মৌলভীবাজারে প্রশাসন ও বিআরটিএ দপ্তরের রহস্যময় উদারতায় ২-সহস্রাধিক সিএনজি অটোটেম্পুর (টমটম) ৪০ কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকি!


adminbappy2 প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ন /
মৌলভীবাজারে প্রশাসন ও বিআরটিএ দপ্তরের রহস্যময় উদারতায় ২-সহস্রাধিক সিএনজি অটোটেম্পুর (টমটম) ৪০ কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকি!

মোঃ হুমায়ূন রহমান বাপ্পী, (বাংলা রিপোর্টার ডটকম): মৌলভীবাজার জেলা ও সদরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ২-সহস্রাধিক সিএনজি চালিত অবৈধ অটো টেম্পু (টমটম) যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চলাচল করছে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে Òসিএনজি চালিত অটো টেম্পুর হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন আছে মাত্র ৫১ টি গাড়ির ও হালনাগাদ ফিটনেস আছে মাত্র ৫৩ টি গাড়ির।

কিন্তু অদ্যাবধি কোন অটো টেম্পুর রুট পারমিট নেই! অটো টেম্পু (টমটম) চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই! তবুও অটো টেম্পুগুলি ও চালকরা সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেÓ। এই ২-সহস্রাধিক ঝুকিপূর্ণ অবৈধ অটো টেম্পু (টমটমগুলি) জেলা শহরের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে অবৈধভাবে স্ট্যান্ড বসিয়ে ও চাঁদা আদায়ের সিন্ডিকেট সদস্যদেরকে প্রকাশ্যে চাঁদা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উভয় পাশের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে অতি ব্যস্ততম সড়ক পথকে গলি পথে পরিণত করায় জেলা শহরে সার্বক্ষণিক যানজটের সৃষ্টি ও জন ভোগান্তি তৈরি করলেও প্রশাসন নিরব!

বিভিন্ন সময় লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ অটো টেম্পু (টমটম) চালকদের কারনে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। তবুও কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে মৌলভীবাজারের প্রশাসন ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ দিবা নিদ্রায় মগ্ন! বিগত ২০১৩খ্রিস্টাব্দের ১২ই জুন মৌলভীবাজার বিআরটিএ কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে মোট ১৩৫৯টি সিএনজি চালিত অটো টেম্পু (টমটম) এর রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হলেও আইনগত কারনে রুট পারমিট দেয়া হয়নি। বাণিজ্যিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষে বিআরটিএ দপ্তরে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে হয়| কিন্তু মৌলভীবাজারের প্রশাসন ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের রহস্যময় সমর্থনে চলমান ১৩ বছরে জেলা শহর ও সদর উপজেলা দাপিয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করছে নিবন্ধনবিহীন ও রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং ফিটনেসবিহীন ২ সহস্রাধিক সিএনজি চালিত অটো টেম্পু (টমটম) গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন টমটম চালক!

ফিটনেস নবায়ন না করলে ট্রাফিক আইনে মামলা ও জরিমানার বিধান থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যময় নিরবতা বিশাল অংকের দুর্নীতি ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় Òদীর্ঘদিন ধরে অটো টেম্পুগুলি প্রায় ৪০ কোটি টাকার ট্যাক্স ফাকি দিলেও অদৃশ্য কারনে মৌলভীবাজারের প্রশাসন ও বিআরটিএ দপ্তর নির্বিকার! শুধুমাত্র দুর্নীতিবাজ – ঘুষখোর কর্মকর্তাদের নেপথ্যের সমর্থন বিদ্যমান বিধায় বাণিজ্যিক যানবাহনের রুট পারমিট না থাকা সত্ত্বেও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও যথাযথ শাস্তি মৌলভীবাজার জেলায় প্রয়োগ হচ্ছে নাÓ। তাই সরকার বড় অংকের ট্যাক্স বঞ্চিত হলেও মৌলভীবাজার জেলায় ঘুষখোর কর্মকর্তাদের আয় বেড়েছে দাবি ভোক্তভোগীদের!

মৌলভীবাজারে যাত্রী ও মালামাল পরিবহকারী ২ সহস্রাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ অটো টেম্পু (টমটম) গাড়িতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেস সনদ নেই। তবুও নিত্যদিন যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে প্রকাশ্যে চলাচল করলেও মৌলভীবাজারের বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে দিবা নিদ্রায় মগ্ন!

মৌলভীবাজারের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও এডমিন মোঃ কামরুল হাসান ইতিপূর্বে উনার দপ্তরে বাংলা রিপোর্টার ডটকম কে জানান“বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ চেক পোষ্ট করুক। বিআরটিএ অভিযান পরিচালনা করলে আমরা (ট্রাফিক পুলিশ) সর্বোচ্চ সহায়তা করতে প্রস্তুত। আমরা (ট্রাফিক পুলিশ) ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও দায়িত্ব পালন করছি। উপর মহলের কাছে প্রত্যাশা যে, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের সময় ট্রাফিক বিভাগকে অন্তর্ভূক্ত করা দরকার”। বিআরটিএ মৌলভীবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ইতিপূর্বে বাংলা রিপোর্টার ডটকম কে জানান Òচলমান ১৩ বছরে প্রতিটি সিএনজি চালিত অটোটেম্পু (টমটম) গাড়ি প্রায় ২ লক্ষ টাকা করে রাজস্ব ফাকি দিয়েছে”।

মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রুবেল মাহমুদ ইতিপূর্বে বাংলা রিপোর্টার ডটকম কে জানান “পৌর প্রশাসক হিসেবে এখানে আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। পৌরসভার কোন ম্যাজিষ্ট্রেট নেই। এখানে ডিসি স্যার যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই বাস্তবায়ন হবেÓ।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের বক্তব্য নেয়ার জন্য উনার মুঠোফোনে গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ও ১৮ জুলাই শনিবার অপরাহ্নে ফোন দিয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ইতিপূর্বে উনার (এসপি) হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন লিখে বার্তা পাঠিয়ে অদ্য ২৭ জুলাই রাত ২-ঘটিকা পর্যন্ত কোন ধরনের জবাব মেলেনি!

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের বক্তব্য নেয়ার জন্য উনার মুঠোফোনে গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ও ১৮ জুলাই শনিবার অপরাহ্নে ফোন দিয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ইতিপূর্বে উনার (ডিসি পাভেল) হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন লিখে বার্তা পাঠিয়ে অদ্য ২৭ জুলাই রাত ২-ঘটিকা পর্যন্ত কোন ধরনের জবাব মেলেনি!