লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৪৮৭ বার
সাতক্ষীরা ঝিনাইদহে বন্দুকযুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের নিহত ৩
সাতক্ষীরার দেবহাটা ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে গত শনিবার রাতে যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জামায়াত ও শিবিরের তিনজন নিহত হয়েছেন। সাতক্ষীরায় নিহতরা হলেন— দেবহাটা উপজেলা শিবিরের সেক্রেটারি আবুল কালাম (২২) ও শিবিরের সদস্য মারুফ হাসান ওরফে ছোট (২৫)। অন্যদিকে ঝিনাইদহে নিহত হয়েছেন মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের অর্থসম্পাদক স্কুল শিক্ষক এনামুল হক (৪৫)। এসময় বেশ কিছু অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। আহত হয়েছেন পুলিশের ৬ সদস্য। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

সাতক্ষীরা: নিহত আবুল কালাম দেবহাটার কুলিয়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র। মারুফ হাসান একই গ্রামের জামায়াত নেতা আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের দাবি, দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান হত্যা মামলার আসামি মারুফ হাসানকে গত শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে যৌথবাহিনী। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কুলিয়া এলাকা থেকে শনিবার সকালে আরেক আসামি আবুল কালামকেও গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তাদের কাছে অস্ত্র আছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে তাদেরকে নিয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নারিকেলি এলাকায় গেলে জামায়াত ও শিবির সদস্যরা তাদের ওপর গুলি বর্ষণ ও বোমা ছুঁড়তে থাকে। এ সময় যৌথ বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে আবুল কালাম ও মারুফ গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে প্রথমে দেবহাটার সখিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদেরকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এসময় আহত হয়েছে তিন পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পাইপ গান ও পাঁচটি বোমাসহ পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে ।

পুলিশের দাবি, দেবহাটা থানায় আবুল কালামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা, পুলিশের ওপর হামলা ও খুনসহ ১০টি এবং মারুফ হাসানের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। নিহতদের স্বজনরা জানান, তাদেরকে ধরে দেবহাটা থানায় রাখা হয়। পরে তাদেরকে দেবহাটা উপজেলার নারিকেলি এলাকায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ও মহেশপুর (ঝিনাইদহ): নিহত এনামুল হক উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি বলরামপুর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কোটচাঁদপুর থানার ওসি শাহাজাহান আলী জানান, শনিবার রাতে যৌথ বাহিনী গোপন সূত্রে খবর পায় একদল সন্ত্রাসী নওদাপাড়া গ্রামে গোপন বৈঠক করছে। যৌথ বাহিনী সেখানে অভিযানে যায়। রাত দেড়টার দিকে নওদাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে পৌঁছলে সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ ও হাত বোমা ছুঁড়তে থাকে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট বন্দুকযুদ্ধ চলে। অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও ৩টি বোমা উদ্ধার করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে। তাকে স্থানীয় জামায়াত নেতা এনামুল হক বলে শনাক্ত করে গ্রামবাসী। তাকে উদ্ধার করে রাত ৪টার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে আনলে কর্তর্যরত ডাক্তার আরিফ হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরো জানান, বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন, এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল জয়দেব কুমার আহত হন।

কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাবিয়া হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে সাদা পোশাক পরিহিত কয়েকজন এনামুল হককে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানায় যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে। নিহতের ছোট ভাই আমিরুল ইসলাম বলেন, 'আমার ভাই জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। শনিবার উপজেলা পরিষদ থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আমরা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। রাতেই আমরা খবর পাই আমার ভাইকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে।'
খুলনা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com