লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৮০ বার
খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় কপোতাক্ষ তীরের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কা
০৩/০৬/২০১৪
ভোরের কাগজ

কপোতাক্ষ নদ তীরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার উদ্যোগ নিলেও প্রকল্প কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গড়িমসি ও অনিয়ম-দুর্র্নীতির কারণে খনন প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবারো ভরা বর্ষা মৌসুমে উজানের পানির চাপে নদ অববাহিকার ভাটি অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। জানা গেছে, ২০১১ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কপোতাক্ষ খননের এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নেয়া প্রকল্পটি গত তিন বছরে আশানুরূপ কাজ করতে পারেনি। এ জন্য জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি জমে কপোতাক্ষ নদ ও এর সংযোগ নদীগুলো পুনরায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে।


ফলে নাব্য হারানো কপোতাক্ষে প্রতি বছর উজানের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, যশোরের চৌগাছা ও ভাটি অঞ্চলের দক্ষিণে ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালার অন্তত আড়াই শতাধিক গ্রাম কপোতাক্ষের উপচেপড়া পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মৎস্য সম্পদ, গবাদি পশু, ফসলহানি ও বসত ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক দেড় থেকে দুশ কোটি টাকার। পানিবন্দী হাজারো পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ-দুর্দশা। মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় এসব পানিবন্দী অসহায় পরিবারগুলোর। নদ-নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই জোয়ারাধার (টিআরএম) ভুক্ত এলাকায় পানি ওঠানোর স্থানে পলি জমে নদের তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। এতে জোয়ারাধার (টিআরএম) প্রকল্প বাস্তবায়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে এ অঞ্চলের প্রায় ৩ শতাধিক গ্রামের স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দপ্তর থেকে জানা যায়, জোয়ারাধার চলাকালে ওই বিলে কোনো ফসল হবে না। এ কারণে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাউবো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে প্রথম বর্ষের জোয়ারাধার (টিআরএম) প্রকল্প এখনো চালু হয়নি প্রকল্প এলাকায়। পাউবো কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘের মালিকসহ একটি গোষ্ঠীর বাধার কারণে এখনো শুরু করা যায়নি। তবে এ সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করা হবে। এদিকে ২০১১ সালের জুলাই মাসে প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খননে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ১৫টি গ্রুপে ১২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৯ হাজার ৪৫০ মিটার এবং দুজন ইউপি চেয়ারম্যানকে ৮৫৫ মিটার ও চার জন ইউপি সদস্যকে ৯৪৫ মিটার খনন কাজের কার্যাদেশ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। জানা যায়, ৪ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ‘কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন সমন্বয় কমিটির’ নেতৃবৃন্দ দীর্ঘকাল ধরে দাবি করে আসছেন কপোতাক্ষের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম পদ্ধতিতে নদখনন পূর্বক জোয়ারাধার অব্যাহত রাখতে নদের উজানের উৎসমুখ ভৈরব-মাথাভাঙ্গা সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে হবে। তবেই নদ অববাহিকার এই জনপদের লাখ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।


কপোতাক্ষ তীরের বাসিন্দা তালার বালিয়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন জানান, টিআরএম চালু করতে যে কাজ করা হচ্ছে, তা নদীর পলিতে আবারো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে এলাকায়। যে কোনো মূল্যে টিআরএম প্রকল্প চালু করার দাবি জানান এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে টিআরএম প্রকল্প চালু না করে খনন কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এজন্য চলতি বছর মৌসুমেও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। কপোতাক্ষ নদ খননে ধীরগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ চলতি বছরেও বন্যায় ভাসবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড টিআরএম চালু না করে লুটপাটের জন্য খনন কাজ শুরু করেছে বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, টিআরএম চালু করার চেষ্টা চলছে। তবে কবে চালু করা হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই কাজ চলছে।

খুলনা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com