লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৪৬৪ বার
যশোরের ২ উপজেলায় উৎসব উৎকণ্ঠায় প্রার্থী ও ভোটাররা
চতুর্থ দফায় যশোর জেলা সদর ও কেশবপুর উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। আর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে শহর ও গ্রামাঞ্চলে। এর মধ্যেই নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। শঙ্কা কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও। তবে, যশোর সদর উপজেলার ভোটকে কেন্দ্র করে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন হাইপ্রোফাইল নেতারা।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শাহীন চাকলাদারকে বিজয়ী করতে মাঠে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজুসহ সিনিয়র নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচারণা ও কর্মী সমাবেশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম। সকাল থেকে রাত অবধি সদলবলে বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন তারা।

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি খালেদুর রহমান টিটোও তার ছেলে মাশুক হাসান জয়ের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে ছিলেন সর্বদা। জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী রহুল আমিনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এড. মাহাবুব আলম বাচ্চু। তিনি নিজেই প্রার্থীকে নিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। আজ তাদের ভাগ্য পরীক্ষা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মধ্যরাতেই ফলাফল পাওয়া যাবে। হাই প্রোফাইল নেতারা ভোটের মাঠে থাকলেও নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা ও আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন খোদ প্রার্থীরাই। মোট কথা, সীমান্তবর্তী এবং চরমপন্থী প্রভাবিত যশোর সদরের সর্বত্র আজকের নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কায় ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনের দিন বা তার আগে-পরে কোন মায়ের বুক খালি হয়- এই ভীতির অক্টোপাস এখন ভোটার এবং তাদের স্বজন সবাইকে চোখ রাঙানি দিচ্ছে। প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। আজ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ফলাফলের প্রতীক্ষা।

একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে যশোর সদর উপজেলা। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪০ হাজার ১৩৯ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৫ জন।

যশোর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাররা ১৬৫টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ লক্ষ্যে ১৬৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৫২১ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৩ হাজার ৪২ জন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। আর ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে যারা লড়ছেন তারা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন

চাকলাদার, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি খালেদুর রহমান টিটোর ছেলে মাসুক হাসান জয় এবং জাতীয় পার্টি সমর্থিত রুহুল আমিন।

এই ৪ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া অন্য ৩ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ এনে একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে জেলা রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি গত সপ্তাহে ৪ বার সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ করেছেন জেলা সদরের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুক হাসান জয়। তিনি প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শাহীন চাকলাদারের লোকজন তার কর্মীদের হয়রানি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে ১৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১টি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেখানে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা করেন। এসব অভিযোগ তিনি আগেই জেলা রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে অবহিত করার কথা জানান। প্রায় একই অভিযোগ করে ১৭ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপি। তারাও নিজ দলের নেতাদের হুমকিধামকি এবং ভোট ডাকাতির জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের জড়ো করার অভিযোগ করেন।

কিন্তু এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে গত ১৮ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার অভিযোগ করে। শাহীন চাকলাদারের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু বলেন, ১৫ মার্চ ফতেপুরে তাদের প্রচার মাইক ভাঙচুর ও বোমা হামলা এবং ১৭ মার্চ লেবুতলার কোদালিয়ায় নির্বাচনী কার্যালয়ে বোমা হামলা করে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া হাশিমপুরের ডাকাতিয়ায় আইয়ুব চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকি দেয়া হচ্ছে।

শাহীন চাকলাদারের পক্ষে অপর দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী জয় এবং দুলুর সন্ত্রাস ও নির্বাচনবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে জেলা রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে অভিযোগও দেয়া হয়েছে।

এদিকে শাহীন, জয় ও দুলু প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মাসুক হাসান জয় বলেন, শাহীন চাকলাদারের পক্ষে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করতে মিথ্যাচার করছে। আর তার বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেয়া অভিযোগের শুনানি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে শাহীন চাকলাদার বলেন, জনবিচ্ছিন্ন দু-একজন নিশ্চিত পরাজয় জেনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। যারা হুমকিধামকি, সন্ত্রাস ও ভোটকেন্দ্র দখল হবে বলে মিডিয়ার সামনে বলছেন, আসলে তাদের জনভিত্তি নেই। জনবিচ্ছিন্ন এইসব প্রার্থী সে কারণে মিথ্যাচার করছেন। আওয়ামী লীগ দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আমাদের লক্ষ-কোটি ভোটার রয়েছে। এই দল থেকে যখন প্রার্থী দেয়, তখন তার বিশাল কর্মীবাহিনী মাঠে থাকে। সুতরাং জনগণ আমার পাশেই আছে।

একইভাবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন গোলাম রেজা দুলু। তবে ভোটাররা বলেছেন, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান যিনি সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। এলাকার রাস্তাঘাটসহ উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে অবদান রাখবেন। ভোটাররা আরো জানান, চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন। ফলে কেউ কাউকে ছাড় দেবেন না। এতে করে সহিংসতার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বিপুল, জামাতে ইসলামীর ইদ্রিস আলী, ইসলামী শাসনতন্ত্র সমর্থিত মফিজুল আলম খোকা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এডভোকেট সেতারা খাতুন ও বিএনপির শামসুন্নাহার পান্না প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারাও নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গেছেন।

অন্যদিকে যশোর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেঁষা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কেশবপুর উপজেলা। ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৫ জন। এখানে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিতে পারলেও ব্যর্থ হয়েছে ১৯ দলীয় জোট। তবে এ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী প্রার্থী ও ভোটার সবাই। এ উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত আমির হোসেন, বিএনপি সমর্থিত এডভোকেট বদরুজ্জামান মিন্টু ও জামাতে ইসলামী সমর্থিত মাওলানা আব্দুস সামাদ।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে যশোরের রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এএনএম মঈনুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসন সক্রিয়। নির্বাচনী আচরণবিধি যেন কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয় সে লক্ষ্যে ম্যাজিস্ট্রেটগণ দায়িত্বে আছেন। আর নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে ভোটের দিন র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাসদস্য থাকবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ভোটের মাঠে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে এজন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। যশোর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, প্রতি কেন্দ্রে একজন অফিসারের নেতৃত্বে ৩ জন পুলিশ, ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতি ৫ কেন্দ্রে একটি মোবাইল টিম এবং কোতোয়ালি থানায় ৭টি স্পেশাল মোবাইল টিম ভোটারদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
খুলনা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com