লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ২৭ বার
আগামী জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের পেছনে ব্যয় হবে ৭,১২৬ কোটি টাকা
বাংলারিপোর্টার.কম
শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭

আগামী ১০ মাসেই ৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা প্রয়োজন পড়বে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায়। এত বিপুল অঙ্কের টাকা জোগান নিয়ে যেমন দুশ্চিন্তা রয়েছে, তেমনি দুশ্চিন্তা রয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টি নিয়েও।


আজ শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও কূটনীতিকরা এমন মতামত তুলে ধরেন।


অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধান করতে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার শাখাওয়াত তাঁর গবেষণায় খুঁজে পেয়েছেন, বাংলাদেশের মানবিক হওয়ার বিষয়টিকে মিয়ানমার এখন সুযোগ হিসেবে নিয়েছে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ থেকে তাড়াতে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা, আপনারা যে নামেই ডাকুন না কেন, তারা এখন আকর্ষণীয় অংশে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গাদের বলছে তোমরা বাংলাদেশে যাও, সেখানে সারা বিশ্ব রোহিঙ্গাদের টাকা, খাদ্য ও আশ্রয় দিচ্ছে। এই ইস্যুতে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। অর্থাৎ এটা এখন পুশ ফ্যাক্টর নয়, পুল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে, যা দৃশ্যমান।’


পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও নিয়ে যেতে রাজি হয়নি তৃতীয় কোনো দেশ।


সংলাপে উঠে এসেছে, যত সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে, তাতে আগামী ১০ মাসে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন পড়বে সাত হাজার ১২৬ কোটি টাকা, যা জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৮ শতাংশ। ধারণা করা যেতে পারে, এই টাকা বিদেশ থেকে আসবে। কিন্তু হিসাব বলছে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে বরাদ্দ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চাওয়া হয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশও পাওয়া যায়নি। এই যখন পরিস্থিতি, তখন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ড. রেহমান সোবহানের আশঙ্কা আদৌ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে কি না।


ড. রেহমান সোবহান বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের রেখে যাওয়া জমি, ফসল, সম্পত্তি সবকিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ সম্ভাব্য সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে যাতে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে না পারে। অর্থাৎ এটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসও বলে দেশ থেকে যারা বিতাড়িত হয়েছে, তারা আর দেশে ফিরে যেতে পারেনি। অথচ এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকে ভুক্তভোগীদের ব্যাপারে। কাজেই রোহিঙ্গাদের ব্যাপারেও এই বিষয়টি মাথায় রেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।


কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, মিয়ানমারের কারণে বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেও পড়ে গেল বলে মত দিলেন কূটনীতিকরা।


সাবেক কূটনীতিক ফারুক সোবহান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সম্ভাব্য হুমকি রয়েছে। এই হুমকি দেশের ভেতরে এবং বাইরে। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এখন রোহিঙ্গাদের রাখাইনে জিহাদ করার আহ্বান জানাচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ তাদের এখন এক নম্বর এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে, যেহেতু আইএস নিজেও সিরিয়া ও ইরাক থেকে বিতাড়িত হয়েছে।


পররাষ্ট্রসচিব জানালেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সব পথই খোলা রেখেছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করি। এ লক্ষ্যে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবেও চেষ্টা করছি।’ তবে  দ্বিপক্ষীয়ভাবে যদি সমাধান না হয়, তখন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ কাজ করবে, যা কৌশলগত কারণে বিস্তারিত বললেন না পররাষ্ট্রসচিব।

জাতীয় এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com