লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৪৯৭ বার
প্রবেশ মুখে বাঁধ দেয়ায় শুকিয়ে গেছে ভৈরব নদ
মেহেরপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদ এখন মরা খাল। এ সুযোগে এক শ্রেণির দখলদার ভৈরব নদের দু'পাড় দখল করে ধান চাষ করছে।

এতে দখলদাররা লাভবান হলেও ভৈরব পাড়ের মানুষেরা চায় ভৈরব খনন, যেখানে চাষ হবে রূপালী মাছ। উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরবে সবাই। এছাড়া ভৈরবের দু'পাড়ের লক্ষাধিক কৃষক মৌসুমী ফসল ফলাতে জমিতে পানি সেচ দিতে চায় ভৈরব থেকে। তাই সকলে দাবি তুলেছে ভৈরব খননের। একাধিক সংগঠন শুরু করেছে ভৈরব খননের আন্দোলন।

ভৈরব নদের উত্স ভারতের গঙ্গানদীর শাখা জলাঙ্গী নদী। মেহেরপুর জেলার শুভরাজপুর-কাথুলী সীমান্ত দিয়ে ভৈরব নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এ নদ। এই নদের প্রবেশ মুখে ভারতীয়রা জলাঙ্গী নদীতে বাঁধ দেয়ায় তার পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দিনে দিনে ভৈরব নদ তার নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। এতে নষ্ট হয়েছে মেহেরপুরের পরিবেশ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রভাবশালী ও দু'পাড়ের মানুষ ইচ্ছে মতো দখল করে নিচ্ছে নদ। দখলের সীমা এতটায় ছাড়িয়ে গেছে যে নদের মাঝ দিয়ে পানি প্রবাহের নালাটুকুও বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। মেহেরপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভৈরব নদের দু'পাড়ের প্রায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমি প্রভাবশালীরা দখল নিয়ে মাটি ভরাট করে বোরো ধান চাষ করছে।

ভৈরবপাড়ের বন্দর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন জানান, একসময় ভৈরব নদই ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বড় বড় বজরা নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান চলতো এই নদ দিয়ে। জেলার গাংনী উপজেলার কাথুলী ও মেহেরপুর শহরের উপকণ্ঠে নৌবন্দর স্থাপিত হয়েছিল। সেই নৌবন্দর হারিয়ে গিয়ে সেখানেই বন্দর নামে এ গ্রাম গড়ে উঠেছে। ভৈরব নদ পুনঃখনন করা না হলে আগামী প্রজন্ম বিশ্বাসই করতে চাইবে না যে মেহেরপুরে ভৈরব বলে কোন নদ ছিল।

ভৈরব নদ পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করতে সব সরকারই উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু অদ্যবধি-এর বাস্তবায়ন২ হয়নি। মাপ হয়েছে অনেকবার। পরিকল্পনা করা হয়েছে পুনঃখননের। কিন্তু এ পর্যন্তই। আশ্বাসের বাণী শুনেই এলাকার মানুষকে তৃপ্ত থাকতে হয়েছে। এ জেলার মানুষ আবারও দাবি তুলেছেন ভৈবর খননের। মেহেরপুরের মৃত্তিকা সংগঠন ভৈরব বাঁচাও!! আন্দোলন করছে। ভৈরব প্রতীকী খনন করেছে মেহেরপুরের যুগান্তর স্বজন সমাবেশ। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভৈরব পুনঃখননের ডিজাইন অনুমোদিত হয়েছে। টাকার একটি ডিপিপি অনুমোদনের জন্য বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ফরহাদ হোসেন দোদুল বলেন, ভৈরব নদ খননের মাধ্যমে কৃষি সেচ ও মত্স্য চাষের উপযোগী করা হবে।
খুলনা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com