১৯৯২ সালের চুক্তি অনুসরণ করে সমঝোতা চুক্তি
বাংলারিপোর্টার.কম
শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা চক্তি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, মিয়ানমারের ইচ্ছায় ১৯৯২ সালের চুক্তি অনুসরণ করে এবারের সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) করা হয়েছে। এখন নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ও গত ২৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের ফেরত নিবে মিয়ানমার।


তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের আগে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও এর কার্যপরিধি নির্ধারিত হবে।


গতকাল শনিবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত ফিজিক্যাল এরেঞ্জমেন্ট ফর রিপ্যাট্রিয়েশন সই হবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এই চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে। বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সাবেক আবাসস্থল বা পছন্দ অনুযায়ী কাছাকাছি কোনো স্থানে পুনর্বাসিত করা হবে। প্রথমে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী কোনো স্থানে স্বল্প সময়ের জন্য রাখা হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করবে। একটি যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হবে ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে। কোনো জটিলতা দেখা দিলে দুইদেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার ১৯৯২ সালের চুক্তি অনুসরণ করতে চায় বলেই সেভাবে করা হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। এর খুঁটিনাটি ত্রুটি বিচ্যুতি, এটা ওটা নেই, কেন নেই, কি হবে– এসব বলে কোনো লাভ নেই। গুরুত্বপূর্ণ হল মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চেয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। সময়সীমা দিয়ে লাভও নেই।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, সম্পাদিত চুক্তির আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চয় আছে। অনেক আন্তর্জাতিক আইনও লঙ্ঘন হচ্ছে। আইন কোনো রাষ্ট্র মানছে কীনা সেটাই বড় ব্যাপার।


তিনি আরো বলেন, রাখাইনে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ীভাবে আবাস নির্মাণে চীন ও ভারত সহায়তা দিতে রাজী হয়েছে। মিয়ানমারকে তা অবহিত করা হয়েছে।


অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ আলী জানান যে, স্বাক্ষরিত চুক্তিতে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, যে সরকার ক্ষমতায় সেই সরকারই স্বার্থ ঠিক করে। আমরা স্বার্থ ঠিক রেখেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো।