লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫২৫ বার
সুরমায় নৌকায় আগুন ১১ দগ্ধ লাশ উদ্ধার
সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে যাত্রীবাহী নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। আগুনে পুড়ে ও নদীতে লাফিয়ে পড়তে গিয়ে আহত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। নিহতদের ১০ জনই মারা গেছে আগুনে পুড়ে। এখন পর্যন্ত চার জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। লাশগুলো এমনভাবে পুড়েছে যে পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের অধিকাংশই শিশু ও নারী।

ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে নদী তীর ও আশপাশের লোকজন, পুলিশ এবং দমকল বাহিনী সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর উদ্ধার তত্পরতা চালায়। ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল সন্ধ্যার দিকে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। ডুবে যাওয়া নৌকার একটি অংশ উদ্ধার হয়েছে। নদীর দুই তীরে ভীড় করছেন নিহতদের ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা। তাদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠেছে দুই পাড়ের বাতাস।

সোমবার রাত ৮টার দিকে সুরমা নদীর উত্তর পাড় ছাতকের বেতুরা ও দক্ষিণ পাড় দোয়ারার প্রতাবপুরের মাঝামাঝি স্থানে যাত্রীবাহী ওই নৌকাটিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নৌকাটি ওই স্থানে পৌঁছলে রান্নার পাম্পের চুলায় বিস্ফোরণে নৌকার নিচে থাকা ডিজেলের ট্যাঙ্কে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা নৌকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নদীতে। ৫০-৬০ জন যাত্রী কোনরকমে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। যারা নৌকার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল তারা বের হতে পারেনি। যাত্রীদের চিত্কার শুনে আর আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের মানুষজন দৌড়ে আসে ঘটনাস্থলে। আগুন নেভাতে ও যাত্রীদের উদ্ধার করতে তারা দ্রুত কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের বালু-পাথর কোয়ারি থেকে দেড় শতাধিক শ্রমিক ও তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে নৌকাটি কিশোরগঞ্জের ইটনা যাচ্ছিল।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তিন জনের লাশ উদ্ধার করে। রাতে আরো ৩ জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল উদ্ধার করা হয় ৫ জনের লাশ। যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি উপজেলার পাঁচহাট এলাকার রোকেয়া বেগম (৪০), একই এলাকার আব্দুল হেলিমের পুত্র কোহিনূর মিয়া (১২), কালু মিয়ার দুই ছেলে রুমান মিয়া (১২) ও সাকিব (৭)।

নৌকার যাত্রী জাহেদ মিয়া বলেন, নৌকার ওপরে বসেছিলাম। হঠাত্ সামান্য শব্দ করে পুরো ইঞ্জিন নৌকাটিতে আগুন ধরে যায়। কোন কিছু বুঝার আগেই নৌকায় থাকা যাত্রীরা হুলস্থূল শুরু করলে নৌকাটি ডুবে যায়। তিনি জানান, নৌকার ছাদে বসা অধিকাংশ যাত্রী সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও ভেতরে থাকা নারী-শিশুরা আর বের হতে পারেনি। নৌকার ভেতরে থাকা খালিয়াজুরির আমেনা বেগম জানান, নৌকার ভেতরে যাত্রীদের খাওয়ার জন্য স্টোভ (কেরোসিন চালিত) চুলা দিয়ে রান্না করা হচ্ছিল। এসময় নৌকার ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিল। হঠাত্ স্টোভ বিস্ফোরণ হয়ে পুরো নৌকার মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বেরিয়ে আসতে পারলেও তার সাথে থাকা ছোট বোনটিকে খুঁজে পাননি। অনেক যাত্রী জানান, মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। লাশ পুড়ে অঙ্গার হয়ে হয়তো অনেক দূরে ভেসে গেছে।

ছাতক ফায়ার সার্ভিসের সাব ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে নৌকার ভেতরে আগুনে পুড়ে। এ জন্য মৃতদের লাশ উদ্ধার করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

গতকাল সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইয়ামিন চৌধুরী, পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রাজিব আহমদ, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনুর আক্তার পান্না, দোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি, দোয়ারা থানার অফিসার্স ইনচার্জ সেলিম নেওয়াজসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী জানান, নিহত ও আহতদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এই ঘটনার কারণও খুঁজে বের করা হচ্ছে।
সিলেট বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com