৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় হাজারো মানুষ
বাংলারিপোর্টার.কম
শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শেষ হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শোভযাত্রার উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।


শোভাযাত্রায় দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক, সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিক ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, এনজিও কর্মী, স্কাউটসদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এতে অংশ নিয়েছেন।


শোভাযাত্রার প্রথম স্তরে রোলার স্কেটিং দল, দ্বিতীয় স্তরে হাতি ও ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, তৃতীয় স্তরে সিভিল ডিফেন্স ফায়ার সার্ভিস, চতুর্থ স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি চাকরিজীবী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারিরা আছেন। স্লোগানে স্লোগানে তারা পুরো শোভাযাত্রা মুখরিত করে তুলেছেন। এই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ বাজছে।


শোভাযাত্রাটি মিরপুর রোডের রাসেল স্কয়ার ক্রসিং হয়ে কলাবাগান দিয়ে সায়েন্স ল্যাব থেকে বামে মোড় নেবে। সেখান থেকে বাটা সিগন্যাল ও কাঁটাবন ক্রসিং পেরিয়ে শাহবাগ হয়ে ডানে মোড় নিয়ে ছবির হাট হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হবে।


এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতাস্তম্ভে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ঢল নামে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে। সকাল ১১টার আগেই ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘর এলাকা ছাড়িয়ে বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে জনতার ঢল। শোভাযাত্রায় রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে ব্যান্ডের তালে তালে হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।


সমাবেশে আসা বেসরকারি সংগঠন উদ্ভাবনীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নায়েব আলী ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘আমরা স্বেচ্ছায় সমাবেশে এসেছি। কেউ আমাদের চাপ দেয়নি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়ায় আয়োজিত এই সমাবেশের আনন্দঘন মুহূর্তে শরিক হতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’


হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক জামেয়া ইসলামিয়ার প্রবীণ আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেয়ায় আমরা অনেক আনন্দিত। এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমরা এখানে এসেছি।


সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাট গেট (চারুকলার বিপরীতে), টিএসসি গেট, বাংলা একাডেমির বিপরীতের গেট, কালীমন্দির গেট ও তিন নেতার মাজার গেট দিয়ে উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করা যাবে।


স্বীকৃতি উদযাপনকে সামনে রেখে সুসজ্জিত করা হয়েছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তার আশপাশের এলাকা। শিখা চিরন্তনের উভয় পাশেই আলোকসজ্জায় লেখা রয়েছে ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চ।’ মূল মঞ্চও প্রস্তুত করা হয়েছে। আছে পুলিশ, র‌্যাবসহ সকল নিরাপত্তা বাহিনীর কন্ট্রোল রুম।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে যুক্ত হওয়ায় দেশজুড়ে এই আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
ঢাকাটাইমস