লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৭৬ বার
বরিশাল সিটি: গামছা পিন্দা যাইতে হয়
বরিশাল থেকে: আগে ছিলেন পৌরসভার আর এখন সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। ২০ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বেড়ে ৪৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু আজও তাদের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি বর্ষায় কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। বিদ্যুৎ ও পানি তো তাদের কাছে বিলাসিতার মতোই।

এই করুণ অবস্থা বিরাজ করছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বসিক) ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাগরদি ও তাজকাটি এলাকায়। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স ঠিকই লাফিয়ে বেড়েছে বলে জানান সাগরদিঘির বাসিন্দা মাহবুব হাওলাদার।barisal

১৩৭ বছর আগে গঠিত বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির গঠন কাল থেকেই এই গ্রামটি এর অন্তর্ভুক্ত। তখন ২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটি। ২০০২ সালে সিটি করপোরেশন করা হয়। এসময় আয়তন বাড়িয়ে করা হয় ৪৫ বর্গ কিলোমিটার।

মূল শহরের রাস্তাঘাট ছিমছাম। গ্রামের উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে ‘ফোঁস’ করে ওঠেন শাহ আলম মিয়া। “উন্নয়ন খুঁজতে আছেন। দক্ষিণ সাগরদি যান, হেই ধারে গামছা পিন্দা যাইতে পারবেন না। বৃষ্টি অইলে মাইয়া-পোলারা স্কুল যায় না, বুজজেন!”

তার বর্ণনা মতে উত্তর সাগরদি গ্রামের তুলারামের দিঘি নামক স্থানে গেলেই চমকে উঠতে হয়। রাস্তাটি  ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। খোয়া না বলে ইটের আদলা (অর্ধেক ইট) বললেই বেশি যুক্তি সঙ্গত হয়। তবে সেটাও বহুকাল আগে।

শাহ আলম মিয়া জানান, তাদের গ্রাম থেকে বরিশাল শহরে যাতায়াতের জন্য এই একটি মাত্র রাস্তা (কবি জসিম উদ্দিন সড়ক)। একে রাস্তা না বলে পায়ে হাঁটার পথ বললেই যুক্তিসঙ্গত।

আধা কিলোমিটার পথ হাঁটার পর সেই ইটের খোয়া বিছানো রাস্তাটিও মিলিয়ে যায় দেলোয়ার হোসেন বাড়ির সামনে গিয়ে, আগাছায় ভরা স্থানটি। আবাদি জমির আইলের মতো ঘাসমুক্ত ছাড়া সরু পথ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে ‍যায় ওই গ্রামের বাসিন্দা শাহিন।

কিছুদূর যাওয়ার পর শাহিন খানিক সংশয় নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “ভাই আর যাবেন?” কারণ তার সামনে রাস্তায় হাঁটু পানি। তবু এই পানি ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার চোখে পড়ে বাশের সাঁকো। শাহিন জানান, তাদের গ্রামে যেতে তাজকাটির খাল ও পুটিয়াখালির খালে এরকম চারটি সাঁকো পার হতে হয়। প্রতি বছর গ্রামবাসীকে চাঁদা তুলে সাঁকো মেরামত করতে হয়।

পথে দেখা মেলে গৃহবধূ ফাতেমা বলেন, “মোরা নিজেরা টাহা দিয়া রাস্তায় মাটি ভরছি, কল বয়াইছি, বিদ্যুতের লাই টাহা দিছি। মোগো খবর কেউ নেয় না।”

ফাতেমা জানান, এখন কিছুটা পানি কম। বর্ষাকালে যখন খালে পানি বেড়ে যায়। তখন তাদের পুরোটি রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। আর জীবনের ঝুঁকির কারণে সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকে সে সময়।

বাসেদ হাওলাদার বলেন, “গ্রামটিতে কোনো টিউবওয়েল নেই। পাশের গ্রাম টিয়াখালীর আবুল ড্রাইভারের বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।”

এদিকে, এক গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান রাস্তাটির কাজ খুব নিম্নমানের করা হচ্ছে। কাজটি করছে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন। তাই ব্যপক অনিয়ম করলেও প্রশাসন বা স্থানীয়রা কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। দেড় ইঞ্চি খোয়ার বদলে তিন নম্বর ইটের আদলা (অর্ধেক ইট) ফেলা হয়েছে। এতে রাস্তাটি হলেও টিকবে না বেশি দিন।
বরিশাল বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com