেধাবীরা কাজ করছেন সবার আগোচরে। সরকারের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিরাই এ বিষয়ে ভালোভাবে অবহিত। স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্স, গুপ্তচর, ইন্টেলিজেন্স, কমান্ডো- এইসব বিষয়ে সবারই একটা আগ্রহ থাকে। ওদের ট্রেনিং, কাজের ধরণ, গোপনীয়তা- সবকিছু যেন লাইভ থ্রিলার মুভি! বাংলাদেশেও স্পেশাল অপারেশন ফোর্স রয়েছে।

এক নজরে সেগুলির একটি সংক্ষিপ্ত তথ্য:

 
পিজিআর:
প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বা পিজিআর বেশ শক্তপোক্ত অবস্থানে ছিল জিয়া ও এরশাদ আমলে। স্বাভাবিক, তখন দেশ চালাতেন রাষ্ট্রপতি, তাই তাদের গার্ড রেজিমেন্টই হবে একটা স্পেশাল ফোর্স। কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রী নির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা আসায়, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ওই পালক থাকল, থাকল স্পেশাল ফোর্স নামটা।


এনএসআই:
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা। ন্যাশনাল সিকউরিটি ইন্টেলিজেন্স। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর। ডাইরেক্টরেট জেনারেল অভ ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স। যুগযুগ ধরে এই বেসামরিক সংস্থাটি বাংলাদেশের প্রাইম গোয়েন্দা সংস্থা ছিল। দেশের প্রতিটা জেলায়, প্রতিটা থানায় রয়েছে অফিস। সমস্ত কিছু হয় গোপনে। এমনকি তাদের হেডকোয়ার্টারও পুরোপুরি আন্ডারকাভার।


ধরণ: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অখন্ডতা, বাইরের দেশের হুমকির বিষয়গুলি দেশের ভিতরে ট্যাকল করা, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স। গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করে তা বিশ্লেষণ করা ও প্রয়োজন অনুসারে সরকারকে জানানো।


ট্রেনিং: পুরোপুরি গোপনীয়। দেশে ও দেশের বাইরে। তবে, আর্মি, নেভি, এয়ার, ডিজিএফআই’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ট্রেনিং হয়, তাদের ফ্যাসিলিটিতে।


গোপনীয়তা: সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পরিচালিত।

সোয়াট:
স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স
আমেরিকার সোয়াট টিমের আদলে, তাদেরই অর্থায়নে, তাদেরই ট্রেনিংয়ে এবং তাদেরই সব ইক্যুইপমেন্টে সজ্জিত হয়ে বাংলাদেশেও যাত্রা শুরু করে তাদেরই সমান আকৃতির একটা সোয়াট টিম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স টিম- সোয়াট।


ধরণ: ছোট্ট টিম, পুরোপুরি উদ্ধার অভিযান কেন্দ্রীক। সোয়াটের ধারণাটা সুন্দর। শুরু আমেরিকায়। যেসব সংস্থায় সশস্ত্র উদ্ধারকাজ দরকার হতে পারে, তেমন সব সংস্থার জন্য একই ধরনের একটা করে টিম গঠন করে দেওয়া হয়। এই টিমগুলির ট্রেনিং একই রকম, সামান্য এদিক সেদিক। কিন্তু তারা থাকবে লোকালাইজড সংস্থার সঙ্গে । যেমন, এফবআই’র নগরভিত্তিক প্রতিটা অফিসে, পুলিশের প্রতিটা বড় ইউনিটে ছোট একটা করে সোয়াট টিম, কোস্টগার্ড, বর্ডারগার্ড, কাস্টমস, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন- সর্বত্র।


নিয়োগ: খুবই শক্তপোক্ত নিয়োগ হয় এই ফোর্সটায়। শারীরিক হার্ডওয়ার্কের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। আকৃতি: সব সোয়াট টিমই পঁচিশ-পঁয়তাল্লিশজনে সীমাবদ্ধ।


ট্রেনিং: লোকে বলে, ফুড সাপ্লিমেন্ট দিয়ে তাদের ব্যায়ামের পরিমাণ ও সহ্যক্ষমতা বাড়ানো হয়, তারপর এক্সটেন্সিভ এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে তৈরি করা হয় মাসলম্যান।


গোপনীয়তা: মনে তো হয় খুব। কারণ, কোন অপারেশনের কথা জানা যায় না, স্ট্রিট ডিউটি (যা মূলত শো অফ) এই দেখা গেছে বাংলাদেশের সোয়াটদের।


কাজের ক্ষেত্র: ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত।


বিশেষায়িত অস্ত্র: মার্কিন সোয়াট ও মেরিন স্ট্যান্ডার্ডের সব অস্ত্র। সামনে নাকি হামভি জিপও আনা হবে কাজে গতি সঞ্চারের জন্য।


