লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ১০০৩ বার
উজাড় টেংরাগিরি বন
মার্চ ২১, ২০১৪
প্রথম আলো
গাছের গোড়া পুড়িয়ে অভিনব কৌশলে বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি বনের গাছ হত্যা করা হচ্ছে। ছবিটি বনের নিশানবাড়িয়া এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা । প্রথম আলোপরিবেশ-প্রতিবেশের পরিবর্তন আর কাঠচোরদের কবলে পড়ে ধীরে ধীরে উজাড় হচ্ছে টেংরাগিরির সংরক্ষিত বন। বরগুনার তালতলী উপজেলায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) এই বনের এমন অবস্থায় আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বন দিবস।


তালতলীতে বঙ্গোপসাগরের তীরে টেংরাগিরি বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ১৩ হাজার ৬৪৪ একর। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই বন অতীতে সুন্দরবনের অংশ ছিল। স্থানীয়ভাবে এটি ফাতরার বন হিসেবে পরিচিত। ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই এ বনকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করা হয়। গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, তাল, কাঁকড়া, বনকাঁঠাল, রেইনট্রি, হেতাল, তাম্বুলকাটা, গরানসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে এখানে। এই বনাঞ্চল ও সংলগ্ন সোনাকাটা সৈকত ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে সোনাকাটা ইকোপার্ক।


সরেজমিন টেংরাগিরি বনের নলবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া, আশারচর ও নিদ্রা-সখিনা এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার এলাকার বনের গাছ সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে গেছে। আরও অসংখ্য গাছের বাকল ও ডালপালা ছেঁটে ফেলায় সেসব গাছ মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অনেক গাছের গোড়ার অংশ আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলা হয়েছে। নিদ্রা ও আশারচর এলাকায় কয়েক হাজার গাছ কেটে সাবাড় করার পর পড়ে আছে সেসব গাছের গোড়া।


ওই সব এলাকা ঘুরে আরও দেখা যায়, উপকূলজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মৃত ও অর্ধমৃত গাছের সারি। এসব গাছ মরার অন্যতম কারণ গোড়ায় বালু জমে যাওয়া। বালুতে ঢাকা পড়েছে এসব গাছের শ্বাসমূল। সেখানে এখন জোয়ারভাটার পানিও পৌঁছায় না।


এ ছাড়া গাছ মরার আরও একটি বড় কারণ কাঠচোরদের দৌরাত্ম্য। স্থানীয় লোকজন জানান, নিদ্রা, সখিনা, আশারচর, নলবুনিয়া বনসংলগ্ন গ্রামগুলোতে অনেক চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে। এরা সংঘবদ্ধ হয়ে এসব গাছের ডালপালা ছেঁটে এবং বাকল তুলে ফেলে। পরে এসব গাছ আস্তে আস্তে মরে যায়। এরপর বনরক্ষীদের যোগসাজশে এসব গাছ মৃত দেখিয়ে কেটে এনে বিক্রি করে। কেওড়া ও গেওয়াগাছ চেরাই করে জ্বালানি কাঠ এবং সুন্দরীগাছ গৃহনির্মাণ ও আসবাব তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। মাঝেমধ্যে বন বিভাগের কর্মকর্তারা দু-একটি অভিযান চালালেও কাঠচোরদের তৎপরতা থামে না।


নিশানবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত নভেম্বর মাসে সংরক্ষিত বনের কয়েক হাজার গাছ কেটে আশারচর এলাকায় শুঁটকিপল্লি স্থাপন করেন এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ী। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই চার মাস এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কয়েক হাজার জেলে ও শ্রমিক ডেরা বানিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। শুঁটকিপল্লি নির্মাণ, জেলে-শ্রমিকদের থাকার জায়াগা তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার গাছ নিধন হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখিনা বিটের বিট কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন কাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুঁটকিপল্লির কারণে হয়তো কিছু গাছের ক্ষতি হতে পারে। তবে কাঠচোরেরা এটা করছে কি না, আমার জানা নেই।’ কাঠ চুরির সঙ্গে বন বিভাগের কমকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের কথা তিনি অস্বীকার করেন।


জানতে চাইলে বরগুনা-পটুয়াখালী জেলা নিয়ে গঠিত বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মিহির কুমার দো প্রথম আলোকে বলেন, ‘টেংরাগিরি বনের ওই অঞ্চলে কেওড়াগাছই বেশি। এই গাছের আর্থিক মূল্য খুব কম। তাই এটা কেউ কেটে নেয় বলে আমার মনে হয় না। তবে গোড়ায় বালু জমে অনেক গাছ মারে যাচ্ছে বলে শুনেছি। তার পরও গাছ মেরে কাঠ চুরির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

মফস্বল সংবাদ এর অন্যান্য খবর
 
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com