জুড়ীতে সংরক্ষিত বনভূমিতে ফিসারী- নিরাপত্তাহীনতায় স্কুলপথের শিক্ষার্থীরা


press jalalur প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ন /
জুড়ীতে সংরক্ষিত বনভূমিতে ফিসারী- নিরাপত্তাহীনতায় স্কুলপথের শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট বন বিভাগের ফরেস্ট রিজার্ভ জুড়ী রেঞ্জের হারারগজ (উত্তর বড়ডহর) এলাকায় সরকারি বনভূমি জোরপূর্বক দখল করে ফিসারী নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বড়ডহর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীরা একটি পাহাড়ি সড়ক ব্যবহার করে থাকে। একই সড়ক দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষও নিয়মিত চলাচল করেন। সড়কের পাশবর্তী সরকারি বনভূমিতে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করে একটি ফিসারী তৈরি করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে ভোগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই ফিসারীর কারণে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে। যেকোনো সময় তারা ফিসারীতে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

বর্ষা মৌসুমে ফিসারীর কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে পানি জমে গিয়ে বিদ্যালয়ের চারপাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ছে। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর বড়ডহর গ্রামের মৃত অঙ্কুব আলীর ছেলে আব্দুর রহমান প্রায় ১ একর বন বিভাগের জমি দখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং দাবি করেন, জমিটি তার বন্দোবস্তকৃত।

এ ব্যাপারে গত (১০ মে) এলাকাবাসী এবং উত্তর বড়ডহর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হাজী আব্দুল হামিদ, সহ-সভাপতি আব্দুল হাসিম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দীনসহ সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সরকারি বনভূমি উদ্ধারসহ জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।