ফরমেশন কম্যান্ডো কোম্প্যানি:
ধরন: দুই থেকে তিনটা প্ল্যাটুন নিয়ে এক কোম্পানি। একজন ক্যাপ্টেন বা মেজরের অধীনে আর্মি ফরমেশনগুলিতে একটা করে কম্যান্ডো কোম্প্যানি থাকার কথা। প্রতি ডিভিশনেই (বা ক্যান্টনমেন্টে) আছে এমন কোম্পানি।


ট্রেনিং: চার থেকে ছয় মাসের অকল্পনীয় ট্রেনিং। গোপনীয়তা: তেমন কিছু নেই। নামেই যার পরিচয়।


বিশেষায়িত অস্ত্র: টাইপ ফিফটি সিক্সের লাইট ফুলমেটাল ভার্শন (এখানে সবচেয়ে সাধারণ), বিশ্ব কাঁপানো উজি মেশিন পিস্তল ও সাবমেশিনগান, মার্কিন এম ফোর কারবাইন, স্পেশাল ফোর্সেস শর্ট ব্যারেল স্পেশাল এডিশন কারবাইন, কমান্ডো গ্রেনেড-নাইফ-ভেস্ট-এস্কেপ টুলস।


কাজের ক্ষেত্র: সামরিক। শত্রুব্যুহভেদ। শত্রুরেখার পিছনে কাজ। গোপন তথ্য উদ্ধার/ গোপন স্যাবোট্যাজ। স্পেশাল অ্যাসাইন্ড কিলিং। স্পর্শকাতর উদ্ধারকাজ বা শত্রুবাহিনীর মূল কোন একটা পয়েন্ট গুঁড়িয়ে দেওয়া।


সিটিআইবি:
কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো।


ধরন: সন্ত্রাস দমন


নিয়োগ: ডিজিএফআই থেকে। ডিজিএফআই’র একটা পরিদপ্তর এই উপ-সংস্থা। কিন্তু এর সক্ষমতা ব্যাপক, তাই কোথাও কোথাও একে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়।


ট্রেনিং: পৃথিবীর বড় বড় অ্যান্টি টেররিজম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আদান-প্রদান হয় ট্রেনিংয়ে।


কাজের ক্ষেত্র: শুধু বড় আয়তনের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নিয়ে ডিপকাভার তদন্ত, প্রয়োজনে আরো ডিপ আক্রমণ।


র‍্যাব:
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন


ধরন: কাউন্টার টেরোরিজম, অ্যান্টি ড্রাগ অ্যান্ড নারকোটিকস, স্পেশাল সেফটি অ্যান্ড সিকউরিটি, ইন্টারনাল ব্ল্যাক অপস।


নিয়োগ: সেনাবাহিনী ৪৪%, পুলিশ ৪৪%, বিজিবি-আনসার-নেভি-এয়ার বাকি ৬%।


ট্রেনিং: রেবের ফিল্ডে থাকা সবার ট্রেনিং একই মানের নয়। গোয়েন্দা শাখার ট্রেনিং বিশ্বমানের, ইন্টারোগেশনও সর্ব্বোচ্চ শ্রেণীর। ব্যাবের শুরুতে যখন গঠিত হয়, তখন পুরো ফোর্সের অর্ধেকই ছিলেন শুধু আর্মির প্যারাকমান্ডো। পরে তাদের সবাইকে মূল সার্ভিসে রিপ্লেস করা হয়।


গোপনীয়তা: কাজের শ্রেণীভেদ অনুযায়ী। কখনো কখনো ব্ল্যাকঅপসেও গোপনীয়তা রাখা হয় না।


কাজের ক্ষেত্র: সন্ত্রাস দমন, গোয়েন্দা নজরদারী।


বিশেষায়িত অস্ত্র: উজি সাবমেশিনগান, অ্যাডভান্সড টাইপ ফিফটি সিক্স, আরো অনেক কিছু।


এসএসএফ:
স্পেশাল সিকউরিটি ফোর্স


ধরন: সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার বিশেষায়িত বাহিনী। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে গঠিত ছিল, বর্তমানে মেজর জেনারেলের অধীনেও কাজ করে।


নিয়োগ: তিন বাহিনী থেকে। অপারেটিভরা সাধারণত ক্যাপ্টেন বা সমমানের পদবী থেকে আসা।


আকৃতি: বলা হয় হাজার আড়াই।


গোপনীয়তা: পুরোপুরি। ফিল্ডের অনেক কাজ বাস্তবায়নে পুলিশ-রেব এমনকি সেনাবাহিনীও কাজে লাগানো হয়।


কাজের ক্ষেত্র: প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি, সফর সঙ্গী হওয়া।


বিশেষায়িত অস্ত্র: ইলেক্ট্রনিক জ্যামার ফিফটিন রাউন্ড পিস্তল, স্পেশাল স্নাইপার রাইফেল।

জাতীয় এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com