লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৪৬১ বার
চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ শুরু
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন
গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসন নগরীতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো সরিয়ে নিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। তাদেরকে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখার জন্য প্রশাসন নির্ধারণ করেছে। এসব আশ্রয় কেন্দে গৃহহীনদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে ভারী বর্ষণে গতকালও জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত। হয়নি স্কুলে পরীক্ষা।

জেলা প্রশাসন জানায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন। চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অভিযান চালানো হয়। নগরীর লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল, আকবর শাহ বাজার, রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, শাপলা আবাসিক এলাকা, বিশ্ব কলোনী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এসব এলাকা থেকে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়। ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল ছাড়তে নারাজ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসবাসকারীরা। তারপরও যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের লালখান বাজার শহীদ নগর স্কুলে রাখা হয়েছে। তাদের রাখার জন্য সেখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাবু টাঙানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল কাদের ইত্তেফাককে বলেন, আগে আমরা তাদের সরে যেতে মাইকিং করেছি। বসবাসকারীদের সরিয়ে নিয়ে রাখার জন্য চারটি স্কুল নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে তারা বাসা ভাড়া নিয়ে চলে যাবে। কিন্তু পাহাড়ের পাদদেশে পুনরায় বসতি করতে দেয়া হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো সরিয়ে নিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে অংশ নেয়া ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ফেলে যেতে চায় না। সরিয়ে দেয়ার পর পুনরায় ফিরে আসে দখলসত্ত্ব বজায় রাখতে। এছাড়া বায়েজিদ থানা পুলিশ তাদের এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো সরিয়ে যেতে প্রচারণা চালিয়েছে।

এদিকে গতকাল ভোরে পূর্ব নাসিরাবাদ রহমতনগর আবাসিক এলাকায় দেয়াল ধসে একজন নিহত ও তিন জন গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম আসলাম (৪২)। আহতরা হচ্ছে, মো. মামুন (১৮), শেফাজুল (২০) ও মো. খোকন (২২)।

টানা বর্ষণে গতকাল নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। গৃহবন্দী হয়ে পড়ে কর্মহীনসহ সকল পেশার মানুষ। বিভিন্ন সড়ক হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার যানবাহন। চরম ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।

রাতভর ভারী বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেইট, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, হালিশহর, আগ্রাবাদ এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব এলাকায় সড়কের উপর হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। কিছু রিক্সা ছাড়া বেলা ১টা পর্যন্ত অন্য কোন যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এসব এলাকায় নিচ তলার বাসা বাড়িতে, দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে আসবাবপত্র ও দোকানের পণ্য সামগ্রী পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার ভোগ্যপণ্যের গুদামে পানি ঢুকে পড়ে। বেলা ২টার পর বৃষ্টি কমলে সড়ক ও বাসা বাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করে। কিন্তু নগরীর খাল ও নালাগুলো আবর্জনা জমে ভরাট থাকায় বৃষ্টির পানি আটকা পড়ে। যার কারণে দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। ভারী বর্ষণের কারণে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিকেলের দিকে পুনরায় পণ্য খালাস শুরু হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com