লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৪০ বার
রাবিতে শিবির ঠেকাতে ছাত্রলীগের প্রস্তুতি
রাবি: শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে মহাজোট সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছর ছাত্রশিবিরের কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকবার মিছিল করার চেষ্টা করলে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও পুলিশের বাধার মুখে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে রাবিতে ক্রমেই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে শিবিরের কার্যক্রম।

কিন্তু সরকারের শেষ সময়ে আবারো ক্যাম্পাস দখলে নিতে নতুনভাবে সংগঠিত হতে শুরু করেছে শিবির। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে ফের পাঁয়তারা চালাচ্ছে তারা।

আসন্ন ঈদের পরে শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুনভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে বলে ক্যাম্পাসের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, যেকোনো মূল্যে শিবিরের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের আধিপত্য ঠেকাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ছাত্রলীগ।

রাবি ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বের অধীনে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে তোলা হচ্ছে। গত কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়লেও নতুন কমিটি গঠন করে তাদেরকে আবারো চাঙ্গা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় সাড়ে তিন বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো তৎপরতা না থাকলেও সম্প্রতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পরই ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ব্যাপক তৎপরতা চালায় শিবির।

গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসন বুলবুল জয়ী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন গভীর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে শুরু হয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে তাদের তৎপরতা।

এদিকে, শিবিরের তৎপরতা ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। তবে পুলিশ, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও ছাত্রলীগের কঠোর অবস্থানের মুখে ক্যাম্পাসে বেশিদিন তৎপরতা চালাতে পারেনি তারা।

অন্যদিকে, কয়েক দিনের ব্যবধানে রাবি শাখা শিবিরের তিন নেতাকে ঢাকা থেকে পুলিশ আটক করে বলে দাবি করা হয় শিবিরের পক্ষ থেকে। তাদের গুম করা হয়েছে বলেও দাবি করে শিবির। কিন্তু রাজশাহীর সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, এমন কোনো খবর তাদের কাছে নেই।

শিবিরের দাবি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বস্থানীয় তিন নেতা গুম হওয়ার পর রাবি শাখা শিবির সাংগঠনিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে শিবিরের তৎপরতা আর চোখে পড়েনি।

কিন্তু সরকারের শেষ সময় এসে ঈদের পর ক্যাম্পাস দখলের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শিবির ফের সংগঠিত হচ্ছে বলে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে।
 
সূত্র আরো জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা মেহেরচুন্ডি, বিনোদপুর, কাজলা, ধরমপুর, মির্জাপুর, ভদ্রা, বুদপাড়াসহ অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন মেসে অবস্থান করে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। নিয়মিত  চলছে তাদের গোপন বৈঠক। সেসব বৈঠক থেকে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত। ক্যাম্পাসের আশেপাশে ও আবাসিক হলে নেতাকর্মীদের অবস্থানকে শক্ত করতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে ওই গোপন বৈঠক থেকে।

এছাড়া যেকোনো মূহুর্তে নেতাকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে প্রস্তুত থাকার জন্যও বলা হচ্ছে। এছাড়াও যারা পরিচিত মুখ নয় তাদেরকে সাধারণ ছাত্র হিসেবে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সিট করে নিতে বলা হচ্ছে বলে জানা যায় ওই সূত্র থেকে।
 
অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেওয়ার পূর্বে নেতাকর্মীরা অনেকটা নিস্ক্রিয় থাকলেও কমিটি দেওয়ার পর তারা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করছেন। ফলে শিবিরকে মোকাবেলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
 
নবনির্বাচিত রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ও  সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিন বলেন, ‘কোনো মৌলাবাদী সংগঠনকে ক্যাম্পাসে ঠাঁই দেওয়া হবেনা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করবে।’
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. তারিকুল হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে সংগঠনই হোক যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পরিকল্পনা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
উল্লেখ্য, গত ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শিবির-ছাত্রলীগের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক নিহত হন। এরপর চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে ক্যাম্পাস থেকে শিবিরকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর থেকে ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে কোনো সক্রিয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত শনিবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। ছুটি চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। ১৭ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথারীতি একাডেমিক ও প্রশাসনিকসহ সব কার্যক্রম শুরু হবে।



রাজশাহী বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com