নিকলীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৪

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের নিকলীতে চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সোয়াইজানি নদীতে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টার শেষ হয়।


নৌকাবাইচ দেখতে সোয়াইজানি নদীতীরের বেড়িবাঁধে লাখো মানুষের ঢল নামে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাওরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত নিকলী এক সময় নৌকাবাইচের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু নানা কারণে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল চিরায়ত বাংলার এ ঐতিহ্য।


কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আবারো শুরু হয়েছে ‘হাওরের উৎসব’ বলে পরিচিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। বছরের এ দিনটির জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকে হাওরবাসী। আর তাই এ উৎসবকে ঘিরে হাওরবাসীর মধ্যে ছিল আনন্দের জোয়ার।


নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এর আগেই দূর-দূরান্ত থেকে আসতে থাকে হাওরবাসীরা। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে চারপাশ থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার মানুষ।  এক সময় লাখো মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে সোয়াইজানি নদী ও এর আশপাশ।


দুপুরের আগেই লক্ষাধিক দর্শক অবস্থান নেন। বাইচের সময় কাঁসর-ঘণ্টা, ঢাক-ঢোলের আওয়াজ এবং মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে চারদিক। মাঝি-মাল্লাদের পরনে ছিল নানা রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। শুরু থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বাইচের দূরত্ব ছিল প্রায় তিন কিলোমিটার।


নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, এবারের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছে। বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে এবং নদীতে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পানির ওপর নৌকা দিয়ে তৈরি বিশেষ গ্যালারি দুপুরের আগেই ভরে যায় কানায় কানায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪টি নৌকা নিয়ে ছয় শতাধিক মাঝিমাল্লা অংশ নেন এ প্রতিযোগিতায়।


কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, জেলা প্রশাসক এস এম আলম, নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসহাক ভূঞাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে মহরকোনা গ্রামের ফজলু বেপারী ও তার দল। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়নসহ চারটি দল নেতার হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নিকলী-বাজিতপুর নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন।