লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ১০৯৯ বার
চোরাচালানের জন্য ট্রেন 'ইজারা'

০৫ এপ্রিল, ২০১৪

সুবিধাভোগী পুলিশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি

 ‘ট্রেন চালাই আমরা, আর ইজারা দেয় পুলিশ’- বলছিলেন সান্তাহার স্টেশনের মাস্টার দেওয়ান নিজাম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার তিতুমীর এক্সপ্রেসে হামলার ঘটনাটি ইজারা পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের ক্যাডারদের হামলার কারণেই ঘটেছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। কালের কণ্ঠের সরেজমিন অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান সান্তাহার জংশন দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনে চোরাচালান পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রেন ‘ইজারা’ দেওয়া হচ্ছে। ইজারাদার হিসেবে চোরাচালানিদের কাছে থেকে অর্থ কালেকশন করে থাকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু প্রভাবশালী নেতা-কর্মী। তাদের সহায়তা করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও থানা পুলিশের কিছু সদস্য। জিআরপি থানার মাধ্যমে মাসিক চার লাখ টাকা হিসেবে বছরে ৪৮ লাখ টাকায় এ ‘ইজারা’ দেওয়া হয়।


এদিকে বগুড়ার সান্তাহার জংশনে হামলা চালানোর ঘটনায় রেলওয়ে থানায় (জিআরপি) ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হামলায় আহত রেলওয়ের দুই কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়েছে।


অভিযোগ উঠেছে, সান্তাহার জংশনে ট্রেন ইজারার পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় রেল পুলিশের ওসি শরিফুল ইসলাম ও আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজু। রাজু জাতীয় পার্টি ছেড়ে ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। অভিযোগ মতে, ওসি শরিফুল মাসিক চার লাখ টাকা হিসেবে বছরে ৪৮ লাখ টাকায় তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ট্রেন ইজারা দেন। এই ইজারার কারণে হিলি থেকে নাটোরের মালঞ্চি পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার রেলপথ থাকে ইজারাদারের নিয়ন্ত্রণে।


তবে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম চম্পা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কখনো সরাসরি চোরাচালান পণ্যের ইজারার সঙ্গে ছিল না। তবে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা রুহুল আমীন ঢালী ইজারার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি হচ্ছেন রাজুর লোক। আর এই ইজারায় ভাগ বসাতে নতুন করে মাঠে নেমেছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান সুমনসহ অন্যরা। তাঁর নেতৃত্বেই স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে বৃহস্পতিবার হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


তবে ফেরদৌস হাসান সুমন ও সিরাজুল ইসলাম খান রাজু নিজেদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারা কিভাবে চোরাচালানিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে সেটি তাঁরা জানেন না। আর জিআরপির ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, আগে পুলিশ ইজারার টাকা নিয়ন্ত্রণ করত। তখন কোনো ঝামেলা হয়নি। এখন ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা জোর করে ইজারা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে গেছেন। রেলের ইজারা প্রথা নতুন নয় জানিয়ে ওসি বলেন, ‘এটি আগেও চলেছে। এখনো চলছে।’


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর এক চোরাকারবারি জানায়, আগে জিআরপি থানা পুলিশ সরাসরি তাদের কাছ থেকে টাকা নিত। তখন জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো, দামি মাল থাকলে লাগত ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর এখন পার্টির লোকজন চাঁদা তোলে। ইচ্ছেমতো চাঁদার টাকা আদায় করার পরেও মালামাল কেড়ে নেয় তারা। আরেক চোরাকারবারি জানায়, ভারত থেকে পণ্য পার করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে তাদের ছয় জায়গায় টাকা দিতে হয়। ভারত থেকে পণ্য পার করার পরে প্রথমে তাদের বিজিবি সদস্যদের টাকা দিতে হয়। এরপর যে যেভাবে পারে ট্রেনে উঠে পড়ে। এবার শুরু হয় চাঁদার পালা।


সূত্র মতে, জিআরপি থানা পুলিশ সরাসরি চাঁদা নিয়ে থাকে। এ টাকার ভাগ ট্রেনের চালক থেকে শুরু করে টিটিরা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। এরপর পর্যায়ক্রমে চার দফা তাদের চাঁদা দিতে হয়। আরো জানা যায়, চোরাকারবারিদের জন্য তিতুমীর নিরাপদ। কারণ আন্তনগর হওয়ায় সব স্টেশনে এটি থামে না।


অনুসন্ধানে জানা যায়, চোরাকারবারিরা পোড়াদহ, চুয়াডাঙ্গা, ঈশ্বরদী, নাটোর, সান্তাহার, জয়পুরহাট, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী ও বিরামপুর এলাকা থেকে ট্রেনযোগে এসে আটাপাড়া, হিলি বিওপি এবং হিলিসিপির সুবিধামতো সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। চোরাচালানিরা ভারতীয় এসব পণ্য কিনে সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করে। পরে বিভিন্ন সংস্থার লাইনম্যানের সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং মালামাল ট্রেনে ওঠায়। এর বিনিময়ে রেলওয়ের লাইনম্যানরা চোরাই পণ্য অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে।


এদিকে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই শাজাহান আলী (৩২) নামের এক জাপা কর্মীকে আটক করা হয়। এরপর গতকাল সকালে সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ২৫ জনকে মামলার আসামি করা হয়। এ মামলায় গতকাল সকালে নূপুর (২৮) নামের আরেক জাতীয় পার্টির কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুজনকেই গতকাল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মফস্বল সংবাদ এর অন্যান্য খবর
 
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com