লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ১০৪ বার
সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অক্টোবর বিপ্লব

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বাংলারিপোর্টার.কম
শনিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৭

সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অক্টোবর বিপ্লবের বিশেষ অবদান অনেকগুলো ধারণার। যেমন—শ্রেণিসংগ্রাম, ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, উদ্বৃত্ত মূল্য, ওপরকাঠামো-অবকাঠামো সম্পর্ক, বিচ্ছিন্নতা, ধর্মের ভূমিকা, বুর্জোয়া-সর্বহারা পার্থক্য, উৎপাদনব্যবস্থা এবং ব্যক্তির জীবনে রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকা।


কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাটি মনে হয় ইতিহাসচেতনা। রেনেসাঁস যেমন মানুষকে শিখিয়েছে ইহজাগতিক হতে, অক্টোবর বিপ্লব তেমনি শেখাল ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হতে। ইতিহাসের এই চেতনা অন্য সব ধারণাকে ধারণ, সমর্থন ও পুষ্ট করেছে।


ইহজাগতিকতার বোধ আগেও ছিল; কিন্তু মাঝখানে, তথাকথিত মধ্যযুগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ধর্মবাদিতার কারণে। ঈশ্বর তখন প্রধান হয়ে উঠেছিলেন মানুষের পরিবর্তে। এবং এই ধারণাটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল যে মানুষের জীবনের চরিতার্থতা নির্ভর করে নিজের ইহজাগতিক অর্জনের ওপর নয়, ঈশ্বরের ইচ্ছাপূরণের ওপরই। রেনেসাঁ চিন্তার এই ধারায় বিপ্লব এনেছে; ব্যক্তিকে সে মুক্ত করতে চেয়েছে ঈশ্বরমুখাপেক্ষিতা থেকে। একই সঙ্গে সংস্কার এনেছে ধর্মজগতেও। বাইবেল অনূদিত হয়েছে স্থানীয় ভাষায়, পোপের আধিপত্য খর্ব হয়েছে, আবির্ভাব ঘটেছে প্রটেস্ট্যান্ট মতবাদের, ধর্মকেন্দ্রিক হোলি রোমান এম্পায়ার ভেঙে পড়েছে, নড়াচড়া দিয়ে উঠেছে জাতীয়তাবাদী চেতনা, দুঃসাহসী নাবিক ও দস্যুরা জাহাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে সমুদ্র জয় এবং নতুন ভূমি আবিষ্কার ও দখলের জন্য।
বাণিজ্য অবাধ হয়েছে, বাণিজ্যের অধিকারকে মনে করা হয়েছে মস্ত স্বাধীনতা। ওদিকে সামন্তবাদ ভেঙে পড়েছে, অভ্যুদয় ঘটেছে পুঁজিবাদের। বাণিজ্যের জন্য কম্পানি গঠিত হয়েছে। নানা দেশ থেকে মানুষ কিনে এনে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে শ্রমিক হিসেবে। ইউরোপজুড়ে তখন নবজাগরণের চাঞ্চল্য; নতুন উদ্দীপনা, নবীন আস্থা। পথ খুলে গেছে শিল্প বিপ্লবের জন্য।

 
ইহজাগতিকতার উপাদান ছিল দুটি। একটি দার্শনিক, অপরটি রাজনৈতিক। দার্শনিক ভাবে পরকালের চেয়ে ইহজগৎ বড় হয়ে উঠেছে; রাজনৈতিক ভাবে রাষ্ট্র এবং ধর্মকে আলাদা করা হয়েছে। রেনেসাঁসের একজন নির্ভরযোগ্য মুখপাত্র ফ্রান্সিস বেকন। তিনি ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন; কিন্তু ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায়, রাষ্ট্র থাকবে রাষ্ট্রের জায়গায়—এই নীতি প্রচার করেছেন। কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিকতার এবং একই বিষয়ে গ্যালিলিওর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে তিনি ভালোভাবেই জানতেন; কিন্তু পৃথিবীকে কেন্দ্রে রেখে সূর্য যে আবর্তিত হচ্ছে এই প্রচলিত বিশ্বাসের ছাপ তাঁর রচনায় আছে। বেকনের বক্তব্য ছিল এই যে সত্য এক রকমের নয়, দুই রকমের; কিছু সত্য বিশ্বাসের, কিছু সত্য ধর্মের, তারা উভয়েই থাকবে, তবে একটি অপরটিকে হটিয়ে দিতে চাইবে না।


