লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৩৪ বার
ফকিরহাটে আহত উপজেলা চেয়ারম্যানের মৃত্যু
নির্বাচনী সহিংসতায় আহত বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সরদার নিয়ামত হোসেন (৫৬) মারা গেছেন। ২২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জালড়ে গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে তিনি ফকিরহাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রাথী ছিলেন। ঐ দিনই তিনি নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হন। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর খুলনা। অবস্থান অবনতি ঘটলে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় আনা হয়েছিল। নিয়ামতের মৃত্যুর জন্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেই দায়ী করছেন স্বজনরা। তারা বলছেন, কারো স্বার্থরক্ষায় ঐ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ বিজিবি সদস্যরা নিয়ামতকে বেধরকভাবে পিটিয়ে আহত করেছিল।

এদিকে নিয়ামত সরদারের মৃত্যু সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল ১১টা থেকে ফকিরহাট-ঢাকা-মাওয়া সড়কের চৌরাস্তা মোড়ে গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে। এক ঘন্টা পর প্রশাসন উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। নিয়ামত সরদারকে হত্যার প্রতিবাদে ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগ গতকাল বিকালে উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং আজ বুধবার উপজেলায় কালো পতাকা উত্তোলন ও আধাবেলা হরতাল ডেকেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাস এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ামত হোসেনের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ফকিরহাটে। মর্গ সূত্র জানায়, নিয়ামতের মরদেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল (বামহাত, কব্জি, ঘাড়, কোমড়)।

সরদার নিয়ামত হোসেনের বড় মেয়ে রুমানা আক্তার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করে বলেন, আমার বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তার সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত কোন বিরোধ ছিল না। কিন্তু ঐ ম্যাজিস্ট্রেট কারো স্বার্থরক্ষার জন্য বিজিবিকে দিয়ে আমার বাবাকে আটক করে প্রহার করেন। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট নিজেও আমার বাবাকে পিটিয়েছেন। মামলা করবেন কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে হামলার ঘটনায় আগেই মামলা করা হয়েছিল। ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ফকিরহাট সংবাদদাতা ফটিক ব্যানাজী জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে উপজেলার সাতসিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দে র বাইরে তুচ্ছ ঘটনাকে (মোটর সাইকেল রাখা নিয়ে) কেন্দ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ আরিফুল ইসলামের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে বেদম প্রহার করে। তারা লোহার পাইপ ও রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে সারা শরীরে মারাত্মক জখম করে। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা তাকে চিকিত্সা না দিয়ে ফকিরহাট চৌরাস্তায় দেড় ঘন্টা বিজিবির পিক আপে ফেলে রাখে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাকে কয়েক দফা প্রহার করে। ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম নিজেও বিজিবির পিকআপে উঠে তাকে প্রহার করেন বলে নিয়ামতসহ স্থানীয় অনেক প্রত্যক্ষদর্শী পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা সরদার নিয়ামত হোসেনে মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানিয়েছেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ডা: মোজাম্মেল হোসেন এমপি, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য শিব প্রসাদ ঘোষ প্রমুখ।
খুলনা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com