লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৫৭ বার
কারাগারে মা ও শিশুর বিকল্প আবাসনের দাবি
কারান্তরীণ গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন শেষে জেলগেটে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, মায়ের সঙ্গে শিশুদের কারাগারে আটকে রাখা মানবাধিকারের লংঘন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের সঙ্গে শিশুদের বেড়ে ওঠা কোনভাবেই কাম্য নয়। এজন্য রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে। শিগগিরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ ব্যাপারে সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেবে।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, পৃথিবীর আলো দেখার পর একটি শিশু মুক্ত বাতাসে তার শিশুকাল অতিবাহিত করবে, এটা তার মানবাধিকার। আমরা কোনোভাবেই তা হরণ করতে পারিনা। আর সরকারও কোনোভাবে কারবন্দিদের সঙ্গে শিশুদের রাখতে পারেনা। কারান্তরীন মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়া শিশুর জন্য কারাগারের পরিবেশ মোটেই 'শিশুবান্ধব' নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের 'কিশোর ওয়ার্ডে' থাকা একটি শিশুর কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৪ বছরের শিশুটির বয়স পুলিশের খাতায় ১৮ বছর দেখানো হয়েছে। অথচ কারাগারের চিকিত্সককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন, শিশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি হবে না। অথচ তাকে ১৮ বছর দেখিয়ে কারাগারের ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। অথচ একটি প্রক্রিয়ায় তাদের অন্যত্র রাখা সম্ভব। আলাদা কাগজপত্র-কালি খরচের ঝামেলা এড়াতে সংশ্লিষ্টরা এই কাজটি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি শিশু কয়েদিদের বয়স নির্ধারণে বিচারিক হাকিমদের আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনারা বয়স নিশ্চিত না হয়ে কোনো শিশুকে কারাগারে পাঠাবেন না। শিশুদের বিচারিক কার্যক্রমের সময় আলাদা কাগজপত্র ব্যবহার করতে হয়, আলাদা কালিতে লিখতে হয়। এগুলো বাড়তি দায়িত্ব হলেও তা পালন করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী সকলের অধিকার সমান। রাজশাহী কারাগারে অনেক কয়েদি রয়েছেন; যাদের শুধু আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় আর নিয়ে আসা হয়। কারাগারের অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন, এই বিষয়ে বলা হলে কারাগার থেকে তাদের বলা হয় তোমাদের তো আদালতে নিয়ে যাচ্ছি, তোমার বিচার কাজ চলছে। কিন্তু বিচারক যদি তার কথা না-ই শোনেন তাহলে তাকে কোনোভাবে বিচার কার্যক্রম বলা যায় না। এটাও সুষ্পষ্ট মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

লিগ্যাল এইডের আইনজীবীদের সম্পর্কে ড. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বেড়ান লিগ্যাল এইডের অ্যাডভোকেট। কিন্তু বাস্তবে তারা কোনো কাজ করেন না। দরিদ্র, অসহায় কয়েদিদের আত্মীয়-স্বজনরা অভিযোগ করেছেন অ্যাডভোকেটরা তাদের কোনো কথাই শোনেন না। মামলা সম্পর্কে কোনো খোঁজ খবর নেন না। ফলে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘ সূত্রিতায় আটকে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, সমস্যাগুলো নিয়ে ঢাকায় গিয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মনত্রীকে দেয়া হবে। এসময় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরাতন ভবন সংস্কার ও ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আবেদন জানানোর কথাও জানান তিনি। এসময় জেলার ইসমাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com