ইহজগেক বড় করে তোলার এ ধারণার প্রভাব শিল্পসাহিত্যে সংস্কৃতি দার্শনিক চিন্তা সর্বত্র বিস্তৃত হয়েছে এবং বিপ্লব ঘটিয়ে তবে ছেড়েছে। মুনাফা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিবেচনা চলে এসেছে। ব্যক্তির সঙ্গে সমষ্টির সম্পর্কটা বিবেচনার জরুরি বিষয় হয়ে উঠেছে। আর সব কিছুর ভেতরই রয়েছে ইতিহাস। ইতিহাসের ধারণা গেছে বদলে। মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদীরা এ সত্য পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে প্রতিটি জনসমষ্টিকেই সমাজতন্ত্রের দিকে এগোতে হবে নিজেদের ইতিহাসের ভেতরে থেকেই এবং সে কারণে নিজস্ব রণকৌশল নির্ধারণ করার মধ্য দিয়ে; যদিও সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা আসবে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে। বিপ্লবকে তাঁরা আমদানি-রপ্তানির বস্তু মনে করেন না। বিপ্লবও ইতিহাসের অধীন; যদিও সে ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যায়।


কমিউনিস্ট ইশতেহারের প্রথম বাক্যটিই ইতিহাসের নতুন ধারণা নিয়ে। সেখানে বলা হচ্ছে, এ পর্যন্ত বিদ্যমান সমাজের ইতিহাস হচ্ছে শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। বাক্যটি দুঃসাহসিক। ইশতেহারটি লেখার সময় মার্ক্সের বয়স ছিল ৩০ বছর, সহযোদ্ধা বন্ধুর বয়স আরো কম, মাত্র ২৮ বছর। মনে হবে রচনাটি দুই তরুণের রোমান্টিক কল্পনা বুঝি। কিন্তু তাঁরা ওই ধারণায় পৌঁছেছিলেন ধারাবাহিক অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে। তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন ইতিহাসকে এবং ইতিহাসের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতে পেয়েছেন শ্রেণির সঙ্গে শ্রেণির দ্বন্দ্বকে। প্রচলিত ধারণাটি হলো ইতিহাস এগোয় সহযোগিতার ভেতর দিয়ে, তার অগ্রগতিতে বড়জোর কার্যকারণ সম্পর্ককেও মেনে নেওয়া যায়; কিন্তু শ্রেণিদ্বন্দ্ব ও তার ফলে ইতিহাসের অগ্রসরমাণতার কথাটি ছিল একেবারেই নতুন। রচয়িতা দুজন পরে এই সংশোধনী যোগ করেছেন যে ইতিহাস বলতে বুঝতে হবে লিখিত ইতিহাস; কিন্তু ইতিহাস সম্পর্কে তাঁদের মূল চিন্তাটি বদলায়নি। তাঁরা দেখিয়েছেন যে মানুষই ইতিহাস তৈরি করে, তবে ইতিহাস তৈরি হয় ইতিহাসের ভেতরে থেকেই, বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। সেই সঙ্গে এটিও দেখিয়েছেন যে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা যদি খুঁজতে হয়, তবে যেতে হবে ইতিহাসের কাছেই। কিছুটা কৌতুক করে অনেকে বলে, মার্ক্সবাদ ঈশ্বরকে সরিয়ে দিয়ে সে জায়গায় নতুন এক ঈশ্বরকে এনে বসিয়ে দিয়েছে, তার নাম ইতিহাস।


ইতিহাস এগোয় পূর্ববর্তী ইতিহাসকে আত্মসাৎ করে। মার্ক্স নিজেই বলেছেন যে তাঁর চিন্তাধারা গড়ে উঠেছে জার্মানির দর্শন, ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং ফ্রান্সের সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির ধারণাকে ব্যবহার করে। লেনিন এসে মার্ক্সবাদকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন। লেনিনদের অক্টোবর বিপ্লব না ঘটলে মার্ক্সবাদ চমৎকার একটি তত্ত্বই থেকে যেত। পরবর্তী সময় চীন বিপ্লবের ভেতর দিয়ে মাও জেদং মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।


