যৌতুকবিহীন গণবিয়ে
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের সুলতান দফাদারের মেয়ে কবিতা (৩০)। শরীরে পোড়া ক্ষতের কারণে পাত্রপক্ষ তার পরিবারের কাছে মোটা টাকা যৌতুক দাবি করতো। এ কারণে বিয়ে হচ্ছিল না কবিতার। অবশেষে গতকাল শুক্রবার স্বপ্নপূরণ হয়েছে তার।

গতকাল দুপুরে যশোরের ঝিকরগাছায় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন কবিতাসহ অসচ্ছল পরিবারের আরো ১৯ কনে। একটি দাতব্য সংস্থার সহায়তায় যৌতুকবিহীন বিয়ের এই আসরে তারা নিজেদের পছন্দসই পাত্রদের জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নেন।

কবিতাকে জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নেয়া অহিদুল ইসলাম জানান, 'কবিতার শরীরের ক্ষতের কথা জেনেই তাকে বিয়ে করছি। আমি মনে করি, দুর্ঘটনার জন্য কেউ সারাজীবন কষ্ট পেতে পারে না। আর আমি কাপুরুষ নই যে, যৌতুক নিয়ে বিয়ে করব।'

যশোর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের একটি ইয়াতিম কমপ্লেক্সে ব্যতিক্রমধর্মী এ গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ে উপলক্ষে কমপ্লেক্সের মূল ফটকসহ ভিতরে বিয়ের পরিবেশ তৈরি করতে সাজানো হয় সবকিছু। লাল বেনারশি শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে ও টোপর মাথায় দিয়ে বসেন বর-বধূরা।

বিয়ে অনুষ্ঠানের একজন সংগঠক মাওলানা নাসিরুল জানান, যৌতুক একটি ব্যাধি হিসাবে সমাজে বিস্তার লাভ করেছে। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণেও অনেকের বিয়ে সম্ভব হয় না। ফলে অনেক মেয়েকে সারাজীবন অবিবাহিত থাকতে হয়। বিষয়টি দৃষ্টিতে আসায় তারা এ গণবিয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এবার তৃতীয়বারের মতো এ বিয়ে আয়োজন করা হয়েছে।

নাসিরুল জানান, নবদম্পতিরা যাতে সুখে সংসার করতে পারে তার জন্য আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসাবে বিয়ের সময় প্রত্যেক দম্পতিকে দেয়া হয়েছে একটি ভ্যানগাড়ি ও একটি সেলাই মেশিন। এছাড়া বিয়ের শাড়ি, বোরকা, উড়না, বাড়িতে ব্যবহারের শাড়ি, পায়জামা, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, লুঙ্গি, তোয়ালে, গামছা, হাত রুমাল, চামড়ার জুতা, তোষক, বিছানার চাদর, লেপ, বালিশের কভার, পাতিল, ঢাকনাসহ জগ, মেলামাইন প্লেট ও গ্লাসসহ সাংসারিক সব জিনিসপত্র দেয়া হয়েছে। বিয়েতে নব দম্পতিদের সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকার সামগ্রী দেয়া হয় বলে তিনি জানান।