মানুষই ঈশ্বরকে তৈরি করেছে, নিজের প্রয়োজনে এবং মেহনতি মানুষ যে ধর্মের কাছে যায় সেটাও কোনো আধ্যাত্মিক কারণে নয়, যায় আশ্রয়ের খোঁজে। ইতিহাসের ধর্মের এই ভূমিকাকে মার্ক্স পরিষ্কার করে দেখিয়েছেন। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে মানুষ যেমন উপশমের জন্য আফিম খায়, তেমনি তারা ছোটে ধর্মের কাছে। একালে পুঁজিবাদের অত্যাশ্চর্য বিকাশ ঘটেছে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের বিশেষ একটা তফাত নেই; উভয়েরই লক্ষ্য মুনাফা অর্জন। পুঁজিবাদের বিকাশে বাণিজ্যের ভূমিকাটি ছিল একেবারে প্রাথমিক। এখনো তা সমানে চলছে।


সামন্তবাদের নিগড় ভেঙে পুঁজিবাদ যখন বের হয়ে আসে তখন ব্যক্তিকে মুক্ত করবে বলে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। রেনেসাঁ ও পুঁজিবাদ পরস্পরের হাত ধরাধরি করে ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্বের স্বাতন্ত্র্যকে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু অচিরেই দেখা গেল পুঁজিবাদ পুঁজির যারা মালিক তাদেরই শুধু মুক্তি দিচ্ছে। তাদের সংখ্যা অল্প, কমিউনিস্ট ইশতেহারে বলা হয়েছে, শতকরা ১০ জন; বাকি ৯০ জন বঞ্চনার জালেই আটকা পড়ে রইল। আগে যেমনটা ছিল। সামন্তবাদের সঙ্গে পুঁজিবাদের পার্থক্য অনেক দিক দিয়েই; কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপারে নয়। সামন্তবাদের মতোই পুঁজিবাদও ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে মেনে নেয়; শুধু তা-ই নয়, পুঁজিবাদ ব্যক্তিমালিকানাকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে। রাষ্ট্র হয়ে দাঁড়ায় ব্যক্তিমালিকানার সশস্ত্র পাহারাদার। সমাজতন্ত্রের সঙ্গে আগের দুটি ব্যবস্থার মৌলিক ব্যবধান এখানেই যে সমাজতন্ত্র ব্যক্তিমালিকানায় বিশ্বাস করে না, মালিকানার সামাজিকীকরণ ঘটাতে চায়।


বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের আসলে কোনো মিলই নেই। বুর্জোয়া গণতন্ত্র ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য দায়বদ্ধ; সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র চায় ওই ব্যবস্থার অবসান। মেহনতিদের একনায়কত্ব কোনো বিশেষ ধরনের সরকার নয়, এ হচ্ছে রাষ্ট্রের ওপর মেহনতিদের কর্তৃত্বের একটি ব্যবস্থা, যেটি পুরোপুরি গণতান্ত্রিক। মেহনতিদের একনায়কত্ব শুনতে খারাপ; কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় যে গণতন্ত্র সেটি যে বুর্জোয়াদের একনায়কত্ব ভিন্ন অন্য কিছু নয়, সেটা তো নির্মম বাস্তবতা। বুর্জোয়া গণতন্ত্রের কথা সুন্দর করে আব্রাহাম লিংকন বলেছেন তাঁর বহুপরিচিত গ্যাটিসবার্গ বক্তৃতায়। সেখানে গণতন্ত্র বলতে তিনি জনগণের সরকারই বুঝিয়েছেন, জনগণের রাষ্ট্র বোঝাননি; শ্রেণিহীন সমাজের প্রশ্ন তো ওঠেইনি। ওই বক্তৃতায় স্বাধীনতার পাশাপাশি আমেরিকান জাতি এবং খ্রিস্টীয় ঈশ্বর, উভয়েরই উল্লেখ আছে। বক্তৃতাটি তিনি দেন ১৮৬৩ সালে; এর ১৫ বছর আগে রচিত কমিউনিস্ট ইশতেহারে কিন্তু জাতি নেই, ঈশ্বরে আস্থা নেই, আছে মেহনতি মানুষের আন্তর্জাতিক ও সংগ্রামী ইহজাগতিকতা, আর আছে বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সমাজের অবসান ঘটানোর আহ্বান। সেখানে বলা হয়েছে প্রত্যেক মানুষের অগ্রগতি চাই এবং প্রত্যেকের অগ্রগতির ভেতর নিহিত রয়েছে সবার অগ্রগতি। সাম্য ছাড়া যে গণতন্ত্র সম্ভব নয়, এটিই হচ্ছে সমাজতন্ত্রীদের মূলকথা; সাম্যের কথা শুনলে বুর্জোয়ারা ভূত দেখার আতঙ্কে ভোগে।


আন্তর্জাতিকতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। ইশতেহারে বলা হয়েছে যে মেহনতিদের কোনো দেশ নেই। এ ঘোষণার ভেতর কী আছে? আনন্দ, নাকি বেদনা? বলা সম্ভব যে আনন্দ নেই, বেদনাও নেই। যা আছে তা হলো বাস্তবতার স্বীকৃতি। সেটা ঠিক। কিন্তু বেদনাও যে আছে তা অস্বীকার করা যাবে না। আশ্রয়হীনের বেদনা। মানুষ আশ্রয় চায়, ভয় পায় উৎপাটিত হতে, কখনোই পছন্দ করে না ভাসমান থাকাকে। পুঁজিবাদ মানুষকে ভূমি থেকে উৎপাটিত করে। তাহলে আশ্রয়টা সে পাবে কোথায়? ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে? সেটা যদি না থাকে এবং ৯০ শতাংশেরই তা নেই, তখন যাবে সে কোথায়; যাবে কি ধর্মের কাছে, যেমন অনেকে যাচ্ছে, নাকি বর্ণবাদের কাছে, ফ্যাসিবাদীরা যেখানে যেতে চায়, আওয়াজ দিতে দিতে? বলা বাহুল্য, তাদের কোনোটিই যথার্থ আশ্রয় নয়। আশ্রয় রয়েছে সমাজের কাছে; কিন্তু তার জন্য সমাজকে তো হওয়া চাই সমাজতান্ত্রিক। এমনকি পৃথিবীজুড়ে যদি সমাজতন্ত্র কায়েম হয়ে যায়, তাহলেও কি মানুষের কোনো স্বতন্ত্র পরিচয় থাকবে না? একটি পরিচয় যে থাকবে সেটা তো নিশ্চিত। এ পরিচয় হচ্ছে মেধা, দক্ষতা, ব্যক্তিগত গুণাগুণ। তার বাইরে? ইশতেহারে কিন্তু বলা হয়েছে এমনকি জাতিও থাকবে, তবে বুর্জোয়া অর্থে জাতি নয়, তেমন জাতি যার অভ্যন্তরে শ্রেণিবৈষম্য নেই। অর্থাৎ বৈচিত্র্য থাকবে, বৈষম্য থাকবে না; ঐক্যটি হবে বৈচিত্র্যের মধ্যে এবং বৈষম্যের বাইরে। প্রকৃত আন্তর্জাতিকতা হচ্ছে বৈষম্যহীন ঐক্য, স্বাতন্ত্র্যকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে নয়, তাকে রক্ষা করে। পুঁজিবাদী ঐক্য থেকে এ ঐক্য একেবারেই ভিন্ন। পুঁজিবাদ আসলে ঐক্য আনে না, বিভেদ তৈরি করে। অনেক জাতির একযোগেই সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল। জাতিসত্তাকে বিলুপ্ত করা হয়নি এবং প্রত্যেককেই অধিকার দেওয়া হয়েছিল বিচ্ছিন্ন হওয়ার।


ভাষা যে সংস্কৃতির প্রধান উপাদান, এটিও স্বীকৃত। ভাষা প্রশ্নে যে মীমাংসার কথা স্তালিন জানিয়েছেন সেটা এই যে ভাষা ওপরকাঠামোর অংশ নয়, যে জন্য মূল অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাষা যে বদলে যায় তা নয়। তার ব্যাকরণ ঠিকই থাকে, অভিধান বাতিল হয় না। বোঝা যাচ্ছে সংস্কৃতি ব্যক্তিকে আশ্রয় দেবে এবং ভাষা থাকবে তার সঙ্গে। মেহনতিরা বিশ্ব জয় করবে অন্যের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয়, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ব্যবস্থার উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মৈত্রী ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।


লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আহ্বায়ক, অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটি

মতামত